02/07/2026
আব্দুর রহিম রিপন | Published: 2026-02-06 02:08:41
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গত ১০ দিনে সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বিএনপির একাধিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের দাবি, নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন মামলা।
ব্রিকফিল্ডে অস্ত্রের কারখানা ও ম্যানেজার আটক
গত ২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের একটি এলাকায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ব্রিকফিল্ডে (ইটভাটা) গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি মিনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও তৈরির সরঞ্জামসহ ভাটোর ম্যানেজার এবং আরও একজনকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, এই ইটভাটায় রাতের আঁধারে অস্ত্র তৈরি করে রাজনৈতিক ক্যাডারদের মধ্যে সরবরাহ করা হতো। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় র্যাবের একটি দল তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ উপজেলা যুবদলের এক সক্রিয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব-৭ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তি নির্বাচনি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।
ফেনী ও নাটোরে ককটেল ও অস্ত্র উদ্ধার
গত ১ ফেব্রুয়ারি ফেনীর সদর এলাকা এবং নাটোরের সিংড়ায় পৃথক অভিযানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু স্লাইড গান, রামদা এবং বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ
এই গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাগুলোকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে মাঠছাড়া করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা নিজেরাই অস্ত্র রেখে আমাদের নেতাকর্মীদের ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।” তারা অবিলম্বে এসব ‘হয়রানিমূলক’ গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো প্রকার সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে এবং এর সাথে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে যুক্ত করা হচ্ছে না। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনে কারা অর্থায়ন করছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের এই প্রবণতা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81