04/23/2026
বিশেষ প্রতিবেদক | Published: 2026-04-23 20:51:03
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর বর্তমান প্রশাসক মো. আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে নির্বাচন আয়োজনে টালবাহানা, অনিয়ম এবং ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, বায়রার বর্তমান প্রশাসক আশরাফ হোসেন নির্বাচন না দিয়ে নিজের মেয়াদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যার প্রতিবাদে সাধারণ সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
পরে, বায়রার ভুক্তভোগী সদস্যরা দায়িত্বে অবহেলা, নির্বাচন আয়োজন ব্যর্থতা এবং কমিশন বানিজ্য ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে বর্তমান প্রশাসক আশরাফ হোসেনের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
উক্ত মানববন্ধনে বায়রা’র সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণের স্বার্থে মোঃ আশরাফ হোসেনকে বায়রা প্রশাসক পদ থেকে অপসারণপূর্বক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অতিসত্বর একজন নতুন ও নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বদরুল হক বায়রার নতুন প্রশাসক
পরিশেষে, বায়রার সাধারণ সদস্যদের দাবি আমলে নিয়ে সরকার বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বদরুল হককে বায়রার নতুন প্রশাসক হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার নিরসন হলো।
এদিকে, বায়রার বর্তমান প্রশাসক আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান প্রশাসক আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বায়রা নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরাসরি প্রভাবিত করে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও অন্যায্য ও বেআইনিভাবে নতুন করে ১১৫ জন সদস্যকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা।
সূত্র মতে, বায়রা কল্যাণ ফান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বায়রা প্রশাসক মো. আশরাফ হোসেনের অনৈতিক ও অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে বায়রা নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র এক দিন আগে হাইকোর্ট কর্তৃক নির্বাচন স্থগিত হয়।
বায়রার সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, বায়রা প্রশাসকের অনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপের কারণে অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বায়রা নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে, জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নির্বাচনের তফসিল ও নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়।
প্রশাসক মো. আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও বিশেষ আগ্রহে বায়রা সচিবালয়ে অপ্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন বায়রার একাধিক সদস্য।
সূত্র মতে, প্রশাসক আশরাফ হোসেন তার পছন্দের ১১জন কর্মচারীকের বায়রায় চাকরি দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করেছেন। বায়রার একটি গাড়ীও প্রশাসক বিধিবহির্ভূতভাবে তার বাসায় সাক্ষণিক ব্যবহার করছেন। এছাড়া, বায়রা প্রশাসকের মেয়াদকাল শেষ হবার আগে আরো কয়েকজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন।
এছাড়াও সদস্যদের স্বার্থ পরিপন্থী নানাবিধ কর্মকাণ্ডে বায়রা সচিবালয়কে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বায়রা সহ প্রায় সকল ব্যবসায়িক ও পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যতিক্রমধর্মীভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তর বিএমইটি-এর একজন কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এই নিয়োগের বিষয়ে শুরু থেকেই বায়রা’র সাধারণ সদস্যদের মধ্যে নিরপেক্ষতা ও স্বার্থসংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পরবর্তীকালে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহে তাদের সেই আশঙ্কাই বাস্তব রূপ ধারণ করে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এদিকে, উত্থাপিত এসব অভিযোগসমূহের বিষয়ে জানতে চাইলে বায়রা প্রশাসক আশরাফ হোসেন বলেন, বায়রায় ১১জন কর্মচারী নিয়োগে কোনো নিয়োগ বাণিজ্য হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বায়রা সদস্যদের মধ্যে গ্রুপিং এর কোনো অভাব নেই। একমাত্র বিএনপিরই তিনটি গ্রুপ রয়েছে। আদালতে তাদের একের পর এক রীটের দরুণ বায়রা নির্বাচন যথাসময়ে হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বায়রার প্রশাসক হিসেবে আমি একটি গাড়ি পাই। সেই গাড়িটিই আমি ব্যবহার করছি।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81