|


সামি

Published:
2018-06-27 09:15:24 BdST

কেমন নগর পিতা পেল গাজীপুরবাসী?


নিউজ ডেস্ক 

গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় গাজীপুর সিটি নির্বাচন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে গাজীপুরের নতুন নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম। ফলে দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

কেমন মানুষ গাজীপুরের নতুন এই নগর পিতা? কতটাই বা দক্ষ রাজনীতিবিদ তিনি? আসুন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে চোখ বুলিয়ে নেই জাহাঙ্গীর আলমের জীবন বৃত্তান্তে।

গাজীপুরের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম বাবা-মার তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান এই সাধারণ সম্পাদক চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি, অনার্স, মার্স্টাসসহ এলএলবি পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য জাহাঙ্গীর ছাত্রজীবনে ছিলেন মাঠ কাঁপানো ছাত্রনেতা। এরপর তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৯ সালে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।  উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর।

এই পদ ছেড়ে দিয়ে ২০০৯ সালে গাজীপুর সিটির প্রথম নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলীয় সমর্থন চাইলেও দল তাঁকে সমর্থন দেয়নি। আদালতের আদেশ নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলেও পরে দলীয় সমঝোতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

সিটি নির্বাচনের বছরখানেক পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বটি দেন জাহাঙ্গীর আলমকে। মাত্র ৩৪ বছরেই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ন পদে অভিষিক্ত হন জাহাঙ্গীর।

সেই মেয়র নির্বাচনে না দাঁড়ালেও জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরে রাজনীতিবিদ হিসেবে সবসময়ই জনপ্রিয়। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার পর স্থানীয় ছাত্রলীগকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত করতে উদ্যোগী হন জাহাঙ্গীর। ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগেও প্রাণ সঞ্চার করেন জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া সমাজ সংস্কার ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

গাজীপুর মহানগরের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য জাহাঙ্গীর আলম সূচনা করেছেন ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ এর। এই ফাউন্ডেশন থেকে এ পর্যন্ত গাজীপুর এলাকার পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পডুয়া ২৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। কারো কারো পুরো শিক্ষাব্যয় বহন করেছেন জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি মোট তিনস্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা এই ফাউন্ডেশনে যোগ হয়েছে। নতুন করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেবে এই ফাউন্ডেশন। এসব শিক্ষার্থীর লেখাপড়া শেষ হলে জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন প্রত্যেককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে এমনটাও কথা আছে।

এছাড়াও নিজেকে ঘুষ-দুর্নীতির বাইরে রাখা, ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাস্তাঘাট মেরামত, মসজিদ মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদাণ ও মানুষের বিপদেআপদে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি এলাকায় খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। নিজেদের মেয়র হিসেবে জাহাঙ্গীরকেই কল্পনা করতে শুরু করে গাজীপুরবাসী।

রাজনীতিবিদ হিসেবেও জাহাঙ্গীর আলম দক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন থেকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দ্বিতীয় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী হতে পারেন জাহাঙ্গীর আলম, তখন থেকেই মেয়র নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দলের ভিতরে বাইরে ব্যাপক কর্মকাণ্ড, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় নিজেকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে দলের বাইরে ও সকল মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম।

জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরবাসীকে কথা দিয়েছেন তিনি তাদের পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী উপহার দেবেন। পরিচ্ছন্ন ইমেজের জাহাঙ্গীরের হাতে যখন দায়িত্ব, তখন গাজীপুরবাসী তাদের সবুজ স্বপ্নের নগরী পাবেন বলেই প্রত্যাশা করা যায়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা