সামি

Published:
2019-12-15 19:28:24 BdST

ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে অ্যাপভিত্তিক কৃষি সেবা


এফটি বাংলা

আর্দ্রতা-খরা বা আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের বালাই আক্রমণ করতে পারে সে বিষয়ে ঘরে বসেই তথ্য পাচ্ছেন কৃষক। ফসলের উৎপাদন কখন কী পর্যায়ে রয়েছে, কী ধরনের পরিচর্যা জরুরি, সে নির্দেশনাও চলে যাচ্ছে কৃষকের সেলফোনে। প্রতিকূল পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও জেনে নিতে পারছেন তারা। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসলের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমছে। এতে ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। অ্যাপস পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জরিপেই এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেশে কয়েকশ কৃষিভিত্তিক মোবাইল অ্যাপস চালু রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষি বাতায়ন, ফসলী, রাইস নলেজ ব্যাংক, কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার ও কৃষকের জানালা।

এসব অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের ৪০ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরো কয়েক লাখ যুক্ত থাকছেন। এসব অ্যাপ থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তিতে কৃষকের দক্ষতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ফসলের উৎপাদনশীলতাও।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান বলেন, কৃষি বিষয়ে আগাম সতর্কতা এবং ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ কৃষকের জন্য খুবই প্রয়োজন। কী ধরনের সার ও অন্যান্য উপকরণ দিতে হবে, সে বিষয়ে কার্যকর তথ্য সঠিক সময়ে দেয়া দরকার। সঠিক রোগ জানা থাকলে সহজেই কার্যকর ওষুধ দেয়া সম্ভব হয়। এতে কৃষকের খরচ কমে।

মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের কৃষকরা সহজেই সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সামনের দিনগুলোয় অ্যাপভিত্তিক আরো বেশি সেবা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কারণ কৃষি