February 16, 2026, 6:36 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-02-16 15:46:30 BdST

তারেক রহমান যেন "পিন্টু-টুকুর" ত্যাগের মূল্যায়ন করেন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি আসন থেকে আপন দুই ভাই আবদুস সালাম পিন্টু ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম (পিন্টু) পতিত সরকারের মিথ্যা মামলায় ১৭ বছর জেলে ছিলেন। এর মধ্যে ৫ বছর কাটিয়েছেন ফাসির সেলে। তাঁর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ছিলো ৩৩৮টি মামলা। তিনি সাড়ে ৫ বছর জেল খেটেছেন। ৪৬ বারে ৬ মাসের অধিক রিমান্ডে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। টুকুকে একাধিকবার মেরে ফেলার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

এই দুই ভাই বিগত ১৭ বছর ছিলেন পরিবারের বাইরে। তাদের একমাত্র আল্লাহ সহায় ছিলেন। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া টুকুকে অত্যন্ত স্নেহমায়া করতেন। টুকু নিজের জীবন বাজী রেখে, পরিবারের মায়া-মমতা ত্যাগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। দলের জন্য জিয়া পরিবারের নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অন্যদিকে, আব্দুস সালাম পিন্টুকে রিমান্ডে নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করে আওয়ামী পুলিশ প্রশাসন, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও সালাম পিন্টু নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেননি। জিয়া পরিবার হলো পিন্টু-টুকুর কাছে এক আদর্শের নাম।

আবদুস সালাম টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে এবং সুলতান সালাউদ্দিন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আবদুস সালাম পিন্টু এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এই দুই ভাই ছাড়া এক পরিবার থেকে আর একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইলে বিএনপি ভঙ্গুর রাজনীতির হাল ধরেন। এই দুই ভাইকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী বানালে গোটা উত্তরবঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে যতোটুকু সমস্যা আছে তা ভবিষ্যতে থাকবেনা।

আবদুস সালাম জেলার ৮টি আসনের ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সর্বোচ্চ ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ এবং ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময় এই মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে তিনি এ মামলায় খালাস পান।

আবদুস সালাম পিন্টু কারাগারে থাকাকালে তাঁর অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২ আসনের দায়িত্ব সামলান। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ওই আসন থেকে নির্বাচন করেন। পরবর্তী কালে তিনি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনে টুকুর বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তিনি বিপুল ভোটে এমপি হয়েছেন। টাঙ্গাইলবাসীর প্রত্যাশা তারেক রহমান বৃহত্তর স্বার্থে পিন্টু-টুকুকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করবেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, এবার সংসদ নির্বাচনে আবদুস সালাম ও সুলতান সালাউদ্দিন ছাড়া এক পরিবার থেকে দুজন সংসদ সদস্য আর কেউ নির্বাচিত হননি। তাঁরা দুই ভাই দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আবদুস সালামকে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিনও বিগত আওয়ামী লীগ আমলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক নির্যাতন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের কারণেই দল তাঁদের মূল্যায়ন করেছে। সেই সঙ্গে টাঙ্গাইলের মানুষ বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আশা করি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই ভাইকেই সম্মানিত করবেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.