May 5, 2026, 3:01 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-05-05 13:54:46 BdST

ঢাকা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূলে হতাশা


ঢাকা মহানগরের সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন যারা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সাংগঠনিক শক্তির মূল ভিত্তি ছিলো ঢাকা মহানগর বিএনপি। বর্তমানে এই ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে যে হতাশা ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

রাজধানীর রাজপথ যখন আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র, তখন দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা মহানগর এর দুই ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মূলতঃ নেতৃত্বের সংকট ও দলীয় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে মাঠপর্যায়ের হাজারো নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বর্তমানে দিশেহারা। রাজধানীতে দলীয় কার্যক্রম বেগবান করতে একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে দ্রুত কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূল আবার উজ্জীবিত হবে। দেশ ও গণতন্ত্র উদ্ধারের এই লড়াইয়ে ঢাকাকে শক্তিশালী করতে অনতিবিলম্বে একটি শক্তিশালী ও যোগ্য নেতৃত্বই পারে মহানগর বিএনপিকে আবার রাজপথের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলতে।

দলের অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন যে, যোগ্য এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী ইউনিট গঠনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

দলীয় সূত্র জানায়, তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা চলছে। একই সঙ্গে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কৌশলও নেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটি ঘিরে তৎপরতা

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি গঠন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে নীরব তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, সমর্থন সংগ্রহ এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে রাজি নন।

উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে সবচেয়ে আলোচিত নাম এস এম জাহাঙ্গীর। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তার পাশাপাশি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে উত্তর বিএনপির পরিচিত মুখ কাউন্সিলর আনারুজ্জামান আনোয়ার। দক্ষ সংগঠক হিসেবে মাঠে সক্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর বিএনপির পরিচিত মুখ কাউন্সিলর আনারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, ‘আমাদের চাওয়া দলের চেয়ারম্যান যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই শীর্ষ পদে রাখবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ত্যাগী, দক্ষ সাংগঠনিক ও যোগ্যরা উত্তর বিএনপিতে এলে দলের শক্তি বাড়বে।’

উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন শামসুর রহমান শামসুর। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রেখেছে।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন জগলুল পাভেল পাশা। বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তার প্রতি দলের সহানুভূতিশীল অবস্থান রয়েছে, যা তাকে এই পদের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

জানতে চাইলে উত্তর বিএনপির নেতা ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শামসুর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পেলে অবশ্যই দলকে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করব।’

দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। মুন্নাকে সবাই দক্ষিণ বিএনপিতে দেখতে চান বলে দলীয় বিশেষ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোনায়েম মুন্না কেন্দ্রীয় শীর্ষ যুবদলের দায়িত্বরত অবস্থায় দলের মধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে এই পদে বেশ এগিয়ে রেখেছে।

দক্ষিণ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সভাপতির পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ হারুন। হারুন দলের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে বিভিন্ন মহলে বেশ পরিচিত। এছাড়া দলের হাইকমান্ড তাকে বেশ পছন্দ করেন।

সূত্র মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তার কারণে এর মধ্যে হারুন কমিশনার সভাপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ হারুন জানান, দল চাইলে দক্ষ সাংগঠনিক যারা, তাদের সামনে আনতে পারে।

এছাড়া সভাপতির একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। এই পদে বেশ এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হামিদুর রহমান হামিদ।

দলীয় সূত্রের দাবি, এই দুজনের মধ্যে রবিন তুলনামূলকভাবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কেন্দ্রের মূল্যায়নের ওপর।

দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন খন্দকার এনাম (দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক) ও গোলাম মাওলা শাহীন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার কমিটি বিলুপ্ত ও পুনর্গঠনের কারণে সাংগঠনিক স্থিতিশীলতায় কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে।

ফলে এবার একটি কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ও কর্মমুখী নেতৃত্ব গঠনে কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠনের কাজও চলছে, যা নতুন মহানগর কমিটি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আসন্ন পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে দলের ভেতরে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একাংশের মতে, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামের সময়ে যেসব নেতা মাঠে সক্রিয় ছিলেন না বা নেতাকর্মীদের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেননি, তাদের পুনরায় নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ার পাশাপাশি সংগঠনের গতিশীলতা কমে যেতে পারে এবং অনুপ্রবেশকারী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এই অংশের মতে, নেতৃত্ব এমন হওয়া উচিত যারা সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের জন্য সময় দিতে পারবেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন।

তাদের দৃষ্টিতে, দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা করে দেখে একজন পূর্ণকালীন সংগঠনকেন্দ্রিক নেতৃত্বই বেশি কার্যকর।

তাদের মতে, এমপি বা মন্ত্রী হলে মূল দায়িত্ব হয়ে যায় রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কাজ। ফলে সংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তদারকি কমে যেতে পারে, যা সংগঠনের গতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠনে শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ ও দিকনির্দেশনা নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ব্যাপারে অনেকেই বিএনপি’র চেয়ারপারসন তারেক রহমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.