June 9, 2026, 10:12 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-06-09 20:44:47 BdST

৯ লাখ ৬০ হাজার সিগারেট স্ট্যাম্প জব্দ; ভুয়া আমদানিকারক সেজে নকল ব্যান্ডরোল আমদানি, তদন্তে কাস্টমস৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা রুখে দিলো ঢাকা কাস্টমস


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি করা একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এই ঘটনায় সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে, কাস্টমস হাউস ঢাকার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট) এস. এম. আবুল কালাম আজাদ বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার জমা দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীনের সাংহাই থেকে চার কার্টন পণ্য দেশে আসে। ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে ‘MR JUNAINA KHAN’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ টিম ও এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট গত ১৩ মে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ‘হ্যান্ড ট্যাগ, প্রাইস লেবেল ও ওভেন লেবেল স্যাম্পল’ হিসেবে ঘোষিত চারটি কার্টনের প্রতিটিতে ২ লাখ ৪০ হাজার পিস করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল সিগারেট স্ট্যাম্প রয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, চালানটির বিপরীতে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিআইএন (BIN) নম্বর যাচাই করেও কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

কাস্টমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জুনাইনা খানের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চালান আমদানির পর একই পরিচয়ে আরও ১২টি চালান দেশে আনা হয়। তবে এসব চালানের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেছেন।

তদন্তে বিভিন্ন নথিতে আমদানিকারকের তথ্যের অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান BAEI Express Limited-এর দাখিল করা মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে MOHIB Garments Ltd.-এর নাম থাকলেও এয়ারলাইন্সের এয়ারওয়ে বিলে Gitech Label Solution Ltd.-এর নাম এবং যোগাযোগের জন্য Junaina Khan এর নাম উল্লেখ ছিল। এসব অসঙ্গতির কারণে কাস্টমসের সন্দেহ, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নকল সিগারেট স্ট্যাম্প আমদানি করা হয়েছে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী সিগারেটের স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল শুধুমাত্র বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন থেকে সংগ্রহ করা যায়। বিদেশ থেকে এই ধরনের স্ট্যাম্প আমদানির কোনো বৈধ সুযোগ নেই।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট মাস্টার এয়ারওয়ে বিলের আওতায় মোট ১১টি হাউস এয়ারওয়ে বিল ছিল। এর মধ্যে নকল সিগারেট স্ট্যাম্পসহ পাঁচটি চালানে অসত্য ঘোষণা পাওয়ায় পৃথক শুল্ক ফাঁকি মামলা করা হয়েছে। বাকি ছয়টি চালান যাচাই শেষে প্রযোজ্য শুল্ক-কর আদায়ের মাধ্যমে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, এই ঘটনায় কাস্টমস আইন-  ২০২৩ অনুযায়ী চোরাচালানের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারাও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ পণ্য আমদানি ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

মুহাম্মদ কামরুল হাসান আরও বলেন, অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমসের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জাতীয় অর্থনীতি, রাজস্ব সুরক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.