May 25, 2024, 2:12 pm


বিশেষ প্রতিবেদক:

Published:
2024-05-14 13:46:33 BdST

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরআসছে ভয়াবহ সংকট বহাল তবিয়তে রয়েছে সিন্ডিকেটের নেপথ্য কুশীলবগন


  • সচিবের পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অধিদপ্তর।

  • সংকট মোকাবেলায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবী।

  • সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন জরুরী।

  • দীর্ঘদিন একই চেয়ারে ও অধিদপ্তরে থাকার কারনে সংকট ঘনীভূত।

  • নিদিষ্ট ঠিকাদারের সিন্ডিকেটের কাজে জিন্মি অধিদপ্তর।


বিশেষ প্রতিবেকদ:
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ভয়াবহ সংকট আসন্ন। এ সংকট মোকাবেলায় সরকার ও উদ্বিগ্ন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে উপকরণ সংগ্রহ বিভাগের একজন ক্ষমতাধর উপ-পরিচালক তার নাম জাকিয়া আখ্তার। উক্ত উপ-পরিচালক দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরে ফিরে লজিষ্টিক ইউনিটেই কর্মরত আছেন। অথচ কেনাকাটা করার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও সৎ নির্ভীক কর্মকর্তা।

সারা দেশে কনডম, মুখে খাওয়ার বড়ি ও কিটের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা কেন হয়েছে এ রহস্য উদঘাটন করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবী। এ প্রসঙ্গেঁ লজিষ্টিক ইউনিটের পরিচালক মতিউর রহমান “দ্য ফিনান্স টুডে” কে বলেন সরকার যথা সাধ্য চেষ্টা করেছে এ সংকট মোকাবেলা করার জন্য। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন যে সমস্ত সামগ্রীর সংকট রয়েছে তার বিকল্প পন্থা ও আমাদের হাতে রয়েছে। প্রয়োজনে রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ নিয়ে এ সংকট মোকাবেলা করা হয়। তিনি করোনা কালীন সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন করোনা কালীন সময়ে ঠিকমতো কাজ করতে বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারনে মূলত: এ সংকট দেখা দিয়েছে।

করোনা কালীন সময় ২০-২১ ও ২১-২২ অর্থ বছরে ছিলো অথচ এরপর ২২-২৩-২৩-২৪ অর্থ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে এখন ও করোনাকালীন সময়ের কথা বলে অজুহাত দেখানো অর্থ হলো পুরো মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের সক্ষমতা ও দুরদর্শীতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা।যদিও মতিউর রহমান অতি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহন করেছেন এ ক্ষেত্রে এ সংকটের জন্য তার কর্মকালীন সময় বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।

সরকারের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসামগ্রীর মজুত কমে এসেছে। গত ১৮ এপ্রিল এই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ৪১৮টি উপজেলা স্টোরে কোনো কনডম নেই। আরও ৬৮টি উপজেলায় শিগগিরই মজুতশূন্য হবে। ৭৭টি উপজেলা স্টোরে ‘সুখী’ ব্র্যান্ডের তৃতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ি নেই। ১৬০টি উপজেলা স্টোরে এই উপকরণের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ১৫১টি উপজেলা স্টোরে বড়ির মজুত শিগগিরই শূন্য হবে। ‘সুখী’ ব্র্যান্ডের দ্বিতীয় প্রজন্মের খাবার বড়ি নেই ৩৫৩টি উপজেলা স্টোরে। ৪৮টি উপজেলা স্টোরে শিগগিরই এই বড়ি শেষ হয়ে যাবে। আরও ২৬টি উপজেলা স্টোরে মজুত সর্বনিম্ন অবস্থায় আছে। ‘আপন’ ব্র্যান্ডের বড়ি নেই ১৭০টি উপজেলা স্টোরে। ১২৫টি উপজেলা স্টোরে দ্রুতই এর মজুত শূন্য হয়ে যাবে। আরও ৯৬টি উপজেলা স্টোরে মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ইনজেকশনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দেশের ৪৭৬টি উপজেলা স্টোরে কোনো ইনজেকশন নেই। ১১টি উপজেলা স্টোরে এর মজুত শেষ পর্যায়ে।

দীর্ঘদিন যাবৎ লজিষ্টিক ইউনিটের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোন ভাবেই এর দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেনা। মন্ত্রনালয়ের সচিব এর দক্ষতা ও নির্দেশনায় দুর্নীতিতে নিমজ্জিত অধিদপ্তর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঢাকার বাহিরে বদলী করে দিয়ে অধিদপ্তর কে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে।

মন্ত্রনালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত রয়েছে একাধিক কর্মকর্তা। তথ্য মতে দীর্ঘদিন যাবৎ মন্ত্রনালয়ে কর্মরত থাকার কারনে অধিপ্তরের কিছু কর্মকর্তাদের সাথে তাদের একটি আলাদা সখ্যতা গড়ে উঠেছে। যার ফলে অধিদপ্তরের উক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের সুপার পাওয়ার হিসেবে মনে করে। এছাড়াও নিয়োগ, বদলী, পদায়ন ও কেনা-কাটায় মন্ত্রনায়ের আর্শিবাদ পেয়ে থাকে। একই চেয়ারে বা মন্ত্রনালয়ে কর্মরত থাকার কারনেই অধিদপ্তরের ভিতরে তাদের আলাদা একটি বলয় রয়েছে। ফলে মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর সিন্ডিকেট এর কারনে দিনে দিনে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এ সিন্ডিকেট ভাঁঙ্গতে হলে মন্ত্রনালায়ের ভেতর ও শুদ্ধি অভিযান চালানোর কোন বিকল্প নেই।

