02/25/2025
আলাউদ্দিন আরিফ | Published: 2022-08-31 22:06:08
খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ও শ্রীফলতলার বিখ্যাত তানভীর ফিসারিজ ও তানভীর পোল্ট্রি খামার নিয়ে অপপ্রচার ও নানা বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে কুচক্রী মহল। খামার মালিক আলহাজ মোহাম্মদ আবু সাঈদের আয়কর বিবরণীর কিছু তথ্য বিকৃত করে এসব অপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ এই খামারগুলোর কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বেকার যুবকদের এবং আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বহু মানুষের। ২০১৩-১৪ সাল থেকে ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত এসব খামার দুটি থেকে সরকারকে কর দেয়া হয়েছে পৌনে চার কোটি টাকারও বেশি।
ষড়যন্ত্রকারীরা বলার চেষ্টা করছেন তানভীর পোল্ট্রি যেদিন খামার স্থাপন করেছে সেদিন থেকেই মুরগী ডিম দিচ্ছে। প্রকৃতসত্য হচ্ছে; তানভীর পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবু সাঈদ বাবার ব্যবাসার সুবাধে ১৯৯৭ সাল থেকে খুলনা অঞ্চলে যাতায়াত করছেন। তার পুরনো ব্যবসায়িক বন্ধু খুলনার বিখ্যাত একটি লাইব্রেরীর মালিকের অনুপ্রেরণায় পোল্ট্রি ও মৎস ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ হন। ওই লাইব্রেরীর মালিক তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ওই অঞ্চলের নামকরা পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শেখ আবু তালেব সেলিম ও খামার ব্যবসায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি ইব্রাহিম ফয়েজুল্লার সঙ্গে। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাটিয়াঘাটার তেতুলতলা এলাকায় একটি ফোল্ট্রি ফার্মে অর্থ বিনিয়োগ করেন তিনি (আবু সাঈদ)। শেখ আবু তালেব সেলিম পোল্ট্রির পাশাপাশি মোহাম্মদ আবু সাঈদেক মৎস চাষেও উৎসাহ দেন। সেলিম ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় ২০১২-১৩ সাল থেকে ২২৭ বিঘা জমিতে যৌথভাবে মৎস ঘেরের ব্যাবসা শুরু করেন। সেলিমকে এক পর্যায়ে খামারের ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে রূপসা উপজেলার ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নে ৮টি শেডে জমির মালিকদের সঙ্গে অংশীদারের ভিত্তিতে পোল্ট্রি ব্যাবসা শুরু করেন। এক্ষেত্রে শর্ত ছিল সম্পুর্ণ বিনিয়োগ আবু সাঈদের এবং মোট লভ্যাংশের চারভাগের একভাগ পাবে জমির মালিক। ২০১৩ সালে তানভীর ফিসারিজ রূপসা উপজেলা মৎস কর্মকর্তার দপ্তর থেকে নিবন্ধন নেয় এবং ৩ নং নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়। পর্যায়ক্রমে ব্যবসা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে যৌথলাভের ভিত্তিতে পোল্ট্রির পাশাপাশি ১৫১ বিঘা ঘের লিজ নিয়ে এককভাবে খামার শুরু করেন আবু সাঈদ। ওই অবস্থায় যৌথ অংশীদারীর ভিত্তিতে ২২৭ বিঘা ও এককভাবে ১৫১ বিঘা মোট ৩৭৮ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। ২০১৪ সালে ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পোল্ট্রি ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নেন। মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারসহ অনুকুল পরিবেশ থাকায় মাছের ঘের ও মুরগীর খামারে ব্যাপক সফলতা আসে। