October 20, 2021, 1:11 pm


নেহাল আহমেদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

Published:
2021-09-19 01:41:51 BdST

দর্শক নেই রাজবাড়ীর সিনেমা হলে


দুই দশক আগেও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা। নতুন সিনেমা মুক্তির পরেই হল গুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ছুটে যেত। ঈদ-পূজা, পালা-পার্বণে গ্রাম ও শহরের মানুষের ভিড় থাকতো সিনেমা হল গুলোতে। দীর্ঘ লাইন লেগে থাকতো টিকিট কাউন্টারের সামনে। অনেকেই টিকিট না পেয়ে অথবা বসার ছিট না পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। অনেকেই আবার সিনেমা দেখতে যাওয়ায় পরিবারের লোকজনের হাতে মারও খেয়েছেন।

এক সময় রাজবাড়ী জেলায় বিশটা সিনেমা হল থাকলেও বন্ধ হয়ে এখন ঠেকেছে দুইটায়। সদরের সাধনা আর কালুখালী উপজেলার বৈশাখী। তাও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে রাজবাড়ীর সাধনা সিনেমা হলটি চালু করা হয়েছে। অথচ হলটি দর্শক শূণ্যতায় ভূগছে।

শুক্রবার দুপুর বারোটায় পৌর শহরের সাধনা সিনেমা হলে গিয়ে দেখা যায়, করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে সিনেমা হলটি চালু করা হয়েছে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত 'বীর' সিনেমাটি প্রদশীত হচ্ছে। সকাল সাড়ে এগারোটায় মনিং শো শুরুর সময়। অথচ দুপুর সাড়ে বারোটায় গিয়ে দেখা যায় দর্শক রয়েছে মাত্র তিন জন। যে কারণে সাড়ে বারোটায়ও সিনেমা শুরু হয় নাই।

সাধনা সিনেমা হলের টিকিট বিক্রেতা কৃঞ্চ কর্মকার জানান, বর্তমানে এই সিনেমা হলে লোকবল একেবারেই নেই। মাত্র দুইজন দিয়ে চলছে সিনেমা হলটি। তিনি রয়েছেন টিকিট বিক্রির দায়িত্বে আর অন‍্যজন রয়েছে সিনেমা চালানো ও সিনেমা হল ঝাড়ু মোছার কাজে। দর্শক নেই বললেই চলে। মনিং শোতে মাত্র তিনটি টিকিট বিক্রি করেছেন। দিনে দুই থেকে তিনটি শো চালানো হয়। প্রতিটি শোতেই তিন চারজন করে দর্শক হয়।

শামিম নামে এক দর্শক বলেন, 'কাজ নেই তাই ভাবলাম সিনেমা দেখি। ৫৫০ সিটের সিনেমা হলটি মুলত ভবঘুরেদের সময় কাটানোর স্থানে পরিনত হয়েছে।'

সাধনা হল পৌরসভার হলেও এইটি ভাড়া দেয়া হয়।

সাধনা সিনেমা হলের তত্বাবধায়ক তোফাজ্জল হোসেন জানান, একসময় সিনেমা হল খুবই জাকজমকপূর্ণ ছিল। ভালো ছবি দেখার জন্য দর্শকরা ভিড় করতো। তবে আগের মতো আর হল চলে না। আয়ও গেছে কমে। ভালো সিনেমা তৈরি না হওয়ার কারণে দর্শকেরা এখন আর সিনেমা হলে আসে না।

তিনি আরও বলেন, "এখন সিনেমা ব্যবসা নেই। কর্মচারিদের বেতন,বিদুৎ বিল সহ অনান‍্য সব মিলিয়ে বিশ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ যে টাকার টিকিট বিক্রি হয় তাতে প্রতি মাসে আরও পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। পুরাতন ব‍্যবসা কত দিন আর চালাতে পারবো সেটা জানি না।"

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা