01/01/2026
S M Fatin Shadab | Published: 2026-01-01 12:11:58
তিন বছরের বেশি সময় পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থবছর ২০২১–২২ এর পর এই প্রথম রিজার্ভ এই মাত্রায় পৌঁছাল। এতে করে দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধের সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল এই তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের পদ্ধতিতে হিসাব করা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই অঙ্ক বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশ এখন পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এরপর থেকেই রিজার্ভ কমতে শুরু করে। ২০২৪ সালের মে মাসে দেশের মোট ডলার মজুত নেমে আসে ২৪ বিলিয়ন ডলারে। তখন আন্তর্জাতিক পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আমদানি বিল, ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
এই অবস্থা বদলাতে শুরু হয় গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। প্রবাসী আয় বাড়ায় ধীরে ধীরে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগে টাকার মান ধরে রাখতে বাজারে ডলার বিক্রি করেছিল। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে নীতি পরিবর্তন করা হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনতে শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল ডলারের অতিরিক্ত শক্তি কমানো এবং বাজারে ভারসাম্য আনা।
এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। এই ডলার কেনার ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ও কিছুটা বেড়েছে। আমদানিও বেড়েছে, তবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় রিজার্ভে এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা কড়াকড়ি থাকাও সহায়ক হয়েছে।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81