দেশব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা অধিপ্তরের সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটাই প্রত্যাশা একজন সৎ ও দক্ষ মহা-পরিচালক নিয়োগ দিবে সরকার। একাধিক কর্তকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে আলাপ কালে তাহারা “দ্য ফিন্যান্স টুডে” কে বলেন যেহেতু আমাদের কার্যক্রম দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি পর্যন্ত এবং দেশের মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এর আওতায় দেশের সাধারন জনগন। অতএব কোন একজন আমলা নির্ভর না করে অধিদপ্তরের সমস্ত কার্যক্রম সম্পর্কে যিনি সম্যক ধারনা রাখেন এমন একজনকে মহাপরিচালক হিসেবে পেলে অধিপ্তরের কার্যক্রমে গতিশীলতা পাবে।

সংকট এখানেই সীমাবদ্ধ নয় দীর্ঘদিন ২৫-৩২ বছর পর্যন্ত অধিপ্তরে কর্মরত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মচারী রয়েছে মূলত: এরাই সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ করে সমস্ত কেনা-কাটা,বদলী ও পদায়নে ভূমিকা রাখে। এদের অবৈধ সম্পদের পরিমান ব্যাপক। যদিও অতি সম্প্রতি “দ্য ফিন্যান্স টুডে” ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন কর্মচারী বদলী আদেশ হয়েছে তার পরেও এখনও দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে বহাল তবিয়তে। এরা বুক ফুলিয়ে বলে বেড়ায় আমাদের ছাড়া অধিপ্তর অচল । ঠিকাদারদের সাথে মূলত: এদের প্রাথমিক যোগাযোগ । দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিদিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারদের সাথে অলিখিত চুক্তি করে কাজ দিয়ে থাকে। এখানে শত শত কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। এ কেনাকাটাকে ঘিরেই মূলত: দুষ্ট চক্র আবর্তিত। বিগত ৫ বছরের বড় বড় টেন্ডার কোন কোন কোম্পানী পেয়েছে তার তালিকা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। কর্মকর্তাদের একটাই কথা যে সমস্ত ঠিকাদার সর্বনিম্ন দরদাতা হবে এবং রেসপনসিভ হবে তাদের কাজ দেওয়া হয়। তাহলে প্রশ্ন সর্বনিম্ন দরদাতা ও রেসপনসিভ হয়েও টেকনো ড্রাগস লি: কেন কার্যাদেশ পায়নি। কারন অনুসন্ধানে দেখা গেছে কার্যাদেশ প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মনোপুত: ঠিকাদার রেসপনসিভ না হওয়ায় কার্যাদেশ প্রদান না করে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াই বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতি ও অনিয়ম সামনে চলে এসেছে। যা মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তির স্বার্থ বড় হতে পারে না। সরকারের এখন কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অধিপ্তরকে আরও ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

কেন এই সিন্ডিকেট:
মন্ত্রনালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিপ্তরে দুটি কারনে সিন্ডিকেট হয় (১) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী ও পদোন্নাতি এবং ভালো সুবিধা জনক স্থানে পদায়ন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি (২) প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার কেনাকাটা ও টেন্ডারের কমিশন।

সরকারকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতাধর কর্মকর্তা যেই হোক না কেন তাকে সরিয়ে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে পদায়ন ।

অধিপ্তরের অডিট আপত্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সবচেয়ে বেশী অডিট আপত্তি রয়েছে সিসিএসডিপি বিভাগে। বিভাগের এ বিভাগের ভিতর ঘাপটি মেরে আছে দুর্নীতিবাজ ভয়াবহ সিন্ডিকেট। যাদের নাম তালিকায় আছে তাদের মধ্যে রয়েছে সাটমুদ্রাক্ষরিক শহীদ, তার ভাই নাজমুল ও হাকিম। এদের এক ভাই মহসীন রেজা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান বিভাগের উন্নয়ন শাখায় পার্সোনাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। এখানে ১টি পরিবার তন্ত্র গড়ে তুলেছে। তার পরিবারের অসংখ্যজন অধিপ্তরে চাকুরী করে। এদের রয়েছে বিত্ত বৈভব।

এছাড়াও পরিকল্পনা ইউনিটের শাজাহান মিয়া রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে দীর্ঘ ৩১ বছর অধিদপ্তর দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করেন। মুলত: তার সিন্ডকেট খুব শক্ত। বাস্তবিক অর্থে তার পদ সাটমুদ্রাক্ষরিক। কিন্তু পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হয়ে তার দপ্তর জামাতের অধিদপ্তরের মুল কেন্দ্র বিন্দু এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশী অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তিনি হলেন প্রশাসন ইউনিটের নাজমুল হক মোড়ল। তিনি যেহেতু প্রশাসন ইউনিটে কর্মরত তাই সকল কিছূ নেপথ্যে কলকাঠি নাড়েন এই মোড়ল। নিয়োগ,বাণিজ্য, পোষ্টিং এ অর্থ লেনদেন ও তদবিরে তিনি অনন্য।

 

 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা