শাহীন আবদুল বারী
Published:2026-02-08 22:38:48 BdST
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটাঙ্গাইল-৫ এ "ধানের শীষ" প্রার্থী টুকু এগিয়ে
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রচারণা। এই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন এবং তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। ভোটাররাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে টুকুকে সমর্থন দিচ্ছেন। মন দিয়ে শুনছেন টুকুর মুখে উন্নয়নের সব কথা।
তারা বলছেন, টুকুর বিনয়ী আচরণ এবং মায়াবী কন্ঠ একবার শুনলে বার বার শুনতে মন চায়। তিনি এমপি হলে আমাদের টাঙ্গাইল সদর তথা চরের মানুষের উন্নয়ন হবে।
তারা আরও বলেন, আজকাল যেসকল উগ্রবাদীরা টুকুর বিরোধিতা করছে, তারা আসলে সত্যিকার অর্থেই দলকে ভালোবাসে না। এরা হচ্ছে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর অনুসারী। ১২ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইল সদরের ভোটাররা তাদের বয়কট করে টুকুকেই ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবে।
এদিকে, ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিজের জন্মস্থানের মাটিতে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। এমনকি চলার পথে কোথাও মানুষের জটলা দেখলেই গাড়ি থেকে নেমে কুশলাদি বিনিময় করছেন। কোথাও অংশ নিচ্ছেন পথসভায়, কোথাও আবার নির্বাচনী অফিসে মতবিনিময় করছেন। এছাড়া সন্ধ্যা ও রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে সভা ও মতবিনিময়েও অংশ নেন। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি চায়ের স্টল টুকু বন্দনায় মুখরিত। সবার মখে একই কথা "আমরা টুকুকে ধানের শীষে ভোট দেব"।
টুকুর বিনয়ী আচরণে মুগ্ধ ভোটাররা
সম্প্রতি, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে খাস কাকুয়ার স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এক চা দোকানি এই প্রতিবেদককে জানান, দিন যত যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থান শক্ত হচ্ছে। এলাকায় ৭০ ভাগ মানুষ এখন ধানের শীষের পক্ষে। তারমতে, বিপুল ভোটে জিতবে "ধানের শীষ "।
নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সরিষা ক্ষেতে কৃষকদের কাজ করতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন টুকু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী।
টুকু কৃষকদের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের পর আবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় এক বৃদ্ধকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। টুকুকে জড়িয়ে ধরে কৃষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ওই কৃষক বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই বিএনপি করি, আল্লাহ যেন আপনার দিকে মুখ তুলে চায়। আমি পুরোদমে কাজ করতেছি আপনার জন্য।'
পাশেই এক নারীর কাছে গিয়ে ৩১ দফার কথা বললে তিনি টুকুকে বলেন, 'কিছু পাইলেও ভোট দিমু, না পাইলেও ভোট দিমু। গাড়ি থেকে নাইমা যখন এখান পর্যন্ত আইতে পারছেন, তাহলে আপনারেই ভোট দিমু। আমি জিনিসে খুশি না, কথায় খুশি। আপনি গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কাছে আসছেন—এটাই তো মেলা কিছু।'
ইতিমধ্যে তাঁর সরাসরি জনসংযোগ ও স্বভাবসুলভ আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখায় যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টাঙ্গাইলের নির্বাচনী জনসভায় সদরবাসীর পক্ষ থেকে সাতটি উন্নয়নমূলক দাবি তুলে ধরেন জননেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। যা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তারেক রহমান। এতে টুকুর প্রতি টাঙ্গাইল সদরবাসী আগের চেয়ে আরও বেশী উচ্ছ্বসিত। চা স্টল থেকে শুরু করে অফিস-আদালতের আড্ডায় এসব দাবি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
‘জনতার সংযোগ’
এদিকে, এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে ‘জনতার সংযোগ’ ফোন বুথ উদ্বোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এই বুথের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা প্রয়োজন সহজে জানানো যাবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়া সত্ত্বেও টাঙ্গাইল সদরে উন্নয়নের ছোঁয়া তুলনামূলক অনেক কম। সাবেক এমপি-মন্ত্রী প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের পর এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমন একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী নেতৃত্ব, যিনি মেধা ও দক্ষতায় এগিয়ে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে তেমনই একজন যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখছেন অনেকে। তিনি জয়ী হলে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বেধে দেয়া এই স্বল্প সময়ে আমি একা সব ভোটারের কাছে যেতে পারব না। তবুও যতটুকু সম্ভব মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ফোনের মাধ্যমেও সবাইকে সালাম পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রাম থেকে শহর, যেখানেই যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই টাঙ্গাইলের উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সারাদেশের উন্নয়নের তালিকায় টাঙ্গাইল এক নম্বরে থাকে। এছাড়া, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ টাঙ্গাইল চাই, যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে।
ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দলকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ১২ দফা কারাভোগ করেন তিনি।
অতীতের সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের মানুষের আস্থার প্রতীক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ১৭ বছর পর আমরা ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে "ভোট" দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আপামর জনগণের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা তৈরি করতে গিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি নিজেও পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেছে। যা শুনলে যে কারও শরীর শিউরে উঠবে।
টুকু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ জিতলে তারেক রহমান জিতবেন। অন্যদিকে, এখন ব্যক্তিস্বার্থে যারা ধানের শীষের সাথে বেইমানি করবে, তারা প্রকৃতপক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বেইমানি করবেন।
তিনি আরও বলেন, নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের প্রিয় মার্কা ধানের শীষ। যখন মানুষের ঘরে দু'বেলা ভাত জুটতো না, ঠিক তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দারিদ্রতা ও অভাব-অনটন দূর করতে দেশব্যাপী কৃষকদের মাঝে ইরি ধানের বীজ রোপণ করেন। সেই থেকে ধানের শীষের প্রতি মানুষের বাধভাঙ্গা ভালোবাসা। ১২ ফেব্রুয়ারী দেশ রক্ষার মার্কা ধানের শীষ।
পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকা এই বিএনপি নেতা এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা তাঁর।
টুকু বলেন, ধানের শীষ আমাদের প্রিয় মার্কা। এই মার্কা দেখলে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। এটি পবিত্র ও মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক।
কোটি কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আজ ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে টুকু বলেন, কেউ যদি এখন হেলাফেলা করে ভোট না দেন তাহলে তার মতো দুর্ভাগা আর কেউ থাকবে না। সামনে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন। আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যেন একটি ধানও নষ্ট না হয় এবং মাটিতেও না পড়ে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন, পুরুষ ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩০টি।
এই আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছাড়াও আরও ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আহসান হামীব মাসুদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মো. মোজাম্মেল হক, গণঅধিকার পরিষদের মো: শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
