32297

03/23/2026

বিষাক্ত বা 'টক্সিক' তকমা নয়, উন্মুক্ত সংস্কৃতির প্রসারে সমালোচনাকে উপভোগ করুন

রেজাউল করিম চৌধুরী | Published: 2026-03-23 11:44:04

সম্প্রতি আমার ভিনদেশি এক নেটওয়ার্কিং বন্ধুর কাছ থেকে আমি 'টক্সিক' (Toxic) শব্দটি শুনেছি। ঠিক একই শব্দ কয়েকমাস আগে আরও দুজন আন্তর্জাতিক বন্ধুর কাছ থেকেও শুনেছিলাম। পরবর্তীতে আমি উপলব্ধি করলাম যে, তারা আসলে এমন সব দেশ থেকে এসেছেন যেখানে দীর্ঘকাল ধরে একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরশাসন চলছে। তাদের সমাজে গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করা বা তথ্যের অবাধ প্রবাহের কোনো দীর্ঘ ঐতিহ্য নেই। আমি বুঝতে পারলাম, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু নির্দিষ্ট দেশের মানুষের সাথে আমার কেন সমস্যা হয়। আমি আরও দেখেছি, কিছু বন্ধু বিতর্কে জড়াতে চান না এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন; তারা মূলত একটি রুদ্ধ সমাজ এবং কঠোর অনুশাসনে বেড়ে উঠেছেন, তাই উন্মুক্ত সংস্কৃতিতে তারা অভ্যস্ত নন।

আমি আমার সমাজের সাথে তাদের পার্থাক্যটা স্পষ্ট বুঝতে পারি। আমাদের একনায়ক উপড়ে ফেলার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে; আমরা সবসময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং শিক্ষার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করি—তা সে এনজিও হোক বা নেটওয়ার্কিং। যারা সমালোচনা করেন, তাদের আমরা কখনোই 'টক্সিক' বলি না। যে সমাজে মানুষ একে অপরকে 'টক্সিক' বলে তকমা দেয়, তার মানে হলো আপনি একজনকে সমালোচনা করতে নিরুৎসাহিত করছেন। সমালোচনা সহ্য করা বা তা থেকে শেখার মানসিকতা ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সমাজ, নেটওয়ার্ক বা প্রতিষ্ঠান তার অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।

আমি যখন দ্বীপাঞ্চলে সুবিধাভোগীদের নিয়ে জনসংগঠন তৈরি করছিলাম, তখন নিয়মিত সভার এক পর্যায়ে তারা আমাদের তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করে। এমনকি একদিন আমার এক সিনিয়র সহকর্মী কেঁদেও ফেলেছিলেন। কিন্তু সেদিন আমরা অনুভব করেছিলাম যে আমরা সফল হয়েছি (কারণ তারা কথা বলতে শিখেছে)। আমাদের এনজিওগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক ছিল; এখন আমরা আলাদা হয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখনও আমাদের দেখা হয়, কুশল বিনিময় হয় এবং মাঝেমধ্যে আমরা সাধারণ কোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে অ্যাডভোকেসি করি। আমরা কখনোই একে অপরকে 'টক্সিক' বলি না বা সম্পর্ক ছিন্ন করি না। গণতন্ত্রের শুরুটা এখান থেকেই হয়—ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে, পরিবার থেকে পরিবারে, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানে এবং এভাবেই সমাজ ও রাষ্ট্রে। সর্বোপরি, আমাদের এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়েও সমালোচনা গ্রহণ করার ধৈর্য ও সহনশীলতা থাকে; এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি।

গতকাল ঈদের দিনে আমাদের এলাকার এক জনপ্রিয় মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। ঈদ উপলক্ষে মসজিদটি বিভিন্ন চমৎকার প্রবাদ এবং বাণীতে সাজানো হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বাণী আমার খুব পছন্দ হয়েছে: "জবাবদিহিতার ভাষা হয়তো শুনতে তিক্ত (টক্সিক) মনে হতে পারে, কিন্তু এর ফল অত্যন্ত মধুর।"


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81