December 1, 2021, 11:39 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2021-11-17 21:19:49 BdST

‘আমার বাবা-মা’র হত্যাকারীর প্রতি মানবতা দেখিয়েছি, এর বেশি চান কীভাবে’আমরা অমানুষ নই, খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারের নির্বাহী ক্ষমতায় যা করার ছিল, তা তিনি করেছেন, এখন বাকিটা ‘আইনের ব্যাপার’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপরেও আমরা অমানুষ নেই। অমানুষ না দেখেই তাকে আমরা অন্তত বাসায় থাকার অবস্থাটুকু আমার এক্সিকিউটিভ অথরিটি আমার হাতে যতটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।”

তিনি বলেন, “এতবড় অমানবিক যে, তাকে আমি মানবতা দেখিয়েছি। আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু আমি দেখিয়েছি। আর কত চান?”

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এমন জবাব আসে।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি।

তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবারও সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু দণ্ড স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু তাকে এখন বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যদি কারাগারে ফিরে গিয়ে আবেদন করেন, সরকার তখন তা বিবেচনা করতে পারে।

এ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ তিনি নেবেন কি না।

উত্তর দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার কাছে চান কীভাবে বলেন তো? খালেদা জিয়াকে যে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিছি, চিকিৎসা করতে দিছি, এটাই কি বেশি না?

“আপনাকে যদি কেউ হত্যা করার চেষ্টা করত, আপনি কি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বলেন আমাকে? বা আপনার পরিবারকে কেউ যদি হত্যা করত, আর সেই হত্যাকারীর যদি কেউ বিচার না করে, পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত, তাদের জন্য আপনারা কী করতেন?”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকেই দায়ী করেন শেখ হাসিনা।

আর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনিদের বিচারের পথ যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সে কথাও তিনি বলেন।   

পরে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়াও যে একই পথে হেঁটেছেন, সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু আমি দেখিয়েছি। আর কত চান? আমাকে বলেন। এখন সে(খালেদা জিয়া) অসুস্থ। ওই যে বললাম না, রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে? সেটি মনে করে বসে থাকেন। এখানে আমার কিছু করার নাই। আমার যেটা করার ছিলো করেছি। এটা আইনের মাধ্যমে।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিষয়ে খালেদা জিয়া সরকারের কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ আপনাকে যদি কেউ হত্যা করার চেষ্টা করতো আপনি কী গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন। বলেন আমাকে। বা পরিবারের কেউ যদি হত্যা করতো আর সেই হত্যাকারীদেরকে কেউ বিচার না করে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি ‍দিতো তাদের জন্য আপনি কি করতেন?

“আমি থাকতে হত্যাকারীকে ১৫ ফেব্রুয়ারির ৯৬ সালের ইলেকশনে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে বসানো… যেখানে আমি বিরোধী দলের নেতা ছিলাম, সেখানে বসানো হলো কর্নেল রশিদকে (খন্দকার আবদুর রশিদ)। কে করেছিল? খালেদা জিয়া।”

“খায়রুজ্জামান আসামি। তার মামলার রায় হবে। চাকরি নাই। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেই আসামিকে চাকরি দিলো ফরেন মিনিস্ট্রিতে। রাষ্ট্রদূত করে পাঠালো। বাশার একজন খুনি, মারা গেছে। মৃত ব্যক্তিকে প্রমোশন দিয়ে… সে সেনাবাহিনীর অফিসার ছিল। তার সমস্ত অবসর ভাতা সব দিয়ে দিল।”

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার ওপর গ্রেনেড হামলা করার পর বলে দিল কী? আমি ভ্যানেটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে নিজেই নিজে আত্মহত্যা করতে নিজেকে মেরেছিলাম।

“কোটালিপাড়ার হামলার আগে তার(খালেদা জিয়া) বক্তৃতা কী ছিল? ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী দূরের কথা কোনোদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবেন না’। সেই কথাও বলেছিল। বলেছিল- মরেই তো যাব।”

বার বার হত্যা চেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “রাখে আল্লাহ মারে কে? আর মারে আল্লাহ রাখে কে? দেখেন আমার বেলা সেটা হচ্ছে যে, রাখে আল্লাহ মারে কে?

“তারপরও বলব, খালেদা জিয়ার জন্য দয়া দেখাতে আমাকে কেউ এই প্রশ্ন করলে আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিত। যারা আমার বাবা-মা-ভাই, আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করিয়েছে।

“তারপরেও আমরা অমানুষ নেই। অমানুষ না দেখেই তাকে আমরা অন্তত বাসায় থাকার অবস্থাটুকু আমার এক্সিকিউটিভ অথরিটি আমার হাতে যতটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।”

সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কথা সময়ের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতি করে করে দেশটাকে তারা একেবারে ধবংসের দিকে নিয়ে গেছে। ওই গ্রেনেড হামলার পরে আমরা এতজন আহত, ২২ জন মানুষ মারা গেছে। একদিন পার্লামেন্টে আলোচনা পর্যন্ত করতে দেয়নি। আমরা এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনাও করতে পারিনি।

“এখন সে (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। ওই যে বললাম না, রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে? সেটি মনে করে বসে থাকেন। এখানে আমার কিছু করার নাই। আমার যেটা করার ছিল করেছি। এটা এখন আইনের ব্যাপার।”

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা