February 2, 2026, 1:18 am


কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Published:
2026-02-01 20:00:29 BdST

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি করলো ভারত


ভারতের নতুন অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি বেড়ে আগামী বাজেটে ৬০ কোটি রুপি হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটের নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া অনুদান সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা গেলেও এই সহায়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য বরাদ্দ অনুদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে ভারত সরকার। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই অঙ্ক ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পরে সংশোধিত হিসাবের সময় কমিয়ে আনা হয়।

অন্যদিকে, ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য নতুন অর্থবছরে কোনো অনুদান দিচ্ছে না ভারত। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দরের জন্য ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেও আরও ৪০০ কোটি রুপির প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে নতুন বাজেটে সেই বরাদ্দ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা এবং ভারতের ওপর সম্ভাব্য শুল্কচাপ এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৭ অর্থবছরে অনুদান বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানও। দেশটির জন্য অনুদান সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যেখানে আফগানিস্তান ১০০ কোটি রুপি পাচ্ছিল, সেখানে নতুন অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি রুপিতে।

ভারতের বিদেশি সহায়তা প্রাপকদের মধ্যে বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে ভুটান। দেশটির জন্য মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। গত অর্থবছরের তুলনায় ভুটানের জন্য বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের জন্য সহায়তা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে মরিশাসের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটি রুপি। মালদ্বীপের জন্য বরাদ্দ প্রায় একই থাকলেও তা ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রে চার শতাংশ কমিয়ে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি।

যেসব দেশ ও অঞ্চলে ভারতের সহায়তা বেড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির জন্য অনুদান ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটি রুপি। সিচেলিসের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মোট ১৯ কোটি রুপি। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ২২৫ কোটি রুপি, ইউরেশীয় অঞ্চলের জন্য ৩৮ কোটি রুপি এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদান বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত ১২ হাজার ১০৭ কোটি রুপির তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। এই মোট সহায়তার মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৭ কোটি রুপি আসবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং অতিরিক্ত ১ হাজার ৭৯৪ কোটি রুপি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে ভারতের বিদেশি সহায়তা নীতিতে কৌশলগত ও আর্থিক পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.