January 20, 2026, 12:25 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-01-19 22:33:40 BdST

সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি অন্তত ৩ জন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোতালেব নামে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি র‍্যাবের ডিএডি (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত তিনজন সদস্য সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে চিহ্নিত আসামিদের ধরতে র‍্যাবের একটি দল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। পাল্টা অবস্থান নেওয়ার একপর্যায়ে মোতালেব গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির আগে ওই এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনের ঘটনা ঘটে বলে। তবে এই হামলার পেছনে রোকন বাহিনী না ইয়াসিন বাহিনী জড়িত সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন মেম্বার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। প্রশাসনের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটি কার্যত একটি ‘নিষিদ্ধ নগরী’তে পরিণত হয়েছে, যেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত এবং প্রশাসনের অভিযান বারবার সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

এই অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দুটি প্রভাবশালী পক্ষ—‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা নিয়ন্ত্রণ করেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে প্রশাসনের ধারণা।

এর আগেও একাধিকবার প্রশাসনের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের হামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র‍্যাব ও পুলিশের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান চালানো হলেও, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আগাম প্রস্তুতি ও পাহারাদারদের সংকেত ব্যবস্থার কারণে এসব অভিযান বারবার চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.