02/04/2026
শাহীন আবদুল বারী | Published: 2026-02-04 10:27:56
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্তত পাঁচ ডজন বিদ্রোহী প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছে। দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভেঙে ভোটের মাঠে সরব বিদ্রোহীরা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা কার স্বার্থে, কার ইন্ধনে নির্বাচন করছেন তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। দলের ক্ষতি সাধনে অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী সরগরম। তারা ভুলে গিয়েছেন অতীতের নির্যাতন-নিপীড়ন ও জেল-জুলুমের কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফোন করে বা ডেকে এনে থামিয়ে দেয়া জরুরি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন,আওয়ামী লীগ নির্বাচন না করাতে জামাত এখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। অধিকাংশ আসনে জামাত বিএনপির সাথে টক্কর দেয়ার মতো অবস্থান গড়ে তুলেছে। তাছাড়া জামাতের মধ্যে কোন ধরনের কোন্দল নেই। কিন্তু বিএনপির অধিকাংশ আসনে দলীয় কোন্দলের সুযোগ নেয়ার চেষ্টায় মরিয়া জামাত।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কাকে ভোট দিবে তা পরিস্কার নয়। তাছাড়া প্রতিটি জেলায় বিএনপির বিদ্রোহী যে সব প্রার্থী স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন, তার একটি প্রভাব সংগত কারণেই দলীয় অন্যান্য আসনেও পড়তে পারে। এজন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়গুলো আমলে নিলে বিএনপির জন্য আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সহজ হবে।
ওয়াকিবহাল সূত্রমতে, বিএনপির প্রার্থীরা নির্দ্বিধায়, নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে সক্ষম হচ্ছেন না। তারা মানসিক চাপের মধ্য দিয়েই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রক্ষান্তরে জামাত এর থেকে আলাদা। তারা নির্বাচনী ক্যারিশমায় বিএনপির চেয়ে ঢের এগিয়ে। গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। বিএনপির জনপ্রিয়তা দেশব্যাপী যথেষ্ট। কিন্তু দলীয় কোন্দল, জামাতের নানা অপপ্রচার-মিথ্যাচারে বিএনপির অনেক বড় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বিএনপির অনেক হেভিওয়েট নেতা এবং প্রার্থীরা ভাবছেন ১২ ফেব্রুয়ারী অনায়াসে জিতে যাবেন। কিন্তু মাঠ জরিপে ভিন্ন চিত্রও হতে পারে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শত ব্যস্ততার মধ্যেও গুরুত্বসহকারে বিষয়গুলো দ্রুত আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে কাঙ্খিত ফলাফলে বিপর্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক করার কিছুই থাকবে না। তখন দেয়ালের সাথে মাথা আছড়িয়েও লাভ হবে না।
বিএনপির দলীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, দলের শীর্ষ নেতাদের দ্রুত চেয়ারম্যানকে সাহস করে কথাগুলো অবগত করা দরকার। তিনি ব্যস্ততার মধ্যেও বিষয় গুলো আমলে নিবেন। যারা তারেক রহমানের কাছে সব সময় থাকেন, তাদের উচিত নেতাকে মাঠের সার্বিক চিত্র অবগত করানো। সময়মত না করলে এটি বিষফোঁড়া হয়ে উঠবে। আর যারা এখন তেলের ড্রাম নিয়ে নেতার পেছনে পেছনে ঘুরঘুর করেন, তাদের কাউকেই তখন পাওয়া যাবে না। যেকোন মূল্যে জনগণের প্রশংসা কুড়িয়ে বিএনপি সরকার গঠনের মোক্ষম সময় এসেছে। এই সুবর্ণ সুযোগ কোনওভাবে হাতছাড়া হলে বিএনপি আরো একযুগ পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিদ্রোহীরা। এটি দলটির জন্য খুবই অস্বস্তিকর। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দলের মধ্যে টেনশন বাড়ছে—বিদ্রোহীরা না পরে গলার কাঁটা হয়ে ওঠেন। এই ভাবনা থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি।
তৃণমূলে বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে না দাঁড়ালে চিরতরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। যারা এরপরও দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাঁরা কখনোই আর দলে ফিরতে পারবেন না। এমনই হার্ডলাইনে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে বহিস্কারের লাইন দীর্ঘ না করে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহীদের ঘরে ফিরিয়ে আনাই দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বিদ্রোহী অনেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়াতে চান। কিন্তু তাঁরা চান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের ফোন করে বলুন। তাহলে তাঁরা সরে যাবেন।
কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান এখন সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি কাউকে ফোন দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। আর তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তাকে সমর্থন দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী যিনিই হন না কেন, তাকে সরে যেতে হবে। কিন্তু মাঠের বিবেচনায় বিদ্রোহীরাই বিএনপির জন্য বিষফোড়া। যা একমাত্র দলীয় প্রধান ছাড়া কেউ সমাধান দিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে একজন বিদ্রোহী আলাপচারিতায় বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকলে অনেক আগেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকে এনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করাতেন। তিনি ছিলেন আনপ্যারালাল লিডার।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, কয়েকটি আসনে কৌশলগত কারণে বিদ্রোহীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। সেসব আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হবে না। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী যাতে ওই সব আসনে বের হতে না পারে, সেখানে ‘বিদ্রোহীরা ছাড়’ পাবেন। এছাড়া যেসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ধানের শীষের প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের বিষয়ে দলের কঠোর অবস্থান রয়েছে। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজীবন দলে ফেরার সুযোগ বন্ধ হতে পারে। তবে সঠিক ও বাস্তবতা হচ্ছে, এর সমীকরণ কতোটুকু করতে পেরেছে তা ভাবার বিষয়। এমন যেন না হয় যে, ভুল সমীকরণে ভোটযুদ্ধে ধস নামে।
বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার পরও অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ জন প্রার্থী এখনো ভোটের মাঠে টিকে আছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। দল যাকে প্রার্থী করেছে, নির্বাচনে সেই প্রার্থীর টিকে থাকা নিয়ে সংকট তৈরি হলে আমি প্রত্যাহার করতে পারিনি। দল চাইলে এখনো আমি ঘোষণা দিয়ে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর পক্ষে কাজ করবো। তবে তা যেন ৫ ফেব্রুয়ারির আগে হয়। সম্মানজনক আশ্বাস পেলে আমি প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াব।
মোস্তাফিজের মতো অনেকেই বর্তমানে তারেক রহমানের ফোনের অপেক্ষায় আছেন। এই প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘দলীয়ভাবে অনেকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত আছেন। তাই উনার কথা বলার মতো সুযোগ নেই। দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির সব বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
ময়মনসিংহ-১০ (পাগলা ও গফরগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এ বি সিদ্দিকুর রহমান। আঞ্চলিক সমীকরণে ধানের শীষের প্রার্থী বেকায়দায় পড়তে পাড়েন। এই আসনের দক্ষিণাঞ্চলে আট ইউনিয়নে ভোটের সংখ্যা যেমন বেশি, প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। এই অঞ্চলে বিএনপির প্রার্থীসহ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও আছেন জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এলডিপির প্রার্থী। এছাড়া এই আসনে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমান একাই পুরো মাঠ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। যদিও বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসছেন। অনেকেই এখন বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে একাট্টা হয়ে কাজ করছেন। তবে দুই অঞ্চলের বিভাজনে বিএনপির প্রার্থীর ওপর বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ময়মনসিংহ-১১ আসনে (ভালুকা) বিএনপির প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোরশেদ আলম। ভোটের মাঠে থাকার বিষয়ে তিনি অনড় আছেন।
মোরশেদ আলম বলেন, ‘নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে নির্বাচনে লড়াই করতে হচ্ছে। শুরুর দিকে কিছুটা খারাপ থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে কিছুটা পরিবেশ ফিরে আসছে। ধানের শীষের প্রার্থীর লোকেরা খুব ডিস্টাব করেছেন বলে জানান তিনি।
বিদ্রোহী এই প্রার্থী আরো বলেন, ‘দল থেকে এখনো কেউ যোগাযোগ করেননি। এখন তো সময় চলে গেছে। প্রত্যাহার করারও সুযোগ নেই। আমি ভোটের মাঠে আছি, প্রচারণা চালাচ্ছি।’
জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত এবং আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কেউ যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতেই পারেন।
ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর এ আসনে কোনো প্রভাব নেই। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন।’
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ২১ জানুয়ারি একসঙ্গে ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর আগে এবং পরে আরো কয়েক ধাপে একাধিক প্রার্থীকে বহিষ্কার করে দলটি। দলীয় নেতাকর্মীরা আগে ‘দলীয় ভাই’ হিসেবে যে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর অনেকের প্রভাবে ভাটা পড়েছে। ফলে ভোটের মাঠে বিদ্রোহীরা কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন কেন্দ্রীয়ভাবে তারও খোঁজ রাখা হচ্ছে।
তৃণমূলে মনিটরিং করা হচ্ছে কারা বিদ্রোহীদের পক্ষে ভোটের মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। তবে বহিস্কারের কোন বিরূপ প্রভাব ভোটারদের মাঝে পড়বে কিনা তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিএনপি মোটেও চিন্তিত নয় জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করা হয়েছে। দলীয়ভাবে তাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে আমরা যোগাযোগ করেছি, কথা বলেছি, নির্বাচন করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেননি, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখনও যারা দলের বাইরে কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এরই মধ্যে বিএনপির অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। এখনো ৬০ থেকে ৬৫ জন আছেন। তারাও সরে যাবেন বলে আশা করছি। দল থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন বলেন, ‘বিদ্রোহীদের ব্যাপারে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো অধিকাংশই ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবেন।’
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে জোটের শরিক হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব। তবে সাইফুলের পক্ষে বিএনপির ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার মাঠে নেমেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন তিনি। খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই নীরব—এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে স্থানীয়রা বলেছেন, নীরব শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী। তাকে বসিয়ে দিলে বিএনপি আসনটিতে জিতে যাবে।
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি)। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দারুসসালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু)। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। দলের সমর্থন না থাকায় বেকায়দায় আছেন সাজু। দলীয় সমর্থন পেলে হয়তো ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু দুইজনের কামড়াকামড়িতে জামাত ঢুকে পড়লে অবস্থা বেগতিক হবে।
দলীয় সমর্থন না পেয়ে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী বেকায়দায় রয়েছেন। সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগাতে না পেরে ভোটের মাঠে ‘একা’ হয়ে যাচ্ছেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে দুই শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। দলীয় সমর্থন নিয়ে ধানের শীষ প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এই আসনে সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার ইয়াসির আরশাদ রাজনও এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী। ফলে শেষ রেজাল্ট কি হবে, কে এমপি হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এই আসনটি টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টুকুর সমর্থন বাড়লেও জামাত-বিদ্রোহী মিলে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ি, কুড়িগ্রাম-৪, রাজবাড়ী-২, চট্টগ্রাম-১৬, সুনামগঞ্জ-৪, টাঙ্গাইল-৩, ময়মনসিংহ-৩, জয়পুরহাট-১,বাগেরহাট-৪, রাজশাহী-৫, নাটোর-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৩ ও টাঙ্গাইল-৮ আসনেও বেকায়দায় বিএনপি প্রার্থী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই আসনে বিএনপির শরিক দলের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এছাড়াও শরিকদের ছাড় দেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, সিলেট-৫, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৫, নড়াইল-২ আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেক। দল থেকে এরই মধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন। এই আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জোনায়েদ সাকি। যদিও শুরু থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব রয়েছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভোটের মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় নির্দেশনা মেনে আমার সঙ্গেই প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে কিছু সমস্যা ছিল। এখন ঠিক হয়ে গেছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী নন যে তাঁর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা থাকবেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলটির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর ধরে তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এলাকায় তাঁর নিজস্ব নেতাকর্মী ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে শুরুতে তৃণমূলে দলের বড় অংশের নেতাকর্মী সরাসরি হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেন। দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পর মাঠের চিত্র বদলে গেছে। ভোটের রাজনীতির মাঠে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি।
বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘নির্বাচন একটা গেইম। এখানে নানা সমীকরণ থাকে। সব সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। কিছু কিছু জায়গায় ছাড় দিতে হয়। কয়েকটা আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। আমাদের টার্গেট থাকবে ওই সব আসনে জামায়াত যাতে বের হয়ে যেতে না পারে। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী কিছু ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী ছাড় পাবেন। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেছেন, কিভাবে বুঝবো কে হেভিওয়েট আর কে দুর্বল। তিনি মনে করেন, সময় থাকতে চেয়ারম্যান পদক্ষেপ নিলে বিএনপি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করবে।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81