01/28/2026
বিশেষ প্রতিবেদক | Published: 2026-01-28 19:17:18
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই তা কমাতে পারছে না। এমতাবস্থায় ঋণখেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি তাদের নাম ও ছবি প্রকাশের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে চিঠি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ।
গভর্নরকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে খেলাপি ঋণের আংশিক অবলোপনের সুযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে লিয়েনকৃত খেলাপি ঋণ নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মৃত্যু, মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহঋণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা, তাদের নাম ও ছবি প্রকাশ এবং যেকোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে নিলামে বিক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপর সব ধরনের আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার, নিলাম ক্রেতাদের জন্য আয়কর রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নিলামকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট জামানতদাতাদের সম্পদ, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পাসপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চাহিবামাত্র পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে মামলার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে এবিবি।
এছাড়া ব্যাংক বা আদালতের কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। সিভিল মামলার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার গ্রহণের সুযোগ আইনিভাবে সীমিত করার পাশাপাশি স্টে-অর্ডার প্রদানের সময় উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এবিবির প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, যেসব জেলায় খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেশি, সেখানে অবিলম্বে পৃথক অর্থ ঋণ আদালত স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে থানাসমূহে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত আটকাদেশ দ্রুত তামিল এবং আদালত থেকে সাত দিনের মধ্যে থানায় আটকাদেশ প্রেরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অর্থ ঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ বাতিল এবং দেওয়ানি আটকাদেশের মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণভেদে সর্বোচ্চ সাত বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পতম সময়ে অর্থ ঋণ আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি রোধে এবিবি জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীদের তালিকা প্রকাশ, নিবন্ধক ও তহশিল অফিসে বন্ধকি সম্পদের তালিকা সহজে যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং সিআইবি ডেটাবেজের মতো বন্ধকি সম্পদের পৃথক ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
এবিবির মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে খেলাপি ঋণ আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81