রাজশাহী ও পাবনা প্রতিনিধি

Published:
2020-05-21 21:43:36 BdST

আম্পানে রাজশাহীর আম ও পাবনায় লিচুর সর্বনাশ


সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছ থেকে আম ঝরে গেছে। 

এদিকে, বয়ে যাওয়া ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পাবনার লিচু বাগান। ঝড়ের আঘাতে আধা পাকা লিচু ফেঁটে গেছে এবং শত শত গাছের লিচু ঝড়ে পরেছে। ভেঙে গেছে লিচু গাছের ডাল-পালা।

রাজশাহীর আম চাষীরা বলছেন, এবছর এমনিতে গাছে আম কম এসেছে। তার উপর বুধবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ে গাছের অর্ধেকের কাছাকাছি আম পড়ে গেছে। 

এমনিতেই এবার করোনা ভাইরাসের কারণে আমের পরিবহন ও বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা। তার উপর এই ঘূর্ণিঝড়ে গাছ থেকে আম পড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শিকার হবেন জেলার আম চাষীরা। 

রাজশাহী জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে জেলায় ঘূর্ণিঝড়ে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

রাজশাহীর কাটাখালীর মেহেরচণ্ডীর আম চাষী আলতাফ হোসেন জানান, তার বাগানে ৩০০টির মতো আমের গাছ রয়েছে। গাছগুলো সব ছোট ছোট। সব মিলিয়ে গাছ থেকে ঝড়ে ১০ মণের মতো আম ঝরে পড়ে গেছে এই চাষীর।

রাজশাহীর আড়ানীর আমচাষী আলতাফ হোসেন বাদশা বলেন, আমার সব ধরনের জাত মিলিয়ে ১২০০টি আম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এক মণ করে আম ঝরে গেছে। সে হিসেবে বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এ ঘূর্ণিঝড়ে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। 

আমরা এমনিতে করোনা ভাইরাসের কারণে আম পরিবহন ও বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। সেখানে এই ঘূর্ণিঝড় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, জেলার সদরের চেয়ে জেলার বাঘা ও চারঘাটে আমের বেশি ক্ষতি হয়েছে। সে হিসেবে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমের ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাষীদের সাথে কথা বলে যেটুকু জানতে পারছি গাছের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ১০০ কোটি থেকে ১২০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এছাড়া গ্রাম ও চরাঞ্চলের কাচা বাড়িঘর ভেঙে গেছে। গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার বৈদ্যুতিক সংযোগ পেতে আমাদের বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া জেলায় জানমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বুধবার থেকেই জেলায় আম্পানের প্রভাবে সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তার সঙ্গে ছিলো ঝরো বাতাস। রাতের ঝড়ের গতিবেগ বাড়তে থাকে। একইসাথে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বাড়ে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে মোট ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।  বুধবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার।

লিচুবাগানে শত কোটি টাকার ক্ষতি

এদিকে, পাবনার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে লিচুবাগানগুলোর শত কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জেলার লিচু চাষীদের। 

পাবনার বাঁশেরবাদা লিচু ব্যবসায়ী মো. শিপন আহমেদ জানান, পাবনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। গতরাতে আম্পানের তান্ডবে অধিকাংশ বাগানের লিচু গাছের ডাল ভেঙে লিচু ঝরে গেছে। এতে লিচু ব্যবসায়ীরা এবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এছাড়া ঝড়ে আমেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাকশী গ্রামের লিচু বাগান মালিক রাসেল হোসেন বলেন, লাভের আশায় ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নিয়ে ১০টি বাগান কিনেছিলাম। কিন্তু আম্পানের তান্ডবে এবার লিচুর বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকার লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমাদের এলাকাসহ আশেপাশের আওতাপাড়া, দাপুনিয়া, আটঘোড়িয়া, একদন্ত গ্রামের সব বাগান মিলিয়ে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।   

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, পাবনা জেলার মাঠে ধান আম-লিচু ও সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাবনায় চলতি মৌসুমে ৪৬০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে । ঘূর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ হেক্টর লিচু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এখনও ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা