July 14, 2024, 8:31 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2023-05-28 01:32:41 BdST

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যপরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে 'পরিদর্শিকা' নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ


পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অদৃশ্য ইশারায় চলছে নিয়োগ, বদলি আর পদোন্নতির তুঘলকি কারবার। জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ায় দফতরের কর্মকর্তাদের মাঝে বাড়ছে অসন্তোষ। অন্যদিকে বদলির ক্ষেত্রেও টাকা ছাড়া কোনো কাজ হচ্ছে না। বদলি সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে খোদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করেও ঘুষ বাণিজ্যের ফন্দি-ফিকির করেন ওই সিন্ডিকেট।

দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিদর্শিকা (প্রশিক্ষণার্থী) নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনাতয়নে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর সামস বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিদর্শিকা (প্রশিক্ষণার্থী) নিয়োগ পরীক্ষায় ৯০ ভাগই দুর্নীতি হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় ১ হাজার ৮০ জন চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে ৯৭২ জনকে অর্থের বিনিময়ে পাশ করে দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিপুল অংকের এই অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বানিজ্য করে নিয়োগ পরীক্ষায় বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) খান মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে প্রশাসন ইউনিটের সিন্ডিকেট।

লিখিত বক্তেব্যে তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (প্রশিক্ষণার্থী) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সভাপতি খান মো. রেজাউল করিম এবং অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পার) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ৪৬ জেলার বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেছে।

কেউ যাতে অনিয়ম প্রমাণ করতে না পারে, সেজন্য লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে ৭০ নম্বর টিকচিহ্ন এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৮ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আর্থিক লেনদেন সফল করতে পরীক্ষার তিন মাস পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করছে।

লিখিত বক্তেব্য তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে একাধিক প্রার্থী এবং অভিভাবক আইন ও মানবধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কাছে অভিযোগ করেছে। তারা বলেছেন, সিন্ডিকেটটি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পরীক্ষার আগেই এক থেকে দুই লাখ টাকা নেয়। অনেককে চূড়ান্ত নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা নিয়েছে। এ বিষয়ে পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর অভিযোগ করা হয়। তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে চাকরিপ্রত্যাশী ভুক্তভোগী লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় আমার রোল ৫১০১৯০৩২৭। প্রথমত, আমি নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করেছি। দ্বিতীয়ত, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় কোটা আছে, আমার মা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর চাকরি করায় পোষ্য কোটা থাকার পরেও চাকরি পাইনি। আমাদের সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলা সৈলাল দাস নামের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।'

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা সাক্ষী দিতে রাজি হন না। এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদেত তাদের পদ থেকে অপসারণ করে তদন্ত করা একান্ত আবশ্যক। অন্যথায়, সুষ্ঠু তদন্ত করা সম্ভব হয় না। এজন্য পরিচালক (প্রশাসন), খান রেজাউল করিমসহ তার অনৈতিক কাজের সঙ্গীয় সহযোগীদের তাদের পদ থেকে অপসারণ, প্রকাশিত ফলাফল স্থগিত ও ফের নিয়োগ পরীক্ষার খাতায় ‘টিক চিহ্ন’ পদ্ধতির স্থলে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান।

এখন প্রশ্ন হলো, প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে চাকরি প্রার্থী পরীক্ষাথীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ৭০ ভাগ টিক চিহ্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হলো কেন? টিক চিহ্ন পদ্ধতি কী মেধা যাচাইয়ের সর্বোচ্চ মাধ্যম? এই পদ্ধতি কী বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে সর্বোচ্চ চুড়ান্ত কোন পদ্ধতি? নাকি নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতি যাতে কোনভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব না হয় তার জন্য টিক চিহ্ন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে 'দ্যা ফিন্যান্স টুডে'র পক্ষ থেকে  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সংগে যোগাযোগ করা হলেও কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের অনেকেই বলেন, এসব তদন্তে কিছু হবে না। টাকা ও ক্ষমতার কাছে সব নিষ্ফল। তদন্তে কোন কিছু প্রমাণ হবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার পরেও এমন দুর্নীতি মেনে নেয়া যায় না।  

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা