January 17, 2026, 4:44 pm


S M Fatin Shadab

Published:
2026-01-17 15:10:44 BdST

রাতের অন্ধকারে মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন


ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় রাতের বেলায় নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাদরাসার সুপার, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া এক নারীকে স্থানীয়রা মাদরাসা প্রাঙ্গণে আটকে রাখেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুটিমারি আউলিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে গোপনে ও রাতের আঁধারে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্টদের চলাচলে বাধা দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা জানান, পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিছু সময়ের জন্য মাদরাসা প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।


মাদরাসার সুপার রুহুল আমিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ীই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল এবং মোট ১২ জন পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এদিকে হাজিরা তালিকায় স্বাক্ষর রয়েছে মাত্র ১০ জনের এবং পরীক্ষাকক্ষে পাওয়া যায় কেবল তিনজন পরীক্ষার্থী।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ডিজির প্রতিনিধি পরিচয়ে ওই নারী মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। তার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
রাতের সময় পরীক্ষা আয়োজন করায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মাদরাসা সুপার জানান, ডিজির প্রতিনিধি দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পরীক্ষা শুরু করতেও বিলম্ব হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ঠিক তখনই স্থানীয়রা এসে বাধা দিলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ফুলহরি ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন জানান, দিনের পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও রাতে নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এবং দুইজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে মাদরাসা সুপার ও ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.