October 27, 2020, 6:11 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2020-10-12 20:34:34 BdST

যে কারণে জমছে না ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন


পরিকল্পনা ছিলো ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মাধ্যমেই সরকার পতনের আন্দোলনের সূত্রপাত হবে। সেভাবেই আন্দোলনের সূত্রপাত করা হয়েছিল। আন্দোলনের মূল সূর ছিলো এটাই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো এক বক্তৃতায় বললেন, ‘এই সরকারের হাতে জনগণের জান-মাল নিরাপদ নয়, তাই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর তো আরো এক ধাপ এগিয়ে। শাহবাগে ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশে বললেন, ‘ধর্ষণ বন্ধের জন্য এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে’।

কিন্তু এতো তর্জন-গর্জন হুংকারের পরও জমলো না ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন এখন গুটি কয়েক নেতা এবং তার কর্মী সমর্থকদের টাইম পাসে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আন্দোলনে সম্পৃক্ত নয়, উৎসাহী নয়।

কেন জমছে না ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে পাওয়া গেছে মোটা দাগে ৫টি কারণ :-

১. সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপ:

ধর্ষণের ঘটনায় সরকার প্রতিপক্ষকে এক বিন্দু সুযোগ দেয়নি। যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সাথে সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ধর্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা হয়নি।

সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনায় কতিপয় ছাত্রলীগের কর্মীরা সম্পৃক্ত ছিলো। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এতোটুকু কার্পণ্য করেনি। ফলে, সাধারণ মানুষ দেখছে সরকার আন্তরিক। তাই আন্দোলনে উৎসাহ পায়নি জনগণ।

২. দ্রুত আইন সংশোধন:

মতলব বাজ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো খুব স্পষ্ট। তারা ধর্ষণের অপরাধে দণ্ডিতের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চেয়েছিল। সরকার এই দাবিকে সম্মান দেখিয়েছে দ্রুত। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আইন সংশোধন করেছে সরকার। ফলে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছে তাদের দাবি পূরণ হয়েছে।

৩. প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা:

আওয়ামী লীগের নানা সমালোচনা থাকলেও, শেখ হাসিনা বিপুল জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থাশীল। সাধারণ মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননা। তাই এই সব আন্দোলনে সাড়া না দিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখেছে।

৪. মানুষের টানাপোড়েন:

করোনা সংকটের পর সাধারণ মানুষ নানা টানাপোড়ানে আছেন। জীবন ও জীবিকার সংগ্রামে ব্যস্ত মানুষ। তাদের এসব ব্যাপারে আগ্রহ নেই।

৫. বিরোধী দলের প্রতি আস্থাহীনতা:

বিরোধী দল জনগণের জন্য কাজ করে, এমনটা মনে করেন না দেশের অধিকাংশ মানুষ। বিরোধী দলের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে এই আন্দোলনে সাড়া দেয়নি জনগন।

ফলে, সরকার পতনের আরেকটি চেষ্টা অংকুরেই বিনষ্ট হলো।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা