নিজস্ব প্রতিবেদক
Published:2026-03-06 18:54:16 BdST
ঈদে বাড়তি ভাড়া এবং চাঁদাবাজির সুযোগ নেইঃ সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেল ও নৌ পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি নিবন্ধিত ও বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কারণ শ্রমিক ও মালিকরা তাদের কল্যাণে নেন।’
সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ঈদযাত্রার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহণ খাতে সরকার চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সমিতি বা সংগঠনের বৈধতা না থাকলে এবং তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে, তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেল ও নৌ পরিবহণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি জানান, সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে তদারকি জোরদার করবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চলাচলের অনুপযোগী বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সড়কের চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শেখ রবিউল আলম জানান, গার্মেন্টস কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। এছাড়া প্রয়োজনে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
