Shamiur Rahman
Published:2026-03-10 16:48:50 BdST
যাকাতের মাধ্যমে বছরে ৫লাখ দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করবেন প্রধানমন্ত্রী
শাহীন আবদুল বারীঃ
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদকে সভাপতি করে বায়তুল মাকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আহমাদুল্লাহকে প্রধান সমন্বয়ক করে ৭সদস্যের যাকাত ম্যানেজমেন্ট একটি কমিটি করা হচ্ছে।
এরজন্য গতকাল প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজকর্ম শেষ করে আলোচনা করতে বসেছিলেন শায়েখ আহমাদুল্লাহ’র সঙ্গে। কারা কারা এই কমিটিতে থাকবেন তা ঠিক করবেন মুফতি আবদুল মালেক ও শায়েখ আহমাদুল্লাহ।
মূলত গত পরশু আলেম-ওলামাদের সম্মানে ইফতার করার সময় তাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রাথমিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবেন তারেক রহমান। যেটি তিনি নাতিদীর্ঘ বক্তৃতায় উল্লেখও করেছিলেন।
আমরা বছরে যে পরিমাণ টাকা যাকাত হিসেবে প্রদান করি সেটা যদি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হতদরিদ্র থেকে লিস্ট করে পরিকল্পনামাফিক অন্তত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকাও যদি একেকটি পরিবারকে প্রদান করা হয়, কিংবা তাদের স্বনির্ভর হয়ে ওঠতে কিছু করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতি বছর অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব।
এভাবে এক দশক চেইন চলতে থাকলে এক পর্যায়ে দেশে হতদরিদ্র পরিবার প্রায় কমে যাবে।
শায়েখ আহমাদুল্লাহ দারিদ্র্য বিমোচনে নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। একারণে উনাকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উনি প্র্যাক্টিক্যালি এই ফিল্ডে কাজ করছেন, অবস্থা কী, জানেন ভালো করে। তার রিসার্চ আছে।
শুধু গত এক বছরের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে আহমাদুল্লাহ ২১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রশিক্ষণ নেয়া ওই তরুণরা বছরে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করছে।
যাকাত মডেল বাস্তবায়ন করে এক বছরেই কয়েক হাজার পরিবারকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠতে সহায়তা করেছেন।
যাকাতের অর্থ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায় এবং দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে তা কীভাবে প্রত্যক্ষভাবে কাজে লাগানো সম্ভব—এসব বিষয়ে গতকাল খোলামেলা আলোচনা করেছেন। একটা মডেল দাঁড় করানোর জন্য আলোচনা হয়েছে।
শুধু ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতেই বছরে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ যাকাত আদায় হয়। সেই টাকা থেকে একটা বড় অংশ বাংলাদেশে এনে পরিকল্পনামাফিক সুষ্ঠু বণ্টন করে প্রতি বছরেই স্থায়ীভাবে কয়েক লাখ পরিবারে দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব হবে।
তারেক রহমানের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ সফল হলে বছরে ৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। আগামী ৫ বছরে ৫০/৬০ লাখ দরিদ্র পরিবার এই যাকাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের অর্থনীতিতেও একটি প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি গরীব অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এটি স্বয়ং মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পন্থা অবলম্বন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত সে পথেই হাটছেন। দেশের আলেমসমাজ প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
