প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক চীন সফর: কূটনৈতিক সাফল্য ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার

News Desk Published: 30 June 2026 10:40 AM

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যার কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক শক্তির কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই চীন আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

মোঃ গোলাম মোস্তফা কাজল

তারুণ্যের অদম্য শক্তি, দেশবরেণ্য বাঙালি জাতির প্রাণের স্পন্দন—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন নতুন এক স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তাঁর মালয়েশিয়া এবং চীন সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিই নয়, বরং ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতি বা জিওপলিটিক্সে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে প্রতিষ্ঠার এক মাইলফলক। আধুনিক মিডিয়ার কল্যাণে যা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তা হলো—যোগ্য পিতামাতার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি একজন ক্যারিশম্যাটিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

বিশেষ করে চীন সফরটি আমি অত্যন্ত নিচু চোখে এবং সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করেছি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যার কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক শক্তির কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই চীন আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

লাল গালিচা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, আপ্যায়ন এবং উষ্ণ আতিথেয়তা—প্রতিটি মুহূর্তই ছিল চোখ ধাঁধানো। এখানে স্পষ্ট বোঝা যায়, চীন কোনো ব্যক্তিবিশেষকে নয়; তারা সম্মান করেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে এবং এদেশের জনগণের যোগ্য প্রতিনিধিকে। চীনের এই অতিথিপরায়ণতা দেখে মনে হয়েছে, আমাদের চারপাশের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক আচরণের তুলনায় চীন অনেক এগিয়ে। প্রাচীন এই সভ্যতার দেশটির কাছে এখনও পৃথিবীর অনেক কিছু শেখার আছে—একথা এই সফরের মাধ্যমেই আবারো প্রমাণিত হলো।

সফরকালীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সূচি, এবং ভেন্যুর আনন্দমুখর পরিবেশ দেখে গোটা জাতি যেন উৎসবে মেতেছে। মনে হচ্ছে, আমরা সত্যিই একজন দূরদর্শী ও যোগ্য প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। আমাদের ভঙ্গুর ও লুটপাট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে আন্তর্জাতিক বিশ্বের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। চীনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নপূরণের এক শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এই সফলতা যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে জাতির গুরুত্ব ও প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জনমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।

ইতিহ্যগতভাবেই চীন বরাবর বাংলাদেশের উন্নয়নের এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আমরা ভুলি না, বীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন চীনের অকৃত্রিম বন্ধু। তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। চীনও সেই ঐতিহাসিক বন্ধন স্মরণ করে বাংলাদেশকে গভীর সম্মান জানায়। আগামী দিনে দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সামনে রেখে আমাদের পথ চলতে হবে। তাহলে দুই বন্ধু রাষ্ট্রের এই চলার পথ আরও সুগম হবে এবং চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

লেখক একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট, নীতি বিশ্লেষক এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মানিত সদস্য

Shamiur Rahman

Related