02/27/2025
বিশেষ প্রতিবেদক | Published: 2023-12-29 08:23:35
২০২৩ সাল ছিল বাংলাদেশে মেগা প্রকল্প সমূহের সফল বাস্তবায়নের বছর। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প দেখেছে, যা মেগা প্রকল্প হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ হিসেবে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য কার্যকরভাবে বীজ রোপণ করছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয় পাবনার রূপপুরে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া সরকার ঋণ দিচ্ছে ১ হাজার ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার (১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি (ডলারপ্রতি ১০৮ টাকা ধরে)। এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য এটিই হচ্ছে সরকার কর্তৃক গৃহীত সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সংযোগ সড়কসহ এটির দৈর্ঘ্য হবে ৪৬.৭৩ কিলোমিটার এবং ব্যয় হবে ৳১২২ বিলিয়ন টাকা।
চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর তারিখে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের মূল কাজ শেষে এ প্রকল্পের উদ্বোধন হয় ২৮ অক্টোবর। এর মাধ্যমে টানেলের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
এই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার। এই সুড়ঙ্গটি বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নদী তলদেশের প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গপথ।
পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে
বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে। রাজধানীর বুকে এই ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১২ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে নতুন শহর পূর্বাচলের সাথে যুক্ত হবে নগরীর বাকি অংশ।
সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। যা ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদনের ৮ বছর পরে শেষ হয়।
পদ্মা ব্রিজ রেলওয়ে প্রজেক্ট
সেপ্টেম্বরে পদ্মা সেতু দিয়ে চালু হয় ট্রেন চলাচল। সেতুটির উপরের তলা দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল করছে এবং নিচতলা দিয়ে ট্রেন।
দেশের দীর্ঘতম সেতুটি দিয়ে ট্রেন চলাচলের কারণে ভাগ্য বদলে যাবে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের। ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য অন্যতম মাধ্যম এই প্রজেক্টি।
ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল
গত ৭ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
বৃহৎ এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে অবশ্য প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে।
এই টার্মিনালের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন হবে মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিং। দুই লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া।
কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প
গত ১১ নভেম্বর ১৮ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হয় কক্সবাজার, তথা ঢাকাসহ সারাদেশ।
দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মায়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মেগা প্রকল্প হিসেবে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এই ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার।
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯টি। এরমধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ১১৮টি, সমীক্ষা প্রকল্প ২২টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮০টি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান/ করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ৮৯টি। নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০টি মেগা প্রকল্পে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সরকারের ট্রাম্প কার্ড হবে দেশের মেগা প্রকল্পগুলো।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81