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২০১২ সাল থেকে প্রাপ্ত লাভের অর্থের কর পরিশোধ ও আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেন। আবু সাইদের পূর্ববর্তী ব্যবসার অংশ না হিসেবে না ধরে যে সালে তিনি আয়কর রিটার্নে খামারের উল্লেখ ও সরকার নির্ধারিত কর দিয়েছেন ওই সালকেই তার ব্যবসার শুরু এবং গোঁজামিলের কাল্পনিক হিসাব ধরে তানভীর ফিসারিজ ও পোল্ট্রির মালিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশে যারা পোল্ট্রি খামার ও মাছের খামার করেন তারা শুরুতেই খামারের রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং জমির লিজ চুক্তি করার প্রয়োজন বোধ করেন না। ব্যাংক ঋণ বা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য এসব চুক্তি প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত মৌখিক চুক্তিতেই মাছ ও মুরগীর খামার করা হয়। তাছাড়া এসব আয়-ব্যয়ের টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হাতে হাতে হাতে বা নগদই লেনদেন হয় বেশি। তানভীর ফিসারিজ ও পোল্ট্রির ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে।
কুচক্রী মহল বলে বেড়াচ্ছে; তানভীর ফিসারিজ ও তানভীর পোল্ট্রি রূসার মোছাব্বেরপুর, পশ্চিম পাড়া, শীরগাতি ও নন্দনপুরসহ কয়েকটি গ্রামে ১২ জনের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে ১৫ টি শেড খামার করা ও জাবুসায় ৫০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষের রেকর্ডপত্র ভুয়া। প্রশ্ন হচ্ছে কোথায় কিভাবে সরেজমিন পরিদর্শণ করে এসব রেকর্ডপত্র ভুয়া বলে প্রচার করলেন, এসব রেকর্ডপত্র ভুয়া তার স্বপক্ষে আপনাদের কাছে কি প্রমাণ আছে?
হাঁস মুরগী পালন ও পোল্ট্রি খামার ব্যবসায় একজন পুস্তক ব্যবসায়ী সফল হয়েছেন এটা নিয়ে একটি মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তিনি কি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, কোথায় মাছ বিক্রি করেছেন, মাছের পোনা ও খাবার কোত্থেকে কিনেছেন এসব অবান্তর প্রশ্ন তোলার অপচেষ্টা করছেন। যদিও বিষয়গুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তে মিমাংসিত ও অত্যন্ত পরিষ্কার। যার সনদও রয়েছে। তানভীর ফিসারিজের জন্য কোন মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে কেনা হয়নি। স্থানীয় রেনু পোনা সরবরাহকারীদের কাছে থেকে পোনা কেনা হয়। এসব সরবরাহকারীরা ঘেরে যোগাযোগ করে পোনা দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে যায়। অতিরিক্ত রেনু বা পোনা প্রয়োজন হলে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়। প্রয়োজনীয় ফিড, ওষুধও স্থানীয় বাজার থেকে এবং পাইকারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পোল্ট্রি ফার্মেও বাচ্চা মুরগী সরবরাহকারীরা বাচ্চা মুরগী সরবরাহ করেন। মুরগী বিক্রির সময় স্থানীয় পাইকারদের জানা থাকে। তারা খামার থেকে সরাসরি মুরগী কিনে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হাতে নগদ অর্থ লেনদেন হয়। মাছ স্থানীয় পাইকাররা না কিনলে আশপাশের বাজারের আড়তে নগদ টাকায় বিক্রি হয়। যা শুধু খুলনা অঞ্চলেই নয়; সারাদেশেই প্রচলিত একটি ব্যবসায়িক রীতি। কারণ রাজধানীর আড়তগুলোতেও প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার নগদ লেনদেন হয়। সেখানে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ লেনদেন হয় খুবই সামান্য।
এছাড়া তানভীর পোল্ট্রি ফার্মে উৎপাদিত মুরগী-ডিম স্থানীয় বাজারে ও পাইকারদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানীতেও পাঠানো হয়। কিছু মুরগী হালাল উপায়ে জবাই করার পর কোল্ড স্টোরে ফ্রিজিং করে রাখা হয়। স্থানীয় বাজারে প্রায়শই মুরগীর দাম পড়ে যায়। এক্ষেত্রে লোকসান ঠেকাতে ও অধিক লাভের আশায় তানভীর পোল্ট্রি কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক চ্যানেল ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করেন। তানভীর পোল্ট্রি ও তানভীর ফিসারিজের মালিক মোহাম্মদ আবু সাঈদ পুরনো পুস্তক ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের কারিকুলামের আলোকে বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক, কিতাবাদী, কওমী শিক্ষা ধারার বিভিন্ন মৌলিক কিতাব, অভিধান এবং সেই সঙ্গে ধর্মীয় পুস্তক, আল কোরআনসহ বিভিন্ন পুস্তক ব্যাপকভাবে প্রকাশনা ও বাজারজাত করেন। সারাদেশে থাকা তাদের পুস্তক বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে খামারে উৎপাদিত মুরগী বাজারজাত করার ব্যবসায়িক কৌশল প্রয়োগ করেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় পরবর্তীতে তা বাদ দেওয়া হয়।
