September 28, 2020, 8:59 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2020-09-09 21:09:32 BdST

জনপ্রতিনিধিদের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা আসছে


ওয়াহিদা খানম আক্রান্ত হওয়ার পর মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াই আবার নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনের কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রশাসনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেওয়ার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। তিনি প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর জন্য আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন।

এর আগেও প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যদের প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রশাসনের উপর খবরদারি না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী একাধিক ভাষণে বলেছিলেন যে, প্রশাসনের কার্যক্রম প্রশাসনের মতো করে চলবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাজ করবে এবং দুইজনের সহাবস্থানের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

কিন্তু অনেক জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার আলোকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না, তার প্রমাণ হলো ওয়াহিদা খানমের আক্রান্তের ঘটনা।

শুধু ওয়াহিদা খানম নয়, এই রকম বিভিন্ন স্থানে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন, অনেক জায়গায় নিগৃহীত হচ্ছেন। অনেক জায়গায় হুমকি ধামকি সহ্য করছেন।

আর এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট ৫ দফা নির্দেশনা দিতে যাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে একটি রূপরেখাও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়েছেন। এই রূপরেখা অনুযায়ী নির্দেশনাগুলো খুব শীঘ্রই জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তারমধ্যে রয়েছে...

সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুমকি ধামকি বা অশোভন আচরণ করা যাবে না

প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কোনভাবেই অশোভন আচরণ করা যাবে না। তাদেরকে কোন ধরণের ভয় ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। হুমকি দেওয়া যাবে না।

প্রশাসনের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না

মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে প্রায়ই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। তারা মাঠ প্রশাসনকে বিভিন্ন কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং প্রশাসনের অনেক সিদ্ধান্তও পাল্টে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। এই ধরণের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

টেন্ডারে তদবির করা যাবে না

মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরোধের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হলো টেন্ডার। মাঠ প্রশাসন বিভিন্ন রকম টেন্ডার ডাকেন এবং এই টেন্ডারগুলোতে জনপ্রতিনিধিদের স্বার্থ জড়িত থাকে। বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এমপিরা তাদের নিজস্ব লোকজনদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে তদবির করেন, দেন-দরবার করেন, চাপ সৃষ্টি করেন। টেন্ডারে তদবির জন প্রতিনিধিদের কাজ নয় বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। কাজেই ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিরা টেন্ডারের জন্য মাঠ প্রশাসনের কাছে তদবির বা নির্দেশনা দিতে পারবেন না।

বালু মহল ও জল মহলের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বন্ধ

মাঠ প্রশাসনের ওপর বড় ধরণের একটি চাপ সৃষ্টি হয় বালু মহল, জলমহল ইজারা, খাস জমি নিয়ে।

অনেক স্থানেই স্থানীয় এমপিরা এই সমস্ত বিষয়গুলোর উপর চোখ রাখেন এবং এই ধরণের কাজগুলো থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। কাজেই বালুমহল, জলমহল ইত্যাদির ব্যাপারে যেন মাঠ প্রশাসনের উপর জনপ্রতিনিধিরা হস্তক্ষেপ না করেন, সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

পছন্দের কর্মকর্তাদের জন্য ডিও দেওয়া যাবে না

অনেক সময় দেখা যায়, মাঠ প্রশাসনের স্বাভাবিক নিয়োগ, বদলি ইত্যাদিতে জনপ্রতিনিধিরা হস্তক্ষেপ করেন। তারা বিশেষ একজন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেমন অভিযোগ করেন, তেমনি আবার পছন্দের কর্মকর্তাদের রাখার জন্য বা তার নিজ এলাকায় নিয়ে আসার জন্য ডিও দেন এবং তদবির করেন। এই ধরণের তদবির এবং হস্তক্ষেপ বন্ধের ব্যাপারেও নির্দেশনা আসছে বলে জানা গেছে।

এই নির্দেশনাগুলো যদি সুচারুরূপে বাস্তবায়িত হয় তাহলে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যে দ্বন্দ্ব এবং ঘাত-প্রতিঘাত তা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন জারি হলে তা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হবে বলে মনে করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্তা ব্যক্তিরা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা