32955

05/27/2026

জনগণকে সাথে নিয়ে ঐতিহাসিক ইতিহাস গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

শাহীন আবদুল বারী | Published: 2026-05-27 16:48:47

২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও নিজের মেধা, প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে তারেক রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে তাঁকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণের পর বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আর গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তারেক রহমান।

স্বল্পভাষী অথচ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নেতা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, ধর্মনিরপেক্ষ, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাস গড়তে চান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি আর বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা।’

জনগণের সহযোগিতা ও দোয়াই গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চাওয়া। তাই সবার কাছে বিনীত অনুরোধ; একটু সময় দিন, ধৈর্য ধরুন এবং আস্থা রাখুন। এই দেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকারের যে স্বপ্ন সেটি বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে তার মূল লক্ষ। তিনি এই দেশকে দ্রুত বিশ্বের কাছে বাঙালি জাতির মডেল রুপে তুলে ধরতে চান। একইসঙ্গে জনগণকে সাথে নিয়ে ঐতিহাসিক পথের ইতিহাস গড়তে চান। তাই আসুন, আমাদের বৈচিত্র্যময় এই দেশকে বিশ্বের দরবারে সুন্দর করে গড়ে তুলতে আমরা সবাই তারেক রহমানের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।

অতীতে বাংলাদেশের যে কোন সংকটে, সমস্যায় সাধারণ জনগণ রাষ্ট্রপ্রধানের দয়া দাক্ষিন্যের জন্য তীর্থের কাকের ন্যায় অপেক্ষা করতো। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন ধৈর্য্য ধরে বসে থাকতো। তবে, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এসব প্রথা বিলীন হয়ে গেছে। এখন আর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যান। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতের কোন প্রধানমন্ত্রী এভাবে জনগণের কাছে যেতে পারেনি। যেটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করছেন।

আজ ২৭ মে (বুধবার) দ্য ফিন্যান্স টুডের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের ১০০ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সাহস দিচ্ছেন এবং সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচালনায় জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন ও সহযোগিতাকে তারেক রহমান নিজের ও দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার লক্ষ্য ও পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হচ্ছে দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর প্রাপ্ত গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করা এবং জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সংরক্ষণ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এর চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া।

টুকু বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নিলেন। প্রতিনিয়তই তিনি একটার পর একটা ভালো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা এই প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মানবিক প্রধানমন্ত্রী

ছোট্ট শিশুরাও এখন প্রধানমন্ত্রীর ভক্ত। যেখানেই সফরে যাচ্ছেন, সেখানেই শিশুদের সাথে আনন্দে মেতে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি, প্রতিবন্ধীদের সাথেও তার মানবীয় আচরণ দেখে দেশবাসী উৎফুল্ল।

অন্যদিকে, মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক বেশকিছু নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রদান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং জনগণের সাথে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (যেমন- পুলিশ) সম্পর্ক মানবিক ও আস্থাশীল করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য।

দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান গত প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও অত্যন্ত দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা সুচারুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে বৃহত্তর জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জোরালো ও গতিশীল তৎপরতা সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণায় দেশের বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক দশক পর আলোচিত তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে।

একইভাবে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। দ্রুতই এই ধর্ষকের বিচার হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। তবে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষেদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তাদের সময়কার সরকার দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিকাশ নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। সাংবাদিকরা যাতে নিরপেক্ষ থেকে সংবাদ পরিবেশন করে সেই আহ্বানও জানান তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাদেরকে অনুসরণ করছেন। দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলবেন। দুর্নীতিবাজদের ঠাই হবে না এই বাংলায়। এছাড়া, অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এবং পরিকল্পনা করেই এগুচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সেক্টর অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। পতিত সরকার আমলে এমপি, মন্ত্রী ও তাদের অনুসারীরা লুটেপুটে খেয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে গেছে। ব্যবসায়ীরা অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি ছিলো। এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করার সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এমপি, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের (৬ মাস) কার্যদিবস বাতিয়ে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন এবং সামনে আরো ভালো অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন।

এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) তার নিজ আসন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) নিয়ে বলেন, আমি অক্ষরে অক্ষরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছি। সৎ, ত্যাগী ও দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করার চেষ্টা হচ্ছে। টাঙ্গাইলে বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতি আমার হস্তক্ষেপে আগের চেয়ে বেশ চাঙ্গা। দলীয় নেতাকর্মীরাও আমার উপর ভরসা রেখেছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে সুন্দর, সাবলীল এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা কমিটিতে স্থান পাবে। আর যারা দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে মরিয়া তাদের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব হবে।

টাঙ্গাইল সদরের গর্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই প্রতিবেদকে বলেন, নিজ নির্বাচনী এলাকা সহ পুরো জেলার সকল মানুষই আমার শক্তি ও সাহস। সর্বস্তরের মানুষের হাত ধরে এবং তাদের ভালোবাসা বুকে নিয়েই এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় জনপদ টাঙ্গাইল সদর। আমার নেতা ও অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে প্রতিটি কাজে আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন; সেজন্য আমি তার কাছে ঋনী হয়ে গেছি।

তরুণের স্বপ্ন, যুবকের শক্তি আর মুরব্বিদের দোয়া; এসব কিছুকে সঙ্গে নিয়েই আমরা গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল শহর। যেখানে থাকবে না কোনও হিংসা, বিদ্বেষ, কোন্দল ও অসন্তোষ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর হবে আধুনিক মডেল শহর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সদয় রয়েছেন। যদি আল্লাহ সহায় থাকেন, ইনশাআল্লাহ এই জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে আমি জনগণের কাছে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে করা অঙ্গীকার হলো আমানত। সেই আমানতের খেয়ানত আমি হতে দিবো না। ইনশাআল্লাহ, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সবসময় টাঙ্গাইল সদরবাসীর পাশে আছি এবং থাকবো। আমরা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যা বলি, তাই করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মুহুর্ত মানুষের পাশে আছেন এবং থাকবেন। আমি নিজেও জনগণের পাশে আছি এবং থাকবো। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। টাঙ্গাইলকে সর্বোচ্চ উন্নয়নের পর্যায়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী পাঁচ বছর পর উন্নয়নের তালিকা হলে টাঙ্গাইল সদর এক নম্বরেই থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যারা কুৎসিত বাক্য উচ্চারণ করেন, তীর্যক ভাষায় কথা বলেন; তারা মূলত স্বার্থবাজ, ষড়যন্ত্রকারী ও বিএনপির ঘোর শত্রু। এই নিমকহারাম গোষ্ঠী মনেপ্রাণে চায় বিএনপি যেন সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে না পারে। দুনিয়ার চিরাচরিত সত্য হচ্ছে, নিন্দুক ও হিংসুটেরা সবসময় ভালো কাজের এবং ভালো মানুষের পেছনে লেগে থাকে। এজন্য তারা একজন ভালো ও সৎ ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তবে, এর পেছনে যে অদৃশ্য একটি শক্তি কাজ করছে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। তাই ষড়যন্ত্রকারী যেই হোক, তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলা হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। এটাই হলো তার পারিবারিক শিক্ষা।

তারেক রহমানের জীবন ধৈর্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নীতিবান রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক নেতৃত্বগুন আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তিনি পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পথেই হাঁটছেন।

১৯৮৮ থেকে ২০২৫- এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কৌশলগত সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং আধুনিক ভিশনের এক বিরল সমন্বয়ই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তাঁর সুশৃঙ্খল জীবন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনসেবার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা কীভাবে একজন রাজনীতিবিদের ক্যারিয়ারে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে, তারেক রহমানের জীবনই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81