অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
Published:2026-01-19 19:20:13 BdST
গণপূর্ত বিভাগের দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ডফ্যাসিস্ট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সিন্ডিকেটের হোতাদের তালিকায় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত আবুল কালাম আজাদ। শুধু বহাল তবিয়তেই নয় বরং তিনি দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো অধিদপ্তর।
বর্তমানে নগর গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত এই নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে বলা হয় মিস্টার পার্সেন্টেজ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কাজ না করেই ভুয়া বিল দেওয়া হয়েছে এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নগর গণপূর্তের ঠিকাদারদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩০-৪০% কমিশন দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিল দিয়েছে আবুল কালাম আজাদ।
উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সচিব শহিদুল্লাহ খন্দকারের ক্যাশিয়ার ছিলেন। তারই আর্শিবাদপুষ্ট ছিলেন বলেই ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং জুটেছে আবুল কালাম আজাদের ভাগ্যে। শুধু তাই নয়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গণপূর্ত সচিব হামিদুর রহমান খান এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সুবাদে গণপূর্ত বিভাগ-৩ থেকে প্রাইস পোস্টিং হিসেবে নগর গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রদায়ন করা হয়। নগর গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেই তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের সমস্ত বিল পরিশোধ করেন, উক্ত বিলের অধিকাংশ ছিল কোন কাজই হয় নাই।
নগর গণপূর্ত মূলত সংস্কার কাজের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম প্রাপ্তি থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা বকেয়া বিল দেওয়া হয়েছে। হাতে গোনা দু একটি পরিশোধ করা হয় নাই। নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এপিপির কাজ দরপত্রে এলটিএম পদ্ধতির ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করে বিতর্কের শীর্ষে তিনি। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করার প্রধান কারণ দরপত্র নিয়ে তিনি টেন্ডার বাণিজ্য মেতে ওঠেন।
ঢাকায় গণপূর্ত-৩ এ থাকাকালীন সময়েও তিনি একই পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়েছে। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। উক্ত সময়ে তেজগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভবনে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপিপির ৫০% কাজ এলটিএম এর পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ তুলে দিয়েছে।
দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে খ্যাত আবুল কালাম আজাদ এখন গণপূর্ত আলোচিত দুর্নীতিবাজদের সম্রাট এই অভিযোগ ঠিকাদারদের। তিনি তার পছন্দের লোক ছাড়া কোন কাজ দেন না। দুর্নীতি দমন কমিশন আবুল কালাম আজাদের সময়ের কর্মকাণ্ড যাচাই করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্যে অন্যতম হলো পুরনো বিল পরিশোধ ৩০ থেকে ৪০% হারে কমিশন আঁদায় করেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় করাই সমস্ত বিলের কোন কাজই হয়নি অথবা নামমাত্র কাজ হয়েছে।
বিগত অর্থবছরে একই কাজ দুবার দেখিয়ে বিল দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরেও একজন উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অপরদিকে, বেশিরভাগ ভুয়া বিল হওয়ায় উক্ত বিল পরিশোধে তিনি ছিলেন বেশি আগ্রহী। অথচ এপিপির বরাদ্দের নেওয়া নতুন কাজ হয়নি।
২৪ তম বিসিএস এর মেধাবী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতিতে অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ভবিষ্যতে যে কোন পরিস্থিতিতে মোকাবেলা করার জন্য গড়ে তুলেছেন বিশাল ফান্ড। নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ এনে অতি সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ঠিকাদাররা।
আবুল কালাম আজাদ ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ফরিদ উদ্দিন এর ঘনিষ্ঠজন। তাকে নানা রকম সুবিধা দিয়েছে আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য জানতে আবুল কালাম আজাদ এর মোবাইলে ফোন দিয়ে ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
