May 19, 2026, 8:28 am


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-05-19 06:54:59 BdST

বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত, একাধিকবার শোকজ-কারণ দর্শানোর রেকর্ড সমবায়ের বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ নবীরুলের পদোন্নতিতে বিষ্ময়


সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সেবা নিশ্চিতের জন্য কাজ করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব ভুলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ব্যস্ত থাকেন অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার দাপটে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার অসম প্রতিযোগিতায়! বিতর্কিত এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট। প্রভাব খাটিয়ে তারা অধিদপ্তর, জেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব নিজেদের কবজায় রাখা, চুক্তিনিয়মবহির্ভূতভাবেতে সমিতির নির্বাচন, নিয়োগ-বাণিজ্য, পদ সৃষ্টি, ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতি, উন্নয়নের নামে সমিতির কোষাগারশূন্য, জাল সনদে চাকরি নেওয়াসহ বহুবিধ অপকর্ম করেও আছেন বহাল তবিয়তে।

এমনই এক ভাগ্যবান কর্মকর্তা হচ্ছেন মো: নবীরুল ইসলাম। সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে বহাল তবিয়তেই দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় যারপরনাই সমবায় অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি, সমবায় অধিদপ্তরের বেশকিছু দাপ্তরিক নথিপত্র ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে; মো: নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ এবং তাঁর বর্তমান অবস্থানের বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

মূল অভিযোগ ও মামলার পটভূমি

২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর -- কোটা জালিয়াতির মামলা

মো. নবীরুল ইসলাম ২০তম বিসিএস (সমবায়) ক্যাডারে সমবায় অধিদপ্তরে ঢাকা জেলা সমবায় অফিসার পদে যোগদান করেন। সমবায় অধিদপ্তরে চাকরিতে প্রবেশের আগে তিনি বিপিএসসিতে চাকরি করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিপিএসসির একজন কর্মকর্তার সহায়তায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করেন এবং তাঁর বাবা মরহুম মো. সহিদুল ইসলামকে ভুয়া 'মুক্তিযোদ্ধা' সাজিয়ে প্রতারণা ও কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পর ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় অভিযুক্ত নবীরুলের বিরুদ্ধে দুদকের তৎকালীন পরিদর্শক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁইয়া প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা (মামলা নং-২৪) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুর্নীতি দমন ব্যুরো।

পরবর্তীতে দুদকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০২ সালের ১৫ জুন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ধীরাজ কুমার নাথ অভিযুক্ত মো: নবীরুল ইসলামকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু, নবীরুল সরকারের উর্ধতন মহলে জোর লবিং এবং প্রভাব খাটিয়ে এই অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যান।

২০০৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি -- অনিয়ম ও লাঞ্চিতের অভিযোগে মামলা

২০০৭ সালের ১৯ শে জুন দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ব্যাংক) লিমিটেডের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগে সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ন নিবন্ধক নজির আহমেদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে, ২০০৭ সালের ২৫শে জুন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সচিব ও পরিচালক মো: আলী রুবাইয়াৎ আহসানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (ইপিপি) কায়সারুল আলম ও যুগ্ন নিবন্ধক খোরশেদ আলম (উ:শি:) এর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টীম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

উপরোক্ত দুইটি তদন্ত প্রতিবেদনেই মো: নবিরুল ইসলাম ও তার অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ মোতাবেক ২০০৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।

২০০৮ সালের ২রা মার্চ -- ডিজিএফআইতে মামলা

ঢাকা জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো: নবীরুল ইসলামের কোটা জালিয়াতি, ঘুষ ও দুর্নীতিসহ নানাবিধ অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে সমবায় অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে জনৈক জাহাঙ্গীর আলম ২০০৮ সালের ২র মার্চ ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

২০১১ সালের ১২ই জুলাই: অর্থ আত্মসাতে মামলা

২০১১ সালে সিরাজগঞ্জে জেলা সমবায় অফিসার পদে দায়িত্ব পালনকালে সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ৬ শতক জমি অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়। গোপনে জমি বিক্রির মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন নবীরুল ও তৎকালীন আরেক কর্মকর্তা।

এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের হয়। কিন্তু মামলার বিষয়টি গোপন রেখে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন নবীরুল ইসলাম।

উর্ধতন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনা

২০১২ সালে রাজশাহীর বিভাগীয় দপ্তরে উপ-নিবন্ধকের দায়িত্ব পালনকালে বন্ধকী জমির উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে সরকার ও সমবায়ের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বেহাত করার সুযোগ করে দেন নবীরুল। এই ঘটনায় পরের বছর তৎকালীন বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক বাধা দিলে তাকে লাঞ্চিত করেন নবীরুল ইসলাম।

বিভাগীয় ব্যবস্থা

মো: নবীরুল ইসলাম কর্মজীবনে ঢাকা ও সিরাজগঞ্জে জেলা সমবায় অফিসার পদে, মাদারীপুরে সহকারী নিবন্ধক পদে, রাজশাহীতে উপ-নিবন্ধক পদে, বরিশালে উপ-নিবন্ধক (প্রশাসন) পদে এবং ময়মনসিংহে যুগ্ন নিবন্ধক পদে দায়িত্ব পালনের সময়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অনিয়ম (কাজ না করেই এবং ভ্রমণ না করেই অর্থ উত্তোলনে দুইদফা বিল দাখিল) ঘুষ গ্রহন ও দুর্নীতিসহ বহু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং বেপরোয়া আচরণের অভিযোগে সমবায় অধিদপ্তর থেকে তাকে একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও, তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

সর্বশেষ, বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরে উপ-নিবন্ধক (প্রশাসন) পদে কর্মরত থাকাকালীন ২০১৩ সালের ১লা ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকারের পক্ষে সহকারী সচিব পতিত পাবন পাব দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে কর্মস্থলে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ থেকে ২০১৬ সালের ১৮ই মার্চ পর্যন্ত দুই বছর মো: নবীরুল ইসলামের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়।

পদোন্নতি

এতো অনিয়ম, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিক তদন্ত, বরখাস্তের আদেশ এবং মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে মো: নবীরুল ইসলাম বারবার পার পেয়ে যান এবং প্রভাব খাটিয়ে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত নিবন্ধক হিসেবে পদোন্নতিও বাগিয়ে নেন।

উল্লেখ্য, মো: নবীরুল ইসলাম ২০২৬ সালের ৮ই মে সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) পদে যোগদান করেন। এর আগে, তিনি বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত নিবন্ধক পদে কর্মরত ছিলেন।

বর্তমান অবস্থান

বর্তমানে, মো: নবীরুল ইসলাম সমবায় অধিদপ্তরে অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল রয়েছেন এবং নিয়মিত অফিসিয়াল আদেশ জারি করছেন।

আইন কি বলে?

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এফটি টীমকে বলেন, ফৌজদারী মামলা, সাময়িক বরখাস্ত ও একাধিক শোকজপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা সাধারণত সরাসরি পদোন্নতি পান না। তবে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি তাকে বিবেচনার জন্য যোগ্য মনে করলে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অধীনে কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়, তবে ফলাফল সিলগালাবদ্ধ থাকে। মামলা বা তদন্ত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে সিলগালা খাম খোলা হয় এবং পদোন্নতি কার্যকর হয়।

তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তা যদি কোনো ফৌজদারি মামলায় ১ বছরের বেশি সাজা বা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডিত হন, তবে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন এবং পদোন্নতির যোগ্যতা হারাবেন। অন্যদিকে, একাধিক শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর বিভাগীয় তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে কর্তৃপক্ষ তার পদোন্নতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা বাতিল করতে পারে। সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা থেকে যদি তিনি সসম্মানে খালাস বা অব্যাহতি পান, তবে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হবে এবং পূর্বজ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তার পদোন্নতি কার্যকর হবে।

পদোন্নতির যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক

পূর্বে একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরও, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের জোরে মো: নবীরুল ইসলাম কেবল অভিযোগ থেকেই রেহাই পাননি, বরং সমবায় অধিদপ্তরে অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন রয়েছেন। তার মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা এবং পদোন্নতি পাওয়া নিয়ে অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, জালিয়াতির মামলা এবং একাধিকবার বরখাস্ত হওয়ার অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও সমবায় অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জন-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নবীরুল ইসলামকে কিসের ভিত্তিতে এবং কোন যোগ্যতায় পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কে বা কারা জড়িত; সেটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের খোলাসা করা উচিৎ। জনমনের ক্ষোভ প্রশমনে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।

আইন কি বলে?

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এফটি টীমকে বলেন, ফৌজদারী মামলা, সাময়িক বরখাস্ত ও একাধিক শোকজপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা সাধারণত সরাসরি পদোন্নতি পান না। তবে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি তাকে বিবেচনার জন্য যোগ্য মনে করলে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অধীনে কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়, তবে ফলাফল সিলগালাবদ্ধ থাকে। মামলা বা তদন্ত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে সিলগালা খাম খোলা হয় এবং পদোন্নতি কার্যকর হয়।

তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তা যদি কোনো ফৌজদারি মামলায় ১ বছরের বেশি সাজা বা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডিত হন, তবে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন এবং পদোন্নতির যোগ্যতা হারাবেন। অন্যদিকে, একাধিক শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর বিভাগীয় তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে কর্তৃপক্ষ তার পদোন্নতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা বাতিল করতে পারে। সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা থেকে যদি তিনি সসম্মানে খালাস বা অব্যাহতি পান, তবে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হবে এবং পূর্বজ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তার পদোন্নতি কার্যকর হবে।

এদিকে, সমবায় অধিদপ্তরে সৃষ্ট এই বিতর্ক আমলে নিয়ে দ্য ফিন্যান্স টুডের একটি চৌকস টীম মো: নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিবিড় অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এফটি টীমের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নবীরুল সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন মাসউ ও ফাইন্যান্স) পদে যোগদানের পর থেকেই অতীতের চেয়েও বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। ঢাকার কর্মস্থলে যোগ দিয়েই সমবায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নিয়োগ-বদলী-পদোন্নতি বানিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সমিতি থেকে প্যাকেজে ঘুষ গ্রহন, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এসব অপকর্মের মাধ্যমে নবীরুল কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন ও অঢেল পরিমান সম্পদ অর্জনের তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। নবীরুলের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত ফিন্যান্স টুডের আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.