April 24, 2026, 4:33 am


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-04-24 02:44:20 BdST

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ পন্য খালাস, অবৈধ সম্পদ অর্জনঢাকা কাষ্টমসের এআরও ওয়াসিফ বিল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ


চোরাকারবারিদের সাথে পারস্পরিক যোগসাজসে অবৈধ পণ্য সামগ্রী ছাড়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মবহির্ভূতভাবে পন্য খালাসে ঘুষ গ্রহন, দুর্নীতি এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের নানা পন্থায় হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ওয়াসিক বিল্লাহর বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভিউ ব্রিড বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন হোসেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা কাস্টমস হাউসের দুর্নীতিবাজ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানকে চোরাচালান ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তার নানাবিধ অপকর্মের সাথে অপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনও জড়িত। এই দুই অসাধু কর্মকর্তা পারস্পরিক যোগসাজশ করে ঢাকা কাস্টমস হাউসে নির্বিঘ্নে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে চোরাচালান বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এর মূলহোতা হচ্ছেন ওয়াসিক বিল্লাহ।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা কাস্টমস হাউসে এখন বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস নেওয়া কষ্টকর। ওয়াসিক বিল্লাহ প্রায়শই সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে পন্য খালাসের বিনিময়ে ঘুষ দাবি করে থাকেন। বৈধভাবে সকল শর্ত পূরণ করে পন্য আমদানি করলেও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহর চাহিদামতো ঘুষ না দিলে উক্ত ব্যবসায়ীদের ফাইল নষ্ট করে দিচ্ছেন।

অভিযোগকারী মহসিন হোসেন জানান, ঢাকা কাষ্টমস হাউজের এই দুর্নীতিবাজ ও নির্লজ্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহর দৈনন্দিন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। প্রায়শই ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানভেদে এক লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন তিনি। অফিসে থাকাকালীন ঘুষ ছাড়া কাউকে পাত্তাই দেন না ওয়াসিক। তার দাম্ভিকতা আর একগুয়েমি থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না জনমূখী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। এছাড়া গত ছয় মাসে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত ওয়াসিক বিল্লাহ।  

অভিযোগপত্রে তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের এই অসাধু কর্মকর্তা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও মদ এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে বের করে উত্তরাস্থ কিংফিশার বারে সরবরাহ করছেন। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে উক্ত বার মালিককে নানা সুযোগ সুবিধাও দিয়ে থাকেন ওয়াসিক বিল্লাহ।

এছাড়াও, ঢাকা কাষ্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহ কোনো প্রকার ঘোষণা ও আমদানি শর্ত প্রতিপালন না করেই মিথ্যা ঘোষণায় ভিআইপি মর্যাদায় বিভিন্ন পন্য খালাস করে দিচ্ছেন। এর ফলে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং এসব অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ পন্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, বৈধ ব্যবসায়ীরা এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনেকেই পথে বসে যাচ্ছেন। আর এই ফাঁকিকৃত রাজস্বের টাকা অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন মহসিন।

ঢাকা কাষ্টমস হাউজের এই বেপরোয়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহ এখন বাংলাদেশ কাস্টমসের কোনো নিয়মকানুন, আইনের তোয়াক্কা করছেন না। সে এসব আমদানি নিষিদ্ধ, আমদানি শর্তযুক্ত এবং উচ্চ শুল্কের পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে দেদারছে খালাস করে দিয়ে রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছেন। এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেট ধ্বংস এবং চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের বৈধ ব্যবসার স্বাভাবিক পথ সুগম করার দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে।

উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাকা কাষ্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহর মুঠোফোনে কল দেয়া হলে এই প্রতিবেদকের সাথে পরে যোগাযোগ করে কথা বলবে বলে জানান তিনি। তবে এই প্রতিবেদন লেখাকালীন অদ্যাবধি ওয়াসিক বিল্লাহ 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র সাথে যোগাযোগ করেননি।

এদিকে, এফটি টীমের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকা কাষ্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিক বিল্লাহর নামে রাজধানীর মিরপুরের বাউনিয়া মৌজায় ৩৬৪৯৭ নং খতিয়ানে ৩৩ শতাংশ জমির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ওয়াসিক বিল্লাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় ওয়াসিক বিল্লাহর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে আগামী পর্বে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.