|


A H Khan

Published:
2018-08-04 20:28:56 BdST

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজবও ছড়াচ্ছে।আন্দোলন ঘিরে গুজব


শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার পুরনো কিছু ছবি ঘুরছে ইন্টারনেটে; আবার পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, এমন শিক্ষার্থীর নাম আসার পর ওই শিক্ষার্থীরাই আবার তা গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

এক ছাত্রের কলার ধরে আছেন এক পুলিশ সদস্য- এরকম একটি ছবি গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছে ফেইসবুকে, যা দেখে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য থেকেও প্রতিবাদ এসেছে, অথচ ওই ছবিটি ২০১৫ সালের আরেক ঘটনার।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হলে তাদের বিক্ষুব্ধ সহপাঠিরা সড়কে নেমে আসে। পরদিন সারা ঢাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিলে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

এই বিক্ষোভের মধ্যে কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশও চড়াও হয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, পুলিশ চূড়ান্ত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।

এর মধ্যে আফজাল হোসেন রহিম নামে একটি ফেইসবুক পাতা থেকে বলা হয়, খিলগাঁওয়ের এক কলেজছাত্রকে পুলিশ বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে।

এই খবরটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওই কলেজছাত্র তার ফেইসবুকে পাতায় এই ঘটনাটি মিথ্যা বলে জানান।

ওই ছাত্র লিখেছেন, “আপনারা উল্টাপাল্টা নিউজ কই থেকে পান আর এইসব আপলোড দিয়ে আমাকে আর আর ফ্যামিলিকে বিরক্ত করছেন কেন? এটা পুরো ফেইক ঘটনা; পুলিশ আমাকে ধরেনি।”

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ৪৭ শিক্ষার্থীকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও ফেইসবুকে অনেকের স্ট্যাটাসে এসেছে।

এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে তার নিন্দা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তারা বলেছে, গত ১ অগাস্ট কিছু সংখ্যক আবাসিক ছাত্র অনুমতি ছাড়া কলেজের বাইরে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। ওই ছাত্রদের অভিভাবকদের ডেকে আনা হয় এবং ‘শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে মোটিভেশনের’ উদ্দেশ্যে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে সাময়িকভাবে বাসায় নিয়ে যান।

“কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজ কাউকে টিসি প্রদান করেনি, মোটিভেশন শেষে সংশ্লিষ্ট ছাত্ররা ইতোমধ্যে বাসা থেকে হাউসে প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে “ বলা হয় বিবৃতিতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব চলার কথা তুলে ধরে বিভ্রান্ত না হতে সবাইকে সতর্ক করেছে পুলিশও।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিকৃত ও বানোয়াট সংবাদও দেখা গেছে নানা অনলাইন পোর্টালে। তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

গণ আন্দোলন নিয়ে গুজব ছড়ানো যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব গুজবের নমুনা মিলেছে তার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে। বিগত বেশ কয়েকদিন যাবৎ ভুয়া ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাদের এই গুজব এবার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ও গ্রুপ মেসেঞ্জারে একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যা মেসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে জানানো হচ্ছে, 'রবিবার স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং যৌন নির্যাতন চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।'

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে কোনো পোস্ট প্রদান করা না হলেও 'একজন সাংবাদিক এবং এক মন্ত্রীর খুব কাছের একজন'-এর বরাত দিয়ে মেসেঞ্জারে জানানো হচ্ছে, 'আগামী রবিবার মন্ত্রী এমপিরা ১০০০-১৫০০ বস্তির ছেলেকে রাস্তায় নামাবে। যাদের কাজ হবে মেয়েদের যৌন নির্যাতন করা, গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশ সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালাবে। ফলাফল ছাত্রদের ওপর সাধারণ মানুষ খেপবে।'
সেখানে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, 'অনুগ্রহপূর্বক নিউজটি ম্যাসেজের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। কোনো প্রকার পোস্ট দিবেন না।'
 
অপর এক মেসেঞ্জার পোস্টে রামদা ছুড়ির ছবি দিয়ে বলা হয়, '‌‌‌নিজের রিস্কে আসিস, কালকে ছাত্রলীগ কোপাইব।'
 
অন্যদিকে মিরপুরে এক সন্ধ্যার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, 'রাস্তার ছেলেদের টাকা ও স্কুল কলেজের জামা দেয়া হচ্ছে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না, তাই না?'
 
'এ ছাড়াও বস্তির ছেলেদের কাছ থেকে শুনলাম ...., আমার বাসার পাশের বস্তুতে শুনলাম... বাসার পাশের বস্তিতে দেখলাম .....' এমন আরো ১০টির বেশি গুজব মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, এ রকম কোনো হামলার পরিকল্পনা সরকারি সংগঠনগুলোর নেই বলেই আমরা জেনেছি। তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুর করতে চাচ্ছে। কিছুদিন আগে ফার্মগেটেও এভাবেই হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়। যার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট নয় বলে আমরা জেনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
 
এদিকে, পুলিশের মিডিয়া বিভাগকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তারা বলেন, মেসেজগুলো দেখলেই বোঝা যায় এটি গুজব। এখানে তথ্য সূত্র 'একজন সাংবাদিক ও মন্ত্রীর কাছের লোক' অথবা 'আমার এক বোন' বা 'আমার কাজিন' ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।
 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা সাত দিন ধরে সড়কে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। শনিবারও ঢাকাসহ সারাদেশে রাজপথ দখল করে বিক্ষোভ করে তারা। এদিকে, এই আন্দোলনকে ঘিরে নানা ধরনের গুজবও উঠছে। আর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। এরই মধ্যে অভিনেত্রী নওশাবার একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ঝিগাতলায় দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। 

কিন্তু এই রিপোর্ট (সন্ধ্যা ৬টা) লেখা পর্যন্ত এ খবরের কোনো সতত্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার নওশাবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। 

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে নওশাবা বলেন, 'আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই। একটু আগে ঝিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন প্লিজ। ওদেরকে প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদেরকে প্রোটেকশন দেন।' 

'সরকার প্রোটেকশন দিতে না পারলে আপনারা মা-বাবা, ভাই-বোন হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রোটেকশন দেন, এটা আমার রিক্যুয়েস্ট। এদেশের মানুষ-নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিক্যুয়েস্ট করছি যে, ঝিগাতলায় একটি স্কুলে একটি ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ওদের অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান প্লিজ। তারা ঝিগাতলায় আছে।'

 

 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা