August 8, 2022, 1:58 am


বিশেষ প্রতবিদেক

Published:
2022-08-01 14:35:58 BdST

বীমা খাতে দূর্নীতির কালো বিড়াল… প্রগ্রেসিভ লাইফে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ মিলে গড়ে তুলেছে লুটপাটের রাজত্ব


বিশেষ প্রতিবেদকঃ পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে চলছে লুটপাটের মহারাজত্ব।
কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ, পরিচালক এম এ করিম এবং মনোনীত পরিচালক নাজিম তাজিক চৌধুরী গং কর্তৃক ২০০৯-২০১২ইং সাল পর্যন্ত ১১৪,২১,৭৫,৫৩৫/- টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত মেসার্স হুদাভাসি চৌধুরী এন্ড কোং, চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক ২০০৯-২০১২ইং সাল পর্যন্ত সরেজমিনে তদন্তে ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আজও মামলা দায়ের করা হয়নি। আত্মসাৎকৃত টাকা কোম্পানিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের রায়, পরিচালনা পর্ষদের ১৪৫, ১৪৬ ও ১৭৭ তম পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত এবং দুদকের অভিযোগের ভিত্তিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্তৃক বিগত ১৭ই জুন ২০১৯ইং সালে অনুষ্ঠিত প্রগ্রেসিভ লাইফে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দাখিলকৃত প্রতিবেদনের উপর শুনানী হয়। সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত থাকা সত্তে¡ও আজ অবধি কোন কার্যকর মামলা না হওয়ায় অর্থ লুন্ঠনকারী মুল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ঘুরে-ফিরে আবার তারাই ক্ষমতায় এসে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতায় টিকে থাকার নীলনকশা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোম্পানির ২০০৯-২০১২ইং সাল পর্যন্ত মেসার্স হুদাভাসী চৌধুরী এন্ড কোং কর্তৃক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১১৪,২১,৭৫,৫৩৫/- কোটি টাকা যে সমস্ত খাত থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে তার কিছ চিএ হলোঃ

কোম্পানির ২০০৯-২০১২ইং সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ইনকাম এবং উচ্চ ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে ৫৪,৪৭,৮০,০৫৭/- কোটি টাকা আত্মসাত।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সিনিয়র ষ্টাফদের সমম্বয়ে (৮৩১+৩৯৭)= ১২২৮টি পিআর বই জালিয়াতির মাধ্যমে পলিসি গ্রাহকদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয় কিন্তু টাকা কোম্পানির এ্যাকাউন্টে জমা না করে নিজেরা আত্মসাত করে। আত্মসাতকৃত টাকার পরিমাণ ৩০,১৯,৫৩,৫৯৪/- কোটি টাকা। উক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৮ইং সালে চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট, ঢাকায় নামে মাত্র একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয় যার মামলা নং- ১৪৫৮/২০১৮, সেকশন: ২০৪/৪২০/৪০৬, পেনাল কেড- ১৮৬০। অদ্যবধি তার কোন কার্যকরী এ্যাকশন হয় নাই।

২০০৯-২০১২ ইং পর্যন্ত কোম্পানির নামে জায়গা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিমিটেড এর নিকট থেকে আফতাবনগরে উচ্চ মুল্যে ৩টি প্লট (প্রায় ২০ কাঠা জায়গা) এবং চট্টগ্রাম আগ্রবাদে অবস্থিত জহুরা টাওয়ারে ফ্লোর ক্রয়ের নামে ১৬,৭০,৪০,০০০/- কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করে। চট্টগ্রামে জহুরা টাওয়ারে ক্রয়কৃত ফ্লোর আজও অবধি কোম্পানির দখলে আনতে পারে নাই, বর্তমানে এটি নিয়ে মামলাধীন আছে।

২০০৯-২০১২ইং পর্যন্ত কোম্পানির বিভিন্ন বন্ধ সার্ভিস সেল এর শাখা অফিস সমূহে থেকে পেটি ক্যাশ এর মাধ্যমে, ক্যাশ ইন-হ্যান্ড এবং দীর্ঘ বকেয়া ব্যালেন্স দেখিয়ে ৬,২৫,৭৬,২৪০/- কোটি টাকা আত্মসাৎ।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সিনিয়র ষ্টাফ কর্তৃক একই পিআর নম্বর কেটে পলিসি গ্রাহকদের নিকট থেকে ৪০,৪৭,৫৮২/- লক্ষ টাকা আত্মসাত।

কোম্পানির সাবেক এমডি জনাব এম এ করিম দায়িত্বে থাকাকালীণ সময়ে অ-বৈধ ভাবে নিজের বেতন ২,৫০,০০০ - ৬,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত বর্ধিত করে প্রায় ৪ বছর ধরে নেন এবং ভুয়া কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নাম দেখিয়ে ৩৮,১৪,৭৮৬/- লক্ষ টাকা আত্মসাৎ।

তৎকালীণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বীমা আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে অ-বৈধ ভাবে বিভিন্ন সার্ভিস সেল এর এজেন্টদের বৈধ লাইসেন্স বা অনুপস্থিতি ছাড়াই ডাবল কমিশন বিল দেখিয়ে ৭৯,৬৭,১২৩/- লক্ষ টাকা আত্মসাৎ।

এছাড়াও কোম্পানির নামে গাড়ী ক্রয় ও মেরামত বাবদ এবং ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুট-পাট করা অভিযোগ।
এ সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে র্বোড সভা মামলা দায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগসাজসে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বন্ধ রাখা।

কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) (অর্থ বছর- ২০১৯) অনুষ্টিত হয় ২৯/১২/২০২০ ইং সালে। এজিএম পরবর্তী নাসির আলী শাহ পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২০ অর্থ বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য মেসার্স এম এম রহমান এন্ড কোং, চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট কে বহি:নিরীক্ষ হিসেবে ০৯/০৩/২০২১ইং তারিখে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে কালক্ষেপন করায় সময় মতো এজিএম না করে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় শুধুমাত্র তাদের নিজেদের ক্ষমতাকে অসৎ উদ্দেশ্যে দীর্ঘায়িত করা। ২০২১ অর্থ বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য এবছরও তারা মেসার্স এম এম রহমান এন্ড কোং- কে বহি:নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এবছরও তারা সময়মতো নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করে এজিএম করার লক্ষনও দখো যাচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করছে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ, পরিচালক মিসেস চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ ও মনোনীত পরিচালক জনাব নাজিম তাজিক চৌধুরী আইনগত ভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের কোন সুযোগ না থাকা সত্তেও বে-আইনীভাবে ক্ষমতায় থাকার অভিযোগ

বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব নাসির আলী শাহ, পরিচালক মিসেস চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ ও মনোনীত পরিচালক জনাব নাজিম তাজিক চৌধুরী আইনগত ভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের কোন সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও ও বে-আইনীভাবে তারা কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদেরকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ দাবী উঠেছে। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ ধারা-১০৮ এবং বীমা আইন, ২০১০ এর ধারা-৭৭ ও কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধির সেকশন-১০০ এর আইন অমান্য করে দায়িত্ব পালনের কোন সুযোগ না থাকা  কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তারা পদে বহাল আছেন।

জনাব নাসির আলী শাহ (বর্তমান চেয়ারম্যান): কোম্পানির সর্বশেষ অর্থাৎ ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বিগত ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ইং সালে অনুষ্ঠিত হয়। এজিএম পরবর্তী জনাব নাসির আলী শাহ এবং মিসেস চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হন জনাব নাসির আলী শাহ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব থেকেই শাহ দম্পতি প্রায় দেড় বছরের বেশী সময় ধরে তারা দেশের বাইরে লন্ডনে থেকেছে। কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধিতে তাদের বাংলাদেশী ঠিকানা দেওয়া থাকলেও তারা কখনো বাংলাদেশে থাকেন না লন্ডনেই বসবাস করেন। এই প্রেক্ষিতে, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ১০৮ঃ পরিচালক পদের শূন্যতা- (১) (চ) তে পরিস্কার ভাবে বলা আছে “ পরিচালক পরিষদের অনুমতি ব্যতীত তিনি উক্ত পরিষদের পর পর তিনটি সভা কিংবা ক্রমাগত তিন মাস ধরে পরিষদের সকল সভায় তন্মধ্যে যে সময়কাল দীর্ঘতর সেই সময়ব্যাপী, অনুপস্থিত থাকেন।” উক্ত কোম্পানি আইনের বলে বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব নাসির আলী শাহ এবং মিসেস চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ এর পরিচালক পদ শূন্য হয়ে যায়। চেয়ারম্যান সাহেব লন্ডনে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চ্যুয়ালী জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহন করলেও তার স্ত্রী মিসেস চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ বিগত দেড় বছর যাবৎ ফিজিক্যালী অথবা ভার্চ্যুয়ালী কোন ভাবেই কোম্পানির কোন সভাতেই তিনি অংশগ্রহণ করেননি বলে একাধকি সূত্র নিশ্চিত করছে। তাহলে তাদের উভয়ের পরিচালক পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ছে।

জনাব নাজিম তাজিক চৌধুরী, মনোনীত পরিচালকঃ কোম্পানির আরেকটি অনিয়ম হচ্ছে, জনাব নাজিম তাজিক চৌধুরী কোন রকম আইনের এবং পরিচালনা পর্ষদের তোয়াক্কা না করে নিয়ম বহির্ভূত ধারাবাহিক ভাবে মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ’র শ্যালক হওয়াতে আইনের কোন তোয়াক্কা নেই। কোম্পানিতে তার নিজের নামে একটি শেয়ারও নেই, অথচ নৈপথ্যে থেকে তিনিই কোম্পানির সমস্ত অপকর্ম পূর্বের ন্যায় করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়াতে তিনি পর্ষদ সভা সহ সব রকম কমিটির সভায় এবং ব্যবসা ও উন্নয়ন সভায় অংশগ্রহণ করে নানা প্রকার অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। বিগত দিনে কোম্পানিতে যে সমস্ত অনিয়ম হয়েছে সেখানেও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন যা হুদাভাসী’র অডিট রিপোর্টে দূর্নীতিতে তার নাম এসেছে। তিনি যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সব কিছু করে যাচ্ছেন তার প্রমাণস্বরূপ বিগত দেড় বছর যাবৎ পরিচালনা পর্ষদ ও আইডিআরএ’র অনুমতি ব্যতিরেকে তিনি একাধারে মনোনীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, বীমা আইন, ২০১০ এর ৭৭ ধারাতে পরিস্কার ভাবে উল্লেখ আছে- মনোনীত পরিচালক মনোনয়নে বিধি নিষেধঃ “আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে বা বীমাকারীর সংঘ বিধিতে যা কিছুই বলা থাকুক না কেন, বীমা কারীর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ব্যতীত অন্য কেহ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন পরিচালক ৩(তিন) মাসের অধিক সময়ের জন্য বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করলে কর্তৃপক্ষকে পূর্ব-অবহিতককরণক্রমে পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কোন ব্যক্তিকে তার স্থলে পরিচালক হিসেবে কাজ করার জন্য মনোনীত করতে পারবেনঃ

আরো শর্ত থাকে যে, অনুরূপ কোন মনোনীত পরিচালক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে ৬(ছয়) মাসের অধিক পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করবেন না।”

এই ক্ষেত্রে তিনি একাধারে বীমা আইন ২০১০ এর ৭৭ ধারা এবং কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধির সেকশন-১০০ এর আইন প্রতিনিয়তই লংঘন করে যাচ্ছে।

কোম্পানী সচিব জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ- একাই দখল করে আছে কোম্পানীর গুরুত্বর্পূন ৫টি পদ
জনাব মোঃ জহির উদ্দিন, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ১৯৭২৭৫১৮০১৯৯৪১৮৯২, টিন নম্বর ৩৬৮৯৮২২৬৭৯৯৬ তিনি হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এ চাকুরী করাকালীন সময়ে নানাবিধ দুর্নীতি, প্রতারনা, অর্থ আত্মসাৎ, চুরি ও শেয়ার জালিয়াতির কারণে কোম্পানি থেকে তাকে চাকুরীচুত্য (Termination) হয়। এরপরও কিভাবে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে জুলাই, ২০১৭ইং সালে আইন কর্মকর্তা (ডিজিএম পদে) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়? এবং ২০২০ইং সালে অনুষ্ঠিতব্য কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) পরবর্তী চেয়ারম্যান জনাব নাসির আলী শাহ, স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মোহাম্মদ শাহ আলম এফসিএ, জনাব নাজিম তাজিক চৌধুরী এবং কোম্পানির সিইও জনাব অজিৎ চন্দ্র আইচ তাদেরকে ম্যানেজ করে এবং তাদের সহযোগিতায় এবং ছত্রছায়ায় একটি পাবলিক লিষ্টেড (পূজিঁবাজারে তালিকাভূক্ত) কোম্পানিতে একজন লিগ্যাল কর্মকর্তা হয়ে একাধারে কোম্পানি সচিব, হেড অব এইচ আর এবং হেড অব উন্নয়ন প্রশাসন এবং এজেন্ট ও শেয়ার বিভাগের প্রধান হিসেবে এতোগুলো (৫টি) ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব কিভাবে পান।

ইতিপূর্বে মোঃ জহির উদ্দিনের বিভিন্ন দুর্নীতি, প্রতারণা, অর্থ-আত্মসাৎ ও শেয়ার জাল-জালিয়াতির একাধিক মামলা দায়রে হয়। তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানার মামলা নং- ১১(১)১৮ ধারা ৪০৬/৪২০, পেনাল কোড- ১৮৬০ প্রতারণা পূর্বক বিশ্বাস ভঙ্গ করিয়া অর্থ-আত্মসাৎ করার অপরাধ। আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ ৯,৪৪,৭০০/- (নয় লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার সাতশত) টাকা যাহা অদ্যাবধি উদ্ধার হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছিল এবং মামলা এখনো চলমান আছে। এ হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালক হোসনে আরা নাজ-কে তিনি ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি ও নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং কোম্পানি দখল করবেন বলে হুমকি দেন। পরবর্তীতে পরিচালক তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানার মামলা নং- ননএফআইআর নং- ২৪৭/১৭ তথা নন জিআর নং-৯০১৮/১৭ ধারা ৫০৬ দ:বি: মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সাল হোদাভাসী চৌধুরী এন্ড কোং, চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিষয়ক একটি অডিট হয়। উক্ত অডিট প্রতিবেদনে উছে এসেছে ভয়ঙ্কর এক তথ্য কোম্পানির তৃতীয় তলার বোর্ড রুমের ভোল্ট হইতে শেয়ার সার্টিফিকেট বই নং ০২ এর ৫২-৬৪ ক্রমিকের মোট ১৩টি শেয়ার সার্টিফিকেটের পাতা খোয়া যায়।

মতিঝিল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এবং সিআইড ফরেনসিক কর্তৃক তদন্তকালে আলোচ্য শেয়ার চুরির মামলা হইলেও প্রকৃতপক্ষে ইহা একটি চুরি, জাল-জালিয়াতি, প্রতরণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ এর মামলা বলিয়া তদন্তকালে প্রকাশ পায়। তদন্তকালে ইহাই প্রতিয়মান হয় যে, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালক জনাব মফিজ উদ্দিন তাহার সহযোগী মূখপাত্র তৎকালীন আইন কর্মকর্তা জনাব জহির উদ্দিনের সহায়তায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর ভোল্ট হইতে উল্লেখিত ১৩ (তের) টি শেয়ারের পাতা কৌশলে চুরি করিয়া তম্মধ্য হইতে ০৪(চার) টি শেয়ারের পাতায় জাল-জালিয়াতি মূলক ভাবে শেয়ার সার্টিফিকেট তৈরী করিয়া শেয়ারের অংক বসাইয়া উক্ত জাল শেয়ার সমুহ ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড-এ বন্ধক রাখিয়া তিন (৩) কোটি টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করিয়া তাহারা উভয়ই আর্থিক ভাবে লাভবান হন বলে তদন্ত প্রতবিদেনে বরেয়িে এসছে।

চাকুরী করাকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও শেয়ার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জহির উদ্দিন সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তার সম্পদের বিবরণ (জ্ঞাতসারে) নিম্নে দেওয়া হলো; অজ্ঞাতসারে আরও সম্পদ থাকতে পারে বলে প্রতিয়মান হয়। বর্তমান বাসা (নিজের ফ্ল্যাট): রমনা বিলাস, ৮৫ মধ্য বাসাবো, ঢাকা। নিজের ক্রয়কৃত প্লটের অবস্থান: ০১। কেরানীগঞ্জ প্রবাসী পল্লী ০২। পূর্বাচল প্রজেক্ট ৩০০ ফিটের কাছে। ব্যাংক ডিপোজিট: মিসেস তাসলিমা বেগম (স্ত্রী’র) নামে লক্ষ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র স্কীম, বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল, ঢাকায় রক্ষিত আছে বলে বভিন্নি সূত্র নশ্চিতি করছে।ে

ইতিমধ্যে মোঃ জহির উদ্দিনের দুর্নীতির আলামত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন।

কোম্পানির বর্তমান ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা সিইও, সিএফও (ভারপ্রাপ্ত), হেড অব আইটি এবং উন্নয়ন প্রশাসন ও এজেন্ট এবং আইন বিভাগের প্রধান এর যোগসাজসে কোম্পানিতে নতুন ভাবে দুর্নীতি মাধ্যমে অর্থ-আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

কুমিল্লা, মনোহরগঞ্জ সার্ভিস সেল এর এ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংক রিকনসিলেশন কর্মকর্তার যোগসাজসে এবং কোম্পানির কিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় জাল ডিপোজিট স্লিপ, ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট ও হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড এবং যমুনা ব্যাংক লিমিটেড এর মনোহরগঞ্জ শাখা থেকে ৪,৮০,০০,০০০/- কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যা কিনা বর্তমানে কোম্পানির ইন্টারনাল অডিট কর্তৃক অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। বর্তমান ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে উক্ত টাকা আত্মসাতের মোটিভ অন্যদিকে প্রবা্িহত করার জন্য ইতিমধ্যে তদন্ত টিমের প্রধানকে তদন্ত কাজের নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পূর্বেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন করে ৪ সদ্যসের কমিটি গঠন করে তদস্থলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে আসা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাকী বিল্লাহ খন্দকারকে তদন্ত টীমের প্রধান করা হয়।

লাইফ ফান্ডঃ

কোম্পানির ২০২১ এবং ২০২২ইং সালে ব্যবসার নাম করে কোম্পানি সচিব এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দুজন মিলে চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ কে ম্যানেজ করে ভাল ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোম্পানির লাইফ ফান্ড ভেঙ্গে ৪৫,০০,০০,০০০/- (পয়ঁতাল্লিশ কোটি) টাকা গ্রাহকের দাবী মেটানোর নাম করে উত্তোলন করে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির একটি কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিবে। বীমা নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা  (আইডিআরএর) ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এখনই তৎপর না হলে সাধারন বিনিয়োগকারীদের চরম মাসুল দিতে হবে। আর্থিক খাতের বিরুদ্ধে দিনদিন যেভাবে দূর্নীতির অভিযোগ বেরিয়ে আসছে দেশের পুঁজিবাজার থেকে সাধারন বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। এর ফলে দেশের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে বিনিয়োগ বিশ্লেষক ও আর্থিক খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনে করেন। উল্লেখ্য যে, দূর্নীতি দমন কমিশন’কে দূর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

 
 

বীমা খাত দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন একটি খাত। লাইফ ও নন লাইফ মিলে সর্বমোট ৭৯ বীমা কোম্পানী বীমা খাতে সেবা দিচ্ছে, যার মধ্যে ৩৩টি লাইফ বীমা কোম্পানী ও ৪৬ টি নন লাইফ  বীমা কোম্পানী। এর মধ্যে লাইফ খাতে একটি সরকারি ও নন লাইফ খাতে একটি বীমা কোম্পানী রয়েছে। বিশেষ করে লাইফ বীমা কোম্পানী গুলোর মধ্যে অনিয়ম ও দূর্নীতির পরিমান সবচেয়ে বেশি। অতি সম্প্রতি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও  নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএর) সাবেক চেয়ারম্যান দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে চাকরীচ্যুত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে দূর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে লাইফ খাতে বড় বড় বীমা কোম্পানীর উপর দূর্নীতির অভিযোগ গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বীমা খাতের চিহ্নিত রাঘোব বোয়াল ও কালো বিড়ালদের চিহ্নিত করতে না পারলে এ খাত ঘুঁরে দাঁড়াবে না।   

বীমা খাতের অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে দ্য ফিন্যান্স টু’ডে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশিত হলো প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের উপর প্রথম পর্ব।

 

 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from Economy