32334

03/26/2026

চাঁপাই সীমান্তে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কোটি টাকার গরু পাচার

আব্দুল্লাহ আল মামুন | Published: 2026-03-26 12:33:39

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আমের জন্য বিখ্যাত হলেও, এই সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।

মুসলমানদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গবাদিপশু পাচার থামছেই না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিছু চালান জব্দ করলেও অভিনব কৌশলে অধিকাংশ গরু দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ বেড়েছে দেশীয় খামারিদের মধ্যে।

সর্বশেষ জেলা তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে এই এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পাচার হওয়া প্রায় ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকার গরু ও মহিষ জব্দ করা হয়েছে।

কীভাবে পার করা হচ্ছে গরু ও মহিষ

সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের ধরন অনুযায়ী, গভীর রাতে কলাগাছের ভেলা বা ছোট নৌকা ব্যবহার করে নদীপথে এবং স্থলপথে কাঁটাতারের বেড়া কেটে কিংবা বাঁশের মাচা ব্যবহার করে গবাদিপশু সীমান্ত পার করা হয়।

পরে এসব গরু সীমান্ত সংলগ্ন আমবাগান বা ফসলি জমিতে অস্থায়ীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়। সিন্ডিকেটের লাইনম্যানদের সংকেত পেলে রাতের অন্ধকারে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার কথা বলে গরুপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়।

কারা জড়িত এই চক্রে

সিন্ডিকেট নিজেদের আড়ালে রেখে সীমান্ত এলাকার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। টাকার প্রলোভনে সাধারণ মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করছে এবং অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে গরু চোরাচালানের অভিযোগে ভারতের মুর্শিদাবাদে তিন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় দুজন সীমান্তে গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অথচ সিন্ডিকেটের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

দেশের ভেতরে এর প্রভাব

ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা গবাদিপশুর কারণে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত বড় ঝুঁকির মুখে পড়ছে। খামারিরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই পশু প্রবেশ করায় সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বেড়েছে। বিশেষ করে খুরা রোগ ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ দেশীয় গবাদিপশুর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে এ ধরনের কার্যক্রম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

গরু পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করছে এবং এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদের আগে ও পরে এই ধরনের কার্যক্রম বেড়ে যায় এবং রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে গরু পাচারের চেষ্টা করা হয়।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81