June 17, 2024, 5:29 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2023-11-21 17:37:54 BdST

৩০ বছর একই চেয়ারেপরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে সচিবের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ধীরগতি


# স্বামী স্ত্রী ৩০ বছর একই চেয়ারে
# হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার চেয়ার ১২ বছর (কোটি কোটি টাকার সম্পদ)
# কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে।

সরকারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তর পরিদপ্তর সুনিদিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয় । ক্ষেত্র বিশেষ কাজের সুবিধার্থে সরকারকে জরুরী ভিত্তিতে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ও গ্রহন করতে হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জরুরী অবস্থা প্রেক্ষিতে নীতিমালার মধ্যে থেকেও নির্বাহী ক্ষমতা বলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ,বদলী,পদোন্নতি, জরুরী কেনাকাটা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা আবার সমন্বয় করতে হয়। এটাই নিয়ম। এই নিয়মের সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কিছু কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী কখনো কখনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফায়দা হাসিল করে থাকে।
বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা অধিক জনসংখ্যার চাপ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর অত্যন্ত সফলতার সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সচেতনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে । এক সময়ে বাংলাদেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেত তা এখন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রয়েছে। অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে রোল মডেল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনায় অধিদপ্তরের প্রায় ৬০,০০০ কর্মকর্তা কর্মচারী অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদচারনা প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের প্রতিটি ঘর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এ অধিদপ্তরের দীর্ঘ দিনের সফলতার পাশাপাশি কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি মাথ‍াচাড়া দিয়ে উঠেছে যা হওয়াটা ও স্বাভাবিক । সব জায়গায় কিছু না কিছু অসাধু ও সুবিধাবাদী জনগোষ্ঠি থেকেই যায়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান বিভাগের সচিব মো: আজিজুর রহমান দায়িত্ব ভার গ্রহন করার পর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধকল্পে জিরো টলারেন্স নীতি ও জরুরী কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এর ফলে অধিদপ্তরের অবৈধ সুবিধাভোগী ও কিছু ঠিকাদারদের মাথায় দু:চিন্তার ভাঁজ পড়ে। একদিকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আতংক অপর দিকে সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট ভিতর ভিতর সচিবের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। শত শত কোটি টাকার কেনাকাটা, নিয়োগ,পদোন্নতি, বদলী সিন্ডিকেট তৎপর রয়েছে সচিবের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন যেন বাধাগ্রস্থ হয়।
গত ০১/১০/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় কর্মকর্তাদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে মতবিনিময় কালে একটি নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা শেষে তিনি অধিদপ্তরে কর্মরত তিন বৎসরের অধিক কর্মরত সকল ষ্টাফদের বদলীর নির্দেশনা দেন। কিন্তু লক্ষ্য করা যায় সচিবের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায় কোটিপতি বনে যাওয়া অনেক কর্মচারী টাকা ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে রয়েছে অধিদপ্তরে। প্রাথমিক ভাবে যাদের ৬-৩০ বৎসর কর্মকাল হয়েছে তার একটি তালিকা ”দ্য ফিন্যান্স টুডের” টিম অনুসন্ধানের হাতে এসেছে। দপ্তর অনুযায়ী তাদের তালিকা প্রকাশ করছে দি ফিন্যান্স টুডেটের অনুসন্ধান টিম ।এ তালিকা সংখ্যা প্রায় শতাধিক। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনের দপ্তর মোহাম্মদ নূর হোসাইন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রশাসন ইউনিট ৬ বৎসর, এইচ এম সাইদুর রহমান, অফিস তত্ত্বাবধায়ক, পার-২ শাখা, প্রশাসন ইউনিট ৬ বছর, মাকসুদা, স্টোনো টাইপিস্ট, ১২ বছর, (শৃংখলা ইউনিট) গোলাম সারওয়ার, কোষাধ্যক্ষ, এমআইএস ইউনিট, {প্রশাসন ইউনিটে সংযুক্ত} ২৮ বছর, মোঃ শওকত আলী, কোষাধ্যক্ষ, উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিট, [প্রশাসন শৃংখলা ইউনিটে সংযুক্ত}] ২৯ বছর যাবৎ, মাকসুদা আকতার, হিসাবরক্ষক ১২ বছর, শারমিনা আকতার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১০ বছর, মোঃ কায়সার হোসেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ২৮ বছর, মোঃ নূরুল ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১৮ বছর, মোঃ মোকতাদির হোসেন, গবেষণা সহকারী ৭ বছর, রাজন আলম, এ ভি ই মেকানিক ১৪ বছর, মোঃ রফিকুল ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১২ বছর, মাজহারুল ইসলাম, প্রজেকশনিষ্ট ১২ বছর, দয়াল কুমার গাইন, মিডিয়া প্রোডাকশন সহকারী ৭ বছর, রিপন ভূঁইয়া, কম্পোজিটর ১৪ বছর, মোঃ আবুল কাশেম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (বর্তমানে সিনিয়র ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কর্মরত) ৬ বৎসর, নওশীন জাহান, হিসাবরক্ষক (গবেষনা সহকারী পদে পদায়নকৃত) ১০ বৎসর,  মনোয়ারা বেগম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ২৪ বৎসর, মোঃ সুমন মিয়া, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ৭ বছর, কাজী মাহবুব হাছান, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১০ বছর, শারমিন রহমান, গুদাম রক্ষক ১৪ বছর, আবদুস সাত্তার খান মানিক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৬ বছর, হান্নান হোসেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১৩ বছর, মোরশেদ আলম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ১৩ বছর, মোঃ মকবুল আলম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫ বছর, কাউছার আহমদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৬ বছর, মোঃ আরিফুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (প্রাক্তন টিএফপিএ) ৯ বছর, মোঃ ফজলুল কাদের, হিসাব রক্ষক, ৩০ বছর, এ,কে,এম সাইয়েদুল আবরার, হিসাব রক্ষক ৩০ বছর,  ষ্টেনো টাইপিস্ট ২৬ বছর, তাসলিমা আক্তার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১৫ বছর, কাজী মাসুমা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৩০ বছর, আতিকুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, সংযুক্ত: উপকরণ ও সরবরাহ ৬ বছর, দেওয়ান মোঃ শাহ আলম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৩০ বছর। এদের সকলের আমলনামা ও সম্পদের হিসাব নিয়ে ইতোমধ্যেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দি ফিন্যান্স টুডেটের টিম অনুসন্ধান।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এত বেশী অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে গিয়েছে যে প্রয়োজনে তাহারা চাকুরী থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিবে তবুও সদর দপ্তরের বাহিরে বদলীতে যাবে না। স্বামী স্ত্রী কোটি কোটি টাকার মালিক। এদের সম্পদ ও অর্থ বিত্তের উৎস কি? আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কেনাকাটা, টেন্ডার, ঘুপচি, বিজ্ঞাপন, নিয়োগ , বদলী বাণিজ্য করে সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যাহারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। ঢাকার বাহিরে প্রচুর মেধাবী কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন তাদেরকে প্রধান কার্যালয়ে পদায়ন করলে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাবে। সুশাসন ফিরে আসবে অধিদপ্তরের কাজকর্মে । তা না হলে সচিবের নির্দেশনা বাস্তবায়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হবে ।
বর্তমানে অধিদপ্তরের প্রচার ও প্রকাশনা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।। এক সময়ের প্রচারের ফলে জন সচেতনা বেড়ে যাওয়ার কারনেই মন্ত্রনালয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে সফলতা পেয়েছিলো।
দুর্নীতি ও অনিয়মের ছোয়া প্রচার ও প্রকাশনায় ও পড়েছে।
দীর্ঘ দিন প্রধান কার্যালয়ে থেকে সারা দেশে সিন্ডিকেট করে যাহারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।কিছুতেই তাহারা ঢাকার বাহিরে না যাওয়ার জোর তদবির সহ ব্যাপারে অনড়। তাই বদলী ঠেকাতে পুরো সিন্ডিকেট একাট্রা। ফিন্যান্স টুডে ইতোপূর্বে কয়েকটি ধারাবাহিক তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পরে দুর্নীতি বাজদের মধ্যে বদলী আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানী টিমের হাতে প্রায় শতাধিক দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবৈধ সম্পদ ও নামে বেনামে ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য উঠে এসেছে। তা পরবর্তী প্রতিবেদনে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হবে।

 

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা