February 9, 2026, 12:47 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-02-09 10:56:20 BdST

তিন মহাদেশে ব্যবসার প্রসারপ্রযুক্তি ব্যবসার আড়ালে ২ ভাইয়ের অর্থপাচার


নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে তিনটি কোম্পানি খুলেছেন, প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা- স্মার্ট টেকনোলজির জহিরুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন তিন মহাদেশে।

যদিও তাদের এই ব্যবসা সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। বছরখানেক আগে দুদক এনিয়ে কাজ শুরু করলেও, নেই অগ্রগতি।

আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির সবচেয়ে পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি স্মার্ট টেকনোলজিস। নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন বিস্তৃত প্রযুক্তি, খাদ্য ও নির্মাণখাতে। আছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সাথে অংশীদারিত্বও।

তবে, ব্যবসার আড়ালে, দুই ভাই জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলামের বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, সরকারের অনুমতি না নিয়েই ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে তারা গড়ে তোলেন স্টারসিড টেকনোলজি নামের একটি কোম্পানি।

যাতে প্রাথমিক মূলধন ছিল ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। টাকায় প্রায় ৫৮ কোটি। এই কোম্পানির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরেও প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহের ব্যবসা করছেন জহিরুল ব্রাদারস। যাতে সমান মালিকানা দুই ভাইয়ের।

সিঙ্গাপুরের সরকারি দপ্তরের নথি বলছে, তুরস্কের নাগরিক পরিচয়ে এই কোম্পানি খুলেছেন জহিরুল ব্রাদারস। অর্থাৎ, সেজন্যও কোটি টাকা খরচ করেছেন এই দুই ভাই।

আরব আমিরাতের দুবাইয়েও একই ধরনের আরো দুটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন জহিরুল ব্রাদারস। এর মধ্যে সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট নিবন্ধন পায় ২০০২ সালে। যার ১৫ শতাংশের মালিক জহিরুল। বাকি ৮৫ শতাংশ মাজহারুল ইসলামের। এই কোম্পানির ব্যবসা বিস্তৃত আফ্রিকাসহ তিন মহাদেশে।

এছাড়া টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট নামে রয়েছে আরো একটি কোম্পানি। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি দুবাই বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় অবস্থিত। যার ব্যবসা বিস্তৃত কয়েকটি দেশে।

জহিরুল ব্রাদার্সের এসব বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে কোন অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হিসাব নেই আয়কর নথিতেও। এসব বিষয়ে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি জহিরুল ইসলাম।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অর্থ পাচারের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। অব্যাহত রাখতে হবে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া।

এদিকে, জহিরুল ইসলামের অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ায় অগ্রগতি নেই সেখানেও।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.