02/14/2026
সামিউর রহমান লিপু | Published: 2026-02-14 02:36:15
যে কোন নির্বাচনই হোক না কেন; জয়ী হয়ে পরাজিত পক্ষের প্রতি প্রতিশোধস্পৃহা এবং প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার যে অপসংস্কৃতি সমাজে বিদ্যমান সেখানে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সম্প্রীতির এক শীতল বার্তা সমাজে ছড়িয়ে পড়লো।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েই জামাতের পরাজিত প্রার্থীর কাছে ছুটে গিয়ে সৌহার্দ্যের একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ।
১২ ফেব্রুয়ারী রাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই আব্দুল্লাহ ফুল এবং মিষ্টি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজির ব্যক্তিগত অফিসে যান। এসময় দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন এবং উভয়ের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।
ঘন্টাব্যাপী সাক্ষাৎকালে তারা মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী এলাকায় রূপান্তরে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পারস্পরিক মতবিনিময়ে স্থানীয় উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, সৌজন্যের এমন অনন্য নজির স্থাপন করে সর্বমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ। অনেকেই এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ধারার প্রত্যাবর্তন বলে মনে করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় ইস্যুতে ভিন্নমতের মধ্যেও যে সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এই বোধটি আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিলেন শেখ আবদুল্লাহ।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আল-মুসলিম গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ৬৭ হাজার ৫২২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজীকে।
এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে শেখ মো. আব্দুল্লাহ মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭১৪ ভোট পান। অন্যদিকে এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী ৯৮ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
এছাড়া ৩০ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে ফুটবল পতীকের প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মোহাম্মদ মমিন আলী তৃতীয় হন। ৮ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান খাঁন চতুর্থ হন। ৪২০ ভোট পেয়ে পঞ্চম হন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহমান। সবশেষে ৩১২ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ হন আপেল পতঈকপর প্রার্থী রোকেয়া আক্তার।
এদিকে এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী ৯৮ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এ ছাড়া ৩০ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে ফুটবল পতীকের প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মোহাম্মদ মমিন আলী তৃতীয় হন। ৮ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান খাঁন চতুর্থ হন। ৪২০ ভোট পেয়ে পঞ্চম হন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহমান। সবশেষে ৩১২ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ হন আপেল পতঈকপর প্রার্থী রোকেয়া আক্তার।
নির্বাচনে জয়ী হয়েই আবদুল্লাহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের উপর হামলা ভাংচুরসহ কোন ধরনের অপকর্ম করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির এমন বার্তায় স্বাগত জানিয়েছে সচেতন নাগরিক মহল। তারা বিভাজন এবং পরাজয় ভুলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81