32939

05/24/2026

টুকু অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

শাহীন আবদুল বারী | Published: 2026-05-24 14:58:05

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ত্যাগী নেতাকর্মীরাও মূল্যায়িত হচ্ছেন। টাঙ্গাইলে বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতি টুকুর হস্তক্ষেপে আগের চেয়ে বেশ চাঙ্গা। দলীয় নেতাকর্মীরা টুকুর উপর ভরসা রেখেছেন। আগামীতে সুন্দর, সাবলীল এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা কমিটিতে স্থান পাবেন। আর যারা দলীয় কোন্দল ও সুবিধা নিতে মরিয়া তাদের বিরুদ্ধে নিরব বিপ্লব হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই প্রতিবেদকে বলেন, টাঙ্গাইল সদরের প্রতিজন মানুষ আমার শক্তি ও সাহস। সর্বস্তরের মানুষের হাত ধরে এবং ভালোবাসা বুকে নিয়েই এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় জনপদ টাঙ্গাইল সদর।

নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে উন্নয়ন

তরুণের স্বপ্ন, যুবকের শক্তি আর মুরব্বিদের দোয়া; সবকিছুকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল শহর। যেখানে থাকবেনা হিংসা, বিদ্বেষ, কোন্দল ও অসন্তোষ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর হবে আধুনিক মডেল শহর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সদয় রয়েছেন। যদি আল্লাহ সহায় থাকেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে আমি জনগণের কাছে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে করা অঙ্গীকার হলো আমানত। সেই আমানতের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সবসময় টাঙ্গাইল সদরবাসীর পাশে আছি এবং থাকবো।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, যমুনার ভাঙন ঠেকাতে টাঙ্গাইলে স্থায়ী বেড়িবাঁধের ঘোষণা দিয়ে ছিলাম নির্বাচনের আগে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। গত-২২ মে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছি আমি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। আগামী অর্থবছরে বাজেটের পর বেড়িবাঁধ প্রকল্প শুরু হবে। প্রথমে ৫০ কোটি ও পর্যায়ক্রমে সাড়ে তিনশো কোটি টাকা খরচ করে একটি টিকসই বেড়িবাঁধ করা হবে। অবহেলিত জনগোষ্ঠী চর এলাকায় গড়ে তোলা হবে পর্যটক নগরী। করা হবে আধুনিক হাসপাতাল।

টুকু বলেন, আমি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যা বলি, তাই করি।নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমি এই এলাকার মানুষের প্রতিটি মুহুর্ত পাশে থাকবো এবং আছি।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছেন জননেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। পশ্চিম টাঙ্গাইলের যমুনা নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলিত। তাদের জন্যই একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে টুকু বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলকে সর্বোচ্চ উন্নয়নের পর্যায়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আগামী পাঁচ বছর পর উন্নয়নের তালিকা হলে টাঙ্গাইল সদর এক নম্বরে থাকবে।

চরবাসীর ঈদ আনন্দ

চরের মানুষের মধ্যে বইছে ঈদ আনন্দ। তারা বলেন, আমরা যা আশা করে ছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছি। আমাদের এমপি টুকু ভাই তার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন। একটি গোষ্ঠী তাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছে, আজ তারা নিশ্চুপ এবং লজ্জিত।
তিনি আমাদের বলেছিলেন, আমাকে খুঁজতে হবেনা, আমার কাছে যেতেও হবে না।আপনাদের যেকোনো প্রয়োজন বা সমস্যায় আমি নিজেই আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবো। যা কথা তাই কাজ আমাদের নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর।

নির্বাচনের আগে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল সদরের ভোটারদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন, তা বাস্তবায়ন শুরু করেন এমপি হবার পর থেকেই। তিনি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে চমক দেখাতে শুরু করেন। একটি মহল টুকুকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। আজ তাদের মুখে চুন-কালির দাগ পড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির মধ্যেই অনেক নেতাকর্মী টুকুর ঘোর বিরোধিতা করেছিল, যাতে টুকু এমপি হতে না পারেন। কিছু নেতাকর্মী টুকুর সাথে থেকেও ভেতরে ভেতরে অন্য একজনকে সাপোর্ট দিয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ চাইলে কেউ কাউকে অসম্মানিত করতে পারে না। সব বাঁধা অতিক্রম করে জনগণের বিপুল ভোটে টুকু এমপি হয়েছেন। টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষ বুঝতে শুরু করেছেন টুকুর বিকল্প নেই। তিনি শুধু উন্নয়ন নয়, টাঙ্গাইলে বিএনপি'র ভঙ্গুর রাজনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন। এজন্য কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির নেতারা কিছুটা চিন্তিত। কারণ টুকু বলেছিলেন, টাঙ্গাইল সদরে আমি নিজে চাঁদাবাজি করবো না, কেউ করলে তাকে চুল পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছেন। টুকুর কাজের স্পিরিট ও সফলতা দেখে বিরোধী শিবিরের লোকজন এখনও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু কোন ক্লান্তি বা অনীহা টাঙ্গাইলের সুলতানকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি মায়াবী চরিত্রের এক আলোকিত মানুষ।

কমিটি নিয়ে আশাবাদী নেতৃবৃন্দ

এদিকে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি নেই প্রায় তিন বছর। তৃনমুল নেতাদের সাথে জেলা নেতাদের বিস্তর দুরত্ব। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলছে নেতায় নেতায় দ্বন্দ। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেলা বিএনপির অফিস নেই। তৃণমূলের ত্যাগি নেতাকর্মীরা আশায় বুঁক বেঁধে রয়েছেন তাদের নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অবশ্যই তাদেরকে মূল্যায়ন করবেন। তাদের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনার পতনের পর টাঙ্গাইলে বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতির মাঠে আসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাকে ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বাঁধে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিক্ষীত নেতাকর্মীরা। দলকে পুনরায় সুসংঠিত ও বঞ্চিত, ত্যাগী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছেন তিনি। টাঙ্গাইল সদরের বিস্তির্ন চরাঞ্চল থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিরলস কাজ করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হয়ে ছিল প্রায় ৩৫ মাস আগে। কিন্তু আজও পুর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। এখন এক নেতা দিয়েই চলছে জেলা বিএনপি।

প্রসঙ্গত, কমিটি না থাকায় দলের ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পদপদবি থেকে বঞ্চিত। শীর্ষ নেতারা নিজেদের রক্ষা কব্বজে ব্যস্ত। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিনয়ী আচরণ, নম্রতা, ভদ্রতা ও সব্য রাজনীতিবিদ একজন মানুষ। সুতরাং তাকে অনুসরণ, অনুকরণ করাই হবে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি জন্য শোভনীয় লক্ষ্মণ।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81