একটি প্রদর্শনীতে একজন দর্শক

ঈদেও জমছে না রাজবাড়ীর প্রেক্ষাগৃহ

Published: 31 May 2026 23:05

রাজবাড়ীর প্রেক্ষাগৃহগুলোতেআধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের যুগে এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা স্মার্টফোনে সহজে বিনোদন পাওয়ার সুযোগ থাকায় এখানকার সিনেমা হলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকশূন্যতায় ভুগছে

ঈদ উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নতুন সিনেমা দেখার উন্মাদনা ছিল বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় প্রিয় তারকাদের চলচ্চিত্র উপভোগের এই সংস্কৃতি দেশজুড়ে এক মিলনমেলা ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করত।

ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ সিনেমা হলের বাইরে দর্শকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত। নতুন সিনেমার টিকিট সংগ্রহ এবং উৎসবের আমেজে প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমা উপভোগ ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এখন সেই দৃশ্য যেন শুধুই স্মৃতি।

ঈদ মানেই ছিল বড় বাজেটের সিনেমা ও সুপারস্টারদের আধিপত্য। শাকিব খান, আরিফিন শুভ কিংবা আফরান নিশোর মতো তারকাদের নতুন সিনেমা ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হতো ব্যাপক আগ্রহ। পোস্টার, টিজার ও গান প্রকাশের পর থেকেই শুরু হতো আলোচনা-সমালোচনা।

বর্তমানে বড় শহরগুলোতে মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতি জনপ্রিয় হলেও মফস্বল এলাকার দর্শকরা সেই সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। ঢাকার বাইরে সিঙ্গেল-স্ক্রিন হলগুলোতে অ্যাকশন ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলেও জেলার প্রেক্ষাগৃহগুলো নানা সংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে। অতীতে ঈদকে কেন্দ্র করে যে প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতি ছিল, তাতে এখন ধস নেমেছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে সিনেমা হল।

রাজবাড়ীর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ঈদের মতো উৎসবের মৌসুমেও দর্শক সমাগম হয় না। আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের যুগে এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা স্মার্টফোনে সহজে বিনোদন পাওয়ার সুযোগ থাকায় এখানকার সিনেমা হলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকশূন্যতায় ভুগছে।

একসময় রাজবাড়ী জেলায় ১২টিরও বেশি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র একটি। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় ‘গোধূলি’ নামে আরও একটি সিনেমা হল থাকলেও সেটি সারা বছর বন্ধ থাকে; শুধুমাত্র দুই ঈদ ও দুর্গাপূজার সময় খোলা হয়।

রাজবাড়ী শহরের একমাত্র চালু সিনেমা হল ‘সাধনা’ সিনেমা হলের মালিক ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “পৈত্রিক ঐতিহ্য আর মায়ার টানে ব্যবসাটি ধরে রেখেছি। এবার ঈদে ‘মালিক’ ছবিটি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এনেছি। ঈদের দিন টিকিট বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকার, পরের দুই দিন হয়েছে তিন হাজার টাকা করে। আজ সকালের শোতে মাত্র একজন দর্শক পেয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, বিদ্যা সিনহা মিম ও আরিফিন শুভর মতো জনপ্রিয় তারকার ছবি যদি না চলে, তাহলে আমরা কী করব? একটি শো চালাতে ন্যূনতম আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়, অথচ টিকিট বিক্রি করছি মাত্র ১৫০ টাকায়।”

সকালের শোতে উপস্থিত একমাত্র দর্শক মামুন বলেন, “এই নায়িকা আমার খুব প্রিয়। তাই একাই সিনেমাটি দেখতে এসেছি।”

প্রেক্ষাগৃহে একজন দর্শক নিয়ে সিনেমা প্রদর্শনের এই ঘটনা জেলার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বর্তমান সংকটকেই যেন স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে দেখার মতো শিক্ষণীয় ও মানসম্মত সিনেমার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন, ডিশ লাইনে ২৪ ঘণ্টা সিনেমা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে মানুষ আর কষ্ট করে হলে যেতে চায় না।

Shamiur Rahman

Related