April 15, 2024, 2:50 pm


বিশেষ প্রতিবেদক:

Published:
2024-03-31 13:08:40 BdST

বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন এর কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও প্রাসাদতম বাড়ী আলাদিনের চেরাগ !


আব্দুল মতিন। নির্বাহী প্রকৌশলী বিআইডব্লিউটিএ। ড্রেজিং শাখার এই নির্বাহী প্রকৌশলী খুলনা ডিভিশনের মংলা-ঘষিয়াখালী ও যশোর এর ভৈরব- নোয়াপাড়া এবং খুলনার আন্টিহারা নৌ পথ ড্রেজিং প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে। কাগজে কলমে ড্রেজিং দেখানো হলেও বাস্তবে কোন কাজ হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ তে ড্রেজিং সহ বিভিন্ন বিভাগে টাঙ্গাঁইলের কর্মকর্তাদের দাপট অত্যাধিক। তথ্যসূত্র বলছে ওয়ান ইলেভেনের উত্তরা ষড়যন্ত্রের মূল মাস্টার মাইন্ড ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার তার পথ প্রদর্শক। বিআইডব্লিউটিএ বর্তমানে বিএনপি-জামাত অধ্যুাষিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আশ্রয়স্থান । বর্তমান সরকারের পরপর ৪ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ কে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারার একমাত্র কারন বিএনপি ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে শত শত কোটি টাকা। শুধু তাই নয় বিআইডব্লিউটিএ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়ম দুর্নীতির টুটি স্বয়ং দুর্নীতি দমন কমিশনে ও ধরতে পারছে না।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্যা ফিন্যান্স টুডে কে নিশ্চিত করেছে বিআইডব্লিউটিএর একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বামী দুদকের একজন উপপরিচালক। মূলত বিআইডব্লিউটিএর সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির ফাইল দুদককে তার মধ্যস্থতায় দাবিয়ে রাখা হতো এমন অভিযোগ এখন বিআইডাব্লিউটির কর্মকর্তাদের মুখে মুখে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। কে সেই নির্বাহী প্রকৌশলী যার স্বামীকে দিয়ে সমস্ত ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রাখে? তথ্যসূত্র এমনও বলছে উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী স্বামীর দাপটে ঠিকমতো অফিসও করে না। সবাই তাকে সমীহ করে চলে। সূত্রমতে উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য় না হওয়ার পরেও তৎকালীন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (হিসাব) আ: আউয়াল এর পৃষ্ঠপোষকতায় চাকুরী পান। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে ও রয়েছেন তিনি।

তথ্যসূত্র ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস পর্যালোচনা করে আরো ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ট্রুথ কমিশনের আত্মস্বীকৃতি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাগণ ও দুদকের অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জন দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ও তাদের চাকুরীচ্যুত করা হয়নি। এমনকি তাদের পদোন্নতি ও দেওয়া হয়েছে।উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীগন বিআইডব্লিউটিএতে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তারা কোন আইনকেই তোয়াক্কা করছে না। বিশেষ করে ড্রেজিং শাখার প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের ছত্রছায়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীগন বেপরোয়া। একেকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদ আকাশছোঁয়া। প্রত্যেকের রয়েছে দামী গাড়ি, বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

আব্দুল মতিন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রাসাদতম বাড়ী তৈরি করেছে খিলগাঁওের এর মৌলভীরটেক নামক স্থানে। তার ৫ তলা বিশিষ্ট ২ ইউনিটের বাড়ীটির বর্তমান বাজার মূল্য ১০-১২ কোটি টাকা।একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী একজন আব্দুল মতিন এর সারা জীবনের সমস্ত বেতন দিয়ে ও তো একটি ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয় তাহলে কিভাবে তিনি ৫ তলা বিশিষ্ট প্রাসাদতম বাড়ী তৈরী করলেন। এছাড়াও নিজ জেলা টাঙ্গাইলে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

বিআইডব্লিউটিএ একজন ঠিকাদার আবু জাফর। তার জে এন্টারপ্রাইজ সহ আরো ২টি ঠিকাদারী লাইসেন্স রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীগন আবু জাফর এর ঠিকাদারী লাইসেন্স এর মাধ্যমে ঠিকাদারী কাজ করে থাকে এমন তথ্য রয়েছে গনমাধ্যমের হাতে। কাগজে কলমে জাফর ও তার একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স থাকলেও বাস্তবে ড্রেজিং শাখা ও প্রকৌশল শাখার ২০ জনের অধিক প্রকৌশলী তার সাথে ব্যবসা করছে এমন তথ্য রয়েছে আমাদের হাতে।

শুধু তাই নয় আরও ভয়াবহ তথ্য হলো জাফরের রামপুরা বনশ্রী তে রয়েছে শত শত কোটি টাকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। চাঁদপুরের ব্যবসায়ী জাফর গং ৪ জন মিলে ডিএলআই বাংলাদেশ লি: নামে আবাসন ব্যবসা শুরু করলেও উক্ত ব্যবসায় বিআইডব্লিউটি এর ড্রেজিং ও প্রকৌশল শাখার ২০ জনের অধিক কর্মকর্তা শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলেজন্স ইউনিট কর্তৃক ডিএলআই এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও তাদের অর্থের উৎস সম্পদ অনুসন্ধান করলে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিনিয়োগ এর চিত্র পাওয়া যাবে।

আব্দুল মতিন এর ডিএলআই বাংলাদেশ লিমিটেড এ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার দ্যা ফিন্যান্স টুডেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।

ট্রুথ কমিশন আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকী ,আব্দুল মতিন এর আপন খালাতো ভাই। আবু বক্কর সিদ্দিকীর দুর্নীতির মামলা আদালতে চলমান। তারপরে ও তিনি মহাউদ্যোমে চাকুরীতে বহাল রয়েছেন। আর এদের মূল গুরু শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক ড্রেজিং শাখার একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। মাস্টারমাইন্ড হলো রকিবুল ইসলাম তালুকদার।

দ্য ফিনান্স টুডে ও গোয়েন্দা ডায়েরির ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বিএনপি-জামাতের পৃষ্ঠপোষক নব্য হাইব্রিড সরকার দলীয় কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরা হবে।

 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা