02/26/2025
বরকত উল্লাহ মারুফ | Published: 2024-02-28 14:36:01
আবুধাবীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ত্রয়োদশ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনস্থলে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মৎসজীবীদের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয় ২৭শে ফেব্রুয়ারি, যেখানে ক্ষুদ্র মৎসজীবীদের সহায়তা বন্ধ না করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে বেসরকারি প্রতিনিধিরা বলেন, এসডিজির ১৪.৬ নম্বর লক্ষ্য অর্জনের জন্য অতি মৎস আহরণ ও অতি সক্ষমতা উৎসাহিত করে এমন ভর্তুকি বন্ধ করার কথা বলছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আগত মন্ত্রীরা। কিন্তু তারা অতি মৎস আহরণের জন্য যারা দায়ী, তাদের দিকে তাকাচ্ছেন না।
বিভিন্ন দেশ থেকে মৎসজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আবুধাবীতে এসেছেন তাদের বক্তব্য সম্মলনে অংশ নেয়া মন্ত্রীদের কর্ণগোচর করতে।
ভারতের ন্যাশনাল ফিশওয়ার্কারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ওলেনশিও সিমোয়েস বলেন, “ভারতে মৎসজীবীর সংখ্যা প্রায় দশ কোটি এবং তাদের ৬১% দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মৎস ভর্তুকি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে ভারতের ক্ষুদ্র, ব্যক্তি পর্যায়ের ও আদিবাসী মৎসজীবীদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। ভারত যেহেতু তার ক্ষুদ্র মৎসজীবীদের বাঁচানোর কথা বলে, ভারতের উচিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় দেন দরবার করে এই দরিদ্র মৎসজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরার সীমা ১২ নটিক্যাল মাইলের উর্ধে নিয়ে যাবার জন্য স্পেশাল এন্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট আদায় করা। দরিদ্র মৎসজীবীদের অবাণিজ্যিক মৎস আহরণ ও তাদের সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে তাদের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মৎস আহরণের সীমা অনুমোদন করা উচিত।
ইন্দোনেশিয়া পিপলস কোয়ালিশ ফর ফিশারিজ জাস্টিস (কিয়ারা)-র ফাইকারমান সারাগি বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২৪ লাখ মৎসজীবী আছেন। এর বাইরেও বহু নারী মৎস খাতে জীবিকায়নে নিযুক্ত আছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন মৎস ভর্তুকি চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইন্দোনেশিয়ার বহু আইন ও সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে, যেখানে বলা আছে ক্ষুদ্র মৎসজীবীদের জীবন রক্ষার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেবে যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ভর্তুকি, মৎস বীমা, জীবন বীমা, সমুদ্রে মাছ ধরা বিষয়ক ঝুঁকি বীমা, মাছের ন্যায্য মূল্য ইত্যাদি। প্রস্তাবিত চুক্তি মৎসজীবীদের জন্য ভালো হবে না।
বাংলাদেশের কোস্ট ফাউন্ডেশনের বরকত উল্লাহ মারুফ বলেন, বাংলাদেশে মৎস খাতে যে ভর্তুকি দেয়া হয় তা সমুদ্রগামী মৎসজীবীদের সক্ষমতা উন্নয়ন বা প্রযুক্তিগত সহায়তা নয়। বরং ভর্তুকির বড় অংশই হচ্ছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় দরিদ্র মৎসজীবীদের জীবন ধারনের জন্য খাদ্য সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থান। যেহেতু মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাটা মূলত সমুদ্রে মাছের বংশবিস্তারের জন্য, সেহেতু বলা যায়, বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মৎস বিষয়ক মূল লক্ষ্যের জন্যই ভর্তুকি দিচ্ছে। এটি অর্থহীন। এদিকে বাংলাদেশ সমুদ্রে বৈশ্বিক মোট মৎস আহরণের ০.৮% অতিক্রম করে ফেলেছে, কাজেই তারা মৎস খাতে আর ভর্তুকি দিতে পারবে না।
প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক অন গ্লোবালাইজেশনের এডাম উলফেনডেন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এই মন্ত্রী সম্মেলনে আনীত প্রস্তাবিত সমুদ্রে মৎস সম্পদ ধ্বংসের মূল হোতা, বৃহৎ আকারের মৎস নৌবহরগুলোকে দায়ী করতে ব্যর্থ হয়েছে, যারা বৈশ্বিক মৎস সম্পদকে বিলুপ্তির পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। চুক্তির ব্যর্থতার কারণে বৃহৎ মৎসজীবীরা মাছ ধরা অব্যাহত রাখবে আর ভর্তুকির অভাবে তার দায়ভার বহন করবে দরিদ্র দেশের আরো দরিদ্র মৎসজীবীরা।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81