কেউ কেউ অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন যে, তানভীর ফিসারিজ যে জমিতে সাইবোর্ড পুঁতে রেখেছেন সেখানে মাছ চাষের প্রমাণ মিলেনি! তারা কিসের ভিত্তিতে এই কথা বলেছেন সেটা আমাদের জানা নেই। তারা বলে বেড়াচ্ছেন ‘‘আবু সাঈদ ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং এসব অর্থের বৈধতা দিতে কৃষিভিত্তিক ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠান গড়ে আয় দেখাচ্ছেন।’’ এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে; কিসের ভিত্তিতে তারা ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের কথা বলছেন? তাদের কাছে এর স্বপক্ষে কি প্রমাণ আছে? তাছাড়া এনবিআর তানভীর ফিসারিজ ও তানভীর পোল্ট্রির খামারগুলো সরেজমিন তদন্ত করেছে। এনবিআরের কর অঞ্চল-৭ এর ১৪১ কর সার্কেলের সার্কেল কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশন পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করন কর পরিদর্শক এস এম শামসুল আলম। এনিবিআরের সরেজমিন তদন্তে তানভীর ফিসারিজ ও তানভীর পোল্ট্রির দাখিল করা তথ্য এবং নথিপত্রের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে করদাতার (আবু সাঈদ) বিয়োগ, পোল্ট্রি ও ফিসারিজসহ যাবতীয় তথ্য ‘সঠিক বলিয়া প্রতিয়মাণ হওয়ায় মানিয়া লইয়া যাইতে পারে’ মর্মে মন্তব্য করছেন। ২০১৬ সালের ১১ আগষ্ট করা সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে রাজস্ব পরিদর্শক ‘করদাতার মাছ চাষের ধরন ও এলাকার অনুকুল পরিবেশের কথাও উল্লেখ করেছেন। আবু সাঈদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত মৎস ও পোল্ট্রিতে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬১ টাকাসহ মোট ৯ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৫৮৮ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেছে। যা আপিলের পর ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিমাংসিত ও নির্দেশিত।
তানভীর পোল্টির ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম জানান, এছাড়া তানভীর ফিসারিজের একটি চুক্তিপত্রে কম্পোজজনিত ভুলে এক জায়গায় ‘রেখা ফিসারিজ-এর নাম এসেছে। এটা নিয়েও একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আল ফাতাহ পাবিলকেশন্স এবং তানভীর ফিসারিজ ও পোল্ট্রির সত্ত্বাধিকারী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে কোন অভিযোগ ছিল না। আ জ ম জিয়াউল হক নামে একজন কর কমিশনারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদকের জনৈক অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাকে তলব করেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কর কমিশনারের অনুসন্ধানের সঙ্গে আবু সাঈদের নাম জড়ানো হয়েছে। তিনি কমিশনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যাবতীয় বক্তব্য দিয়েছেন। তারপরও কতিপয় ব্যক্তি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অসৎ উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রকারি কুচক্রী মহল তানভীর ফিসারিজ ও পোল্ট্রিকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81