June 10, 2026, 12:40 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-06-09 23:15:57 BdST

ইউরোপে পাঠানোর নামে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩


ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ইতালি ও সার্বিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি ও স্টুডেন্ট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– শেখ মো. সাদী (৪১), মো. নাহিন (২৫) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়।

তিনি জানান, গত ২৮ মে মো: রমাজন হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি ও তার শ্যালক বিদেশে পাঠানোর নামে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র‍্যাবের একটি চৌকস আভিধানিক দল। র‍্যাবের এই দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাবের আভিধানিক দল।

এদিকে, মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, গ্রেপ্তার শেখ মো. সাদী ‘জাহরা সাদী টিকিটিং অ্যান্ড ট্রাভেলিং’ ও ‘জেএস এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস’ নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপে বৈধভাবে লোক পাঠানোর দাবি করতেন।

তার সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ইতালি ও সার্বিয়াসহ ইউরোপের উন্নত দেশে চাকরি ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা প্রথমে ক্রোয়েশিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও চক্রটি তাদের ভুল বুঝিয়ে ইতালিতে ওয়ার্ক পারমিটসহ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এজন্য জনপ্রতি ১৪ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। পরে বিভিন্ন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে বিদেশে পাঠাতে পারেনি চক্রটি।

প্রথমে ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ব্যর্থ হওয়ায় ছয় মাস পর পর্তুগাল পাঠানোর আশ্বাস দেয় চক্রের সদস্যরা। এজন্য ভুক্তভোগীদের ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হলেও দীর্ঘ ৭২ দিন অপেক্ষার পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। একপর্যায়ে ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে প্রতারকরা নিউজিল্যান্ডের ভিসা দেওয়ার কথা বলে কয়েক মাস পর একটি ভিসা দেখায়। পরে যাচাই করে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এরপর সার্বিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। সেখানে তাদের স্থানীয় একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে কৌশলে দেশে ফিরে এসে তারা বুঝতে পারেন যে, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর নামে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের প্রতারণার শিকার আরও অনেক ভুক্তভোগী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা উচিত। অন্যথায় এই ধরনের প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাতে পারেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.