April 12, 2026, 4:26 pm


নেহাল আহমেদ, রাজবাড়ী

Published:
2026-04-12 14:03:33 BdST

ঐতিহ্য ও সংকটের গল্পবৈশাখী মেলা ও রাজবাড়ীর পালপাড়ার মৃৎশিল্প


বাংলা নববর্ষ, বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। এই উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসে বৈশাখী মেলা, যা শুধু আনন্দের নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পেরও এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হলো রাজবাড়ী জেলার পালপাড়াগুলো। যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে মাটির তৈরি মৃৎশিল্প।

বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে পালপাড়ায় এখন বইছে কর্মচাঞ্চল্যের হাওয়া। বছরের এই সময়টিতে এখানকার মৃৎশিল্পীরা হয়ে ওঠেন সবচেয়ে ব্যস্ত। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি থেকেই শুরু হয় তাদের নিরলস প্রস্তুতি। প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন একেকটি ছোট কারখানা—কেউ নদীর পাড় বা জমি থেকে উপযুক্ত মাটি সংগ্রহ করছেন, কেউ সেই মাটি পরিশোধন করে নরম ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলছেন। এরপর চাকার ওপর কিংবা হাতে দক্ষতার সঙ্গে গড়ে তুলছেন খেলনা, হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, শোপিসসহ নানান শৌখিন সামগ্রী।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রয়েছে ধৈর্য ও নিখুঁততার পরীক্ষা। প্রথমে তৈরি করা বস্তুগুলো রোদে শুকানো হয়, তারপর চুল্লিতে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়। সবশেষে রং-তুলির সূক্ষ্ম আঁচড়ে সেগুলো হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় ও বর্ণিল। প্রতিটি পণ্যে ফুটে ওঠে শিল্পীর মনের রং, গ্রামীণ জীবনের ছাপ এবং শত বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।

তবে এই ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিকের তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে মাটির জিনিসের চাহিদা। ফলে অনেক মৃৎশিল্পীই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। শত শত বছরের এই শিল্প যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে।

তবুও আশার কথা, বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে এখনও কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পায় এই শিল্প। মানুষ যখন মাটির তৈরি পণ্যের প্রতি আবার আকৃষ্ট হয়, তখন মৃৎশিল্পীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখেন। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং মানুষের সচেতন।

মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা মানে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বকেই সংরক্ষণ করা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.