|


সামি

Published:
2018-07-09 12:44:12 BdST

রামপুরায় ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফের নেতৃত্বে কোঁটা আন্দোলন বিরোধী মানববন্ধন ও র‍্যালী


এফটি বাংলা

কোঁটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেছেন বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীবৃন্দ। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন কুরুচিপূর্ণ, উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করলে রাজপথে থেকেই এর প্রতিবাদ ও ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেছেন তারা। 

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার রামপুরা এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ (দক্ষিন) এর অন্তর্ভুক্ত রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী কোঁটা আন্দোলন বিরোধী একটি মানববন্ধন ও র‍্যালীউত্তর সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় এই বক্তব্য প্রদান করেন। 

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন থানা উদ্বোধনের দিন রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির নেতাকর্মীগণ উক্ত কর্মসূচীটি পালন করেন।

রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় বলেন, "যখনই বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার, আধুনিক এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে যাচ্ছে ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বিএনপি-জামাত কোটাঁ সংস্কারের নামে ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ী-জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ছাত্র সাজিয়ে  সরকারের উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

জনাব ইউসুফ আরও বলেনঃ "বিএনপি জামায়াত কিছুদিন পরপর নিত্য নতুন বাহানা করে দেশ ধ্বংশের কাজে লিপ্ত।ইতিমধ্যে প্রমানিত হয়েছে যে গুটি কয়েক ছাত্র টাকার কাছে বিক্রি হয়ে আজ তারা বিএনপি জামায়াতের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এরা কোঁটা সংস্কারের নামে সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অথচ জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে স্পষ্ট ভাষায় কোঁটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে সরকারী প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন, তারপরো কেন ছাত্র নামধারী গুটি কয়েক জঙ্গি-সন্ত্রাসী এখনো এই কোঁটা নিয়ে থামছে না, ষড়যন্ত্র করছে। এতেই প্রমানিত হয় কোঁটা সংস্কার নয়, বরং বিএনপি জামায়াত নিজেদের স্বার্থ হাসিলে পর্দার আড়ালে থেকে আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিচ্ছেন এবং সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "বাংলার ইতিহাস, ছাত্রলীগের গৌরবের ইতিহাস। বাংলাদেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও ন্যায্য দাবী আদায়ে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ এর রুপকার একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এপর্যন্ত দেশের যত অর্জন তার অধিকাংশই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। তাই জাতির সার্বিক কল্যানের নিমিত্তে আওয়ামী লীগের উপর আস্থা রাখতে হবে।"

জনাব ইউসুফ বলেন, "আমাদের সকলের বুঝতে হবে কোঁটা কি? কাদের জন্য কোঁটা? একটি দেশের অনগ্রসর জাতি, ধর্ম, বর্ন, গোত্র বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারায় সামনে এগিয়ে নিতে, জীবনমানের উন্নতি ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানে বিশ্বের সব দেশেই কোঁটা প্রথা চালু করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে কোঁটা প্রথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে যে মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান চিরস্মরনীয় তাদেরকে কোঁটা আন্দোলনকারীরা অস্বীকার করছে। এছাড়াও মানবিক ভাবে বুঝতে হবে একজন এতিম ও প্রতিবন্ধিদের কোঁটা কিভাবে বাতিল করা যায়? যা সত্যিই আমাদের জন্য লজ্জাজনক।" 

এম এ সায়েম বলেন, "জাতির উন্নয়নকে যারা বাধাগ্রস্ত করছে, যারা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নস্ট করছে; আমরা রাজঁপথে থেকেই তাদের দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিব। আমরা এদেরকে প্রতিহত করবই ইনশাল্লাহ।"

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি ছাত্র ইউসুফ জামিল বলেন, "কোঁটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি দাওয়া পরিস্কারভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে তারা যখন মুক্তিযোদ্ধা কোঁটা সম্পূর্ণ বাতিল চেয়ে আদতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করেছে, তখনই জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে এই আন্দোলনের মুল রহস্য। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী জামাতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের অনুসারী। আন্দোলনের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা এখন জঙ্গি হয়ে গেছে। আন্দোলনের নামে এরা মুলত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেস্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে আপামর ছাত্রসমাজকেই রুখে দাড়াতে হবে।"

এছাড়াও প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোজাম্মেল হক রাহী, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা রকি, আলামিন, আদিবুল ইসলাম আদিব, নিহাদ, হৃদয় উকীল, সাইফুল ইসলাম মোল্লা, সজীব মাতুববর, রাকিব,ইলিয়াস মজুমদার, তারেকুজ্জামান জয়, শিশির রায়হান সহ অনেকেই। 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা