January 27, 2026, 4:08 am


সামিউর রহমান লিপু

Published:
2026-01-27 02:23:19 BdST

সবাইকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর আহ্বান১৯৭১ সালের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলে যাবে না: এম এ কাইয়ুম


ঢাকা-১১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, ১৯৭১ সালের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলে যেতে পারে না। সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা জনগণের সামনে স্পষ্ট। তারা ছিলো দেশবিরোধী শক্তি, মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠনে সহযোগিতা করেছে এবং পাকিস্তানি শাসকদের মদদ দিয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারার নুরেরচালা এলাকায় কিশোরগঞ্জবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “১৯৭১ সালে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনে সহযোগিতা করেছে এবং হানাদার বাহিনীকে মদদ দিয়েছে তাদের ইতিহাস বিচার করেই আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইয়াহিয়া ও আইয়ুব খানের ক্যাবিনেটে জামায়াতে ইসলামীর চারজন মন্ত্রী ছিল এটাই তাদের প্রকৃত অবস্থান প্রমাণ করে।”

আরও পড়ুন: ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ ও বিশাল মিছিল

তিনি বলেন, “আমরা বিএনপি দেখেছি, আওয়ামী লীগ দেখেছি, লাঙ্গল দেখেছি এবার জামায়াতকে দেখার সময় এসেছে। ৭১ সালে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তারা যে অদূর ভবিষ্যতেও এই দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিবে না তার কি কোন গ্যারান্টি আছে?"

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস মনে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।

ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দাঁড়ি-টুপি পড়লেই মুসলমান হওয়া যায় না। মুসলমান হতে হলে নামাজ আদায় করতে হয়, ঈমান ঠিক রাখতে হয় এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হয়। ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা জনগণ আর মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি সমালোচনা বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমি চাই সৌহার্দপূর্ণ ও ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ঢাকা-১১ আসনে যে দলই নির্বাচিত হোক না কেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতিই আমাদের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, নির্বাচনের সকল আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা বিএনপি সমর্থন করে না। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দীর্ঘদিন দেশে ভোটাধিকার ছিল না, আইনের শাসন কার্যত অনুপস্থিত ছিল এবং বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। গুম-খুন, ভয়ভীতি আর দমন-পীড়নের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। জনগণ এসব আর দেখতে চায় না। এখন রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। এই পরিবর্তন আসতে হবে ব্যালটের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জনগণের বাংলাদেশ।

আজকের এই জনসভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। 

এর আগে, ড. এম এ কাইয়ুম ভাটারার সোলাইমাদ এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলেও অংশ নেন।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ড. এম এ কাইয়ুম এলিট ফোর্সেস সমর্থক গোষ্ঠী আজ ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ২৩ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ও মিছিলের আয়োজন করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ শেষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়ে একটি বিশাল মিছিল খিলগাঁও এলাকার তালতলা মেম্বার আগার থেকে শুরু হয়ে ভূতের আড্ডা, চৌধুরীপাড়া, কেএফসি মোড়, মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মালিবাগ মসজিদ হয়ে ১ম লেন, বাজার রোড ২য় লেন, ডেন্টাল গলি, মিরাজ হোটেল মোড়, সবুজ সংঘ মাঠ, তালতলা মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মেম্বার আগারে এসে শেষ হয়।

এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন ড. এম এ কাইয়ুম এলিট ফোর্সেস সমর্থক গোষ্ঠীর আহবায়ক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক শেখ মনির হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল মেছের।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, শ্রমজীবী এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসীদেরও বিশাল এই মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। এসময় সবাই উচ্ছসিত কন্ঠে 'ধানের শীষ' স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.