31007

01/14/2026

মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক: দরিদ্রবান্ধব অর্থনীতির জন্য একটি বিপজ্জনক পরীক্ষা

রেজাউল করিম চৌধুরী এবং মোস্তফা কামাল আকন্দ | Published: 2026-01-14 16:45:13

বিদ্যমান এনজিও–এমএফআই কাঠামোই কার্যকর; নতুন ব্যাংক প্রস্তাব দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের মাইক্রোক্রেডিট খাত কোনো প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। ঋণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও নারীর ক্ষমতায়নে সমন্বিত সেবা—যা ‘মাইক্রোক্রেডিট প্লাস’ মডেল নামে পরিচিত—এই খাতকে আন্তর্জাতিকভাবে অনন্য করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক (MCB)’ কাঠামো দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উন্নয়ন সংগঠনগুলো।

সংগঠনগুলির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “এনজিও-এমএফআইগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং বিদেশি দাতা সংস্থার কঠোর নজরদারির মধ্যেই এই খাত পরিচালিত হচ্ছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বিদেশি তহবিল কমেনি; বরং স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণেই আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি হয়েছে।”

কোস্ট ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক জনাব রেজাউল করিম বলেন , “মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক চালু হলে বিদেশি তহবিল পাওয়া কঠিন হবে এবং একটি নতুন ও অনিশ্চিত ইকোসিস্টেম তৈরি হবে, যা দরিদ্রবান্ধব অর্থায়নের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”

বিডি-সিএসও প্রসেসের সচিবালয় সমন্বয়কারি মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন -প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রতিযোগিতা অসম হয়ে উঠবে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। “মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে সহজে ঋণ নিতে পারবে, এমনকি ব্যাংক সনদের মাধ্যমে আইনি সুবিধা পাবে—যা এনজিও-এমএফআইগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়,” বলেন তিনি।
সংগঠনগুলি বিশেষভাবে ছোট ও মাঝারি

এনজিওগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এই সংগঠনগুলোই গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করে। ব্যাংক কাঠামো চাপিয়ে দিলে এই সামাজিক সেবাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বিবৃতিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়। “অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ এবং একাধিক ব্যাংকের সংকট দেখিয়েছে যে ব্যাংকিং মডেল সব খাতের জন্য উপযোগী নয়,” বলা হয়।

সংগঠনগুলির দাবি, “খাতটির প্রকৃত সমস্যা—আত্মসাৎ, ডুপ্লিকেশন ও স্বল্প পুঁজি—সমাধানে নতুন ব্যাংক নয়, বরং বিদ্যমান এনজিও-এমএফআই কাঠামোর সংস্কারই যথেষ্ট ও কার্যকর।”

প্রকাশিত বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, তাদের এই অবস্থান তৃণমূল বাস্তবতার প্রতিফলন। বিডিসিএসও প্রসেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের ৫৪৫টি স্থানীয় পর্যায়ের এনজিও, আর ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭০টি অংশীদার সংগঠন, যা দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিনিধিত্ব করে।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81