01/15/2026
মোস্তফা কামাল আকন্দ | Published: 2026-01-15 18:08:19
বাংলাদেশের এনজিও খাত জন্ম নিয়েছিল মানুষের অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের লড়াই থেকে। রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এনজিও—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তৈরি করেছে টিকে থাকার পথ। কিন্তু আজ সেই এনজিওগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকে রূপান্তরের নামে যে “সংস্কার” চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে—তা মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত অর্থনৈতিক আক্রমণ।
এই রূপান্তর কোনো উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ নয়; এটি মানবিক খাতকে কর্পোরেট খাঁচায় বন্দি করার কৌশল। এনজিও ছিল মানুষের সংগঠন—আজ তা পরিণত হচ্ছে মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে। মাঠপর্যায়ের কর্মী; যারা একসময় মানুষের দুঃসময়ের সহযাত্রী ছিলেন, এখন ঋণ আদায়ের যন্ত্রে পরিণত হচ্ছেন। মানবিকতা এখন “ঝুঁকি”, সহমর্মিতা “অদক্ষতা”, আর দরিদ্র মানুষ কেবল “ডিফল্ট রিস্ক”।
ক্ষুদ্রঋণ একসময় ছিল মুক্তির হাতিয়ার; আজ তা শোষণের বৈধ কাঠামো। ব্যাংকিং নিয়মের বেড়াজালে পড়ে উন্নয়ন হারাচ্ছে তার আত্মা। মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগ বদলে যাচ্ছে উপর থেকে চাপানো কর্পোরেট সিদ্ধান্তে। অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন সরে গিয়ে জায়গা নিচ্ছে ঋণকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক মডেল—যেখানে মানুষ নয়, লাভই শেষ কথা।
এর পেছনে সক্রিয় এক শক্তিশালী স্বার্থচক্র—রেগুলেটরি সংস্থা, নীতিনির্ধারক এবং কর্পোরেট লবি। “আর্থিক শৃঙ্খলা” ও “দক্ষতা বৃদ্ধির” নামে তারা বাস্তবে ধ্বংস করছে মানবিক উন্নয়নের দীর্ঘদিনের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রেসক্রিপশনে গরিবের জন্য গড়ে ওঠা কাঠামো রূপ নিচ্ছে গরিবের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থায়।
উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচক নয়—এটি মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন। এনজিওকে ব্যাংকে পরিণত করার এই প্রক্রিয়া সেই আদর্শের সরাসরি বিরোধী। এটি দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে এক নীরব অর্থনৈতিক যুদ্ধ।
সময় এসেছে কঠিন প্রশ্ন করার—উন্নয়ন কাদের জন্য? কার স্বার্থে? এই আগ্রাসী রূপান্তরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আজ রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। নইলে ইতিহাস লিখবে—মানবিক উন্নয়নকে আমরা কর্পোরেট লোভের কাছে পরাজিত হতে দিয়েছিলাম।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81