01/11/2026
শাহীন আবদুল বারী | Published: 2026-01-10 14:00:29
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের পতাকা বহন করে এগিয়ে যাবেন তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এই প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৯২ সালে রাজনীতিতে পা রাখেন তারেক রহমান। ৩৩ বছর পর দলের পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। ভারমুক্ত হয়ে চেয়ারম্যান হলেন। ২০১৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকেই দলের স্টিয়ারিং তাঁর হাতেই ছিল। দেশের বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলের প্রধানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ।তারেক রহমানের সাফল্য কামনা করেছে দলের নেতাকর্মীরা।
শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো গভীর দেশপ্রেম, মহান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা, প্রশ্নাতীত সততা; সত্যিকারের গণতন্ত্রের চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পরমতসহিষ্ণুতাকে পাথেয় করে এগিয়ে যাবেন তারেক রহমান সেই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
আপোষহীন, ন্যায়ের জন্য জেল জুলুমের তোয়াক্কা করেননি গণতন্ত্রের মানস কন্যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর স্বামী ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি ছিলেন ধর্মভীরু ও আধুনিক রাষ্ট্রনায়ক। তার সততা, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, স্বাধীন-সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী রাজনীতি তাকে অমর করে রেখেছে।
বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের ছোঁয়া এবং বাবার আদর্শকে ধারণ করে হয়ে উঠছেন পাকাপোক্ত রাজনীতিবিদ। তিনি দেশের মানুষের কাছে আশা-ভরসার স্তম্ভ। দেশ গড়ার লক্ষ্যে তারেক রহমান হাঁটছেন বাবা-মায়ের পথে। তাঁর সুদূরপ্রসারী ভাবনায় দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। এই স্বপ্ন পূরণে তারেক রহমান ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। চারিদিকে অন্ধকার, অনিশ্চয়তা আর ষড়যন্ত্রে ঘেরা এই সময়ে তারেক রহমানের ৩১ দফা বিএনপি তথা দেশবাসীর জন্য আস্থার ফলন। যা বাস্তবায়ন হলে সর্বস্তরের মানুষ ৫৪ বছরের গ্লানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
নির্বাচনের এই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সুশৃংখল ও পরিপূর্ণভাবে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে নেতার ৩১ দফা পৌঁছে দিতে হবে। অলস মানুষদের পড়ে শুনাতে হবে কি আছে তারেক রহমানের ৩১ দফায়। তাহলেই সুফল আসবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে।
বিএনপির ডানে-বামে ঘুরাফেরা করা একটি রাজনৈতিক দল তারেক রহমানের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। তাদের নিয়োজিত ভিউ ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা অশ্লীল ভিডিও এবং কুৎসিত মন্তব্য করে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে। এক ধরনের অভাবী লোকজন টাকার বিনিময়ে ব্যবহার হচ্ছে। বিনয়ী তারেক রহমান ও বিএনপিকে দমাতেই তাদের এই বেহায়াপনা। এজন্য তারা আওয়ামী লীগকেও ভেতরে ভেতরে রসালো কোষ দিচ্ছে। তারেক রহমানের বিনয়ী আচরণ, রাজনৈতিক দক্ষতা, নিখুঁত চেষ্টা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার কাছে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলকারীরা ক্রমশ হার মানছেন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২৯ দফা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৩১ দফা বাস্তবায়নের উৎপাদনমুখী রাজনীতির এক দক্ষ কারিগর।
তারেক রহমানের সুচিন্তিত পরিকল্পনায় দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবেশ ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় হবে সমাজের গর্ব। আতংক নয়, মানুষ যেন একজন রাজনীতিবিদকে দেখলে আনন্দিত হয়, শ্রদ্ধা করেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি স্বাধীনতার পর থেকে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বর্তমানে সেই ধারাকে অব্যাহত রাখতে তারেক রহমান বদ্ধপরিকর। জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে দলটি জাতীয় রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারেক রহমান হবেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর সততা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের মানুষের কাছে ইতিমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি নিরবে-নিভৃতে এগুচ্ছেন।
একটি সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের ভূমিকা অপরিসীম। আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ, কৃষির আধুনিকায়ন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার মতো কাজ বিএনপির অবদান হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতায় বিএনপি অন্য সব দলের তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে দলটির নতুন নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও পরিণত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তরুণ সমাজের প্রতি তারেক রহমানের অঙ্গীকার
বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে। কর্মমুখী শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক উদ্যোগ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং আইটি খাতকে প্রসারিত করার মাধ্যমে তরুণদের জাতীয় সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের। তিনি সাড়ে ৪ কোটি তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছেন। একই সাথে সাড়ে ৪ কোটি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাও করবেন। এই ফ্যামিলি কার্ডের মালিকানা হবেন গরীব অসহায় মানুষ।
বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে তারেক রহমান। নির্বাচনী ইশতেহারেও তিনি রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। যা জাতীয় জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিশা। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী এবং দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে ধরে রাখার জন্য তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দীর্ঘ বিরোধী দলীয় জীবন কাটানোর কারণে মাঠ পর্যায়ের সংগঠনে কিছুটা দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আধুনিক প্রচার কৌশল (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার) আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের মাঝে দলীয় ঐক্য ও নেতৃত্বের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে করণীয় সম্পর্কে তারেক রহমান সচেতন রয়েছেন। এছাড়াও যেসব আসনে বিএনপির একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করতে চান, তাদেরকে ডেকে কোন্দল মেটানোর চেষ্টা করছেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপি অনেক আসন হারাতে পারে বলেই তারেক রহমান নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে তা সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সম্পর্ক
বিএনপি সব সময়ই আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা করেছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মুসলিম বিশ্ব—সব দেশের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করার নীতি বিএনপির অন্যতম শক্তি বলে তারেক রহমান বিশ্বাস করেন করেন।
সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি হ্রাস, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ ও মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব বলে তারেক রহমানের আস্থা ও বিশ্বাস।
নানা প্রচারণা ও বিভ্রান্তি এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ'র মিথ্যা প্রচারণা অত্যন্ত দৃঢ় মস্তিষ্কে নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির নয়া চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলকে সু-সংগঠিত ও কার্যকর মিডিয়া কৌশল অবলম্বন করেছেন।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এগুলো মোকাবিলায় দৃঢ় নীতি অবলম্বন করেছেন তারেক রহমান।
যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণ
যুব সমাজ দ্রুত কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে যুগোপযোগী পরিকল্পনা রয়েছে। সময়োপযোগী কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের আগে জনগণের মাঝে শান্তিপূর্ণ প্রচার অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনী ইশতেহার স্পষ্টভাবে প্রচার করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক ও উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি। এই শক্তিকে সুসংগঠিত করার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও জনসমর্থন। বিএনপি তার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের জনগণকে একটি ইতিবাচক ভবিষ্যতের দিশা দেখাতে চান। বিএনপির শক্তি ও সুযোগ যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা যথাযথ নীতি ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অতিক্রম করা সম্ভব বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়িত্বশীল ও উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা এখন অপরিহার্য।
চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং হাইব্রিড নেতাকর্মীদের দলে ঠাঁই হবে না বলে কঠিন নির্দেশনা ও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারেক জিয়া।
তিনি বলেছেন, দলের ভেতরে যারা এসবের সাথে জড়িত তাদেরকে কোনক্রমেই পদ-পদবিতে রাখা হবে না। উপরন্ত তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন। তাতে দল ও দেশের মানুষের উপকার হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলীয় কিছু নেতাকর্মী দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। যার সুযোগ নেয় অন্য একটি রাজনৈতিক দল। এতে বিএনপির প্রতি আপামর জনসাধারণ কিছুটা বিরক্ত হয়। কারণ আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করলে দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নস্যাৎ হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ, মেধাবী, শিক্ষিত, মার্জিত, নম্র-ভদ্র এবং ত্যাগীরা প্রাধান্য পেলে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করবে। অনেক কর্মী আছেন, যারা কোন পদে না থেকেও নিজের অর্জিত টাকায় নেতাকর্মী ও দলের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। তাদেরকে গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। নারীদের ভূমিকাও অপরিসীম। দেশের নারী ভোটাররা বিএনপিকে বিগত দিনে ভোট দিয়ে জয়ের পাল্লা এগিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপির নেতা ও প্রার্থীদের আচরণ এবং বক্তৃতায় অনেকটাই শৃংখলা ফিরে এসেছে।
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে যতগুলো জরিপ হয়েছে সবগুলোতেই বিএনপি ও জামাতের মধ্যে খুব ক্লোজ ব্যবধান দেখা গেছে। একই সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ সিদ্ধান্তহীন ছিল। মূলত খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের কারণে নেতৃত্বের যে সংকট সেটাই মানুষকে সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রেখেছিল। কিন্তু তারেক রহমান দেশে আসার পরে এবং তার বক্তব্য, আচরণ, বিনয়, উদারতা সবকিছুই মানুষকে মুগ্ধ করেছে। ফলে সিদ্ধান্তহীন মানুষ গুলো খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তারেক ম্যাজিক বা তারেক টনিক বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না।
‘খালেদা জিয়া-উত্তর’ যুগে প্রবেশ করেছে বিএনপি, তাঁর উত্তরাধিকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে নিতে পারবেন কী না সেটি নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলছেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা দলটিকে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে বড় ভূমিকা পালন করত। সেই ছন্দে এখন বিঘ্ন ঘটবে। তারেক রহমানকে এখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের নেতৃত্ব প্রমাণ করতে হবে। তাঁর নেতৃত্ব এখনও পরীক্ষিত নয়।’
মহিউদ্দিন আহমদ মনে করিয়ে দেন, খালেদা জিয়া নিজেও একসময় রাজনীতিতে অপরীক্ষিত ছিলেন। আশির দশকে সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিরোধী গণ-আন্দোলনের সময় তিনি জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। তাঁর স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
মহিউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য একইভাবে ভাগ্যনির্ধারক হতে পারে: সাফল্য তার নেতৃত্বকে বৈধতা দেবে আর ব্যর্থতা তার নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
বিএনপিকে এখন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মাঠে লড়তে হচ্ছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় ইসলামি শক্তিগুলোর নেতৃত্বাধীন জোট রয়েছে। জামায়াতের এই জোটে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র (মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি) মতো দলও আছে। এই দলটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের তরুণ নেতাদের গঠিত রাজনৈতিক দল, যারা শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করেছেন। তাই বলাই বাহুল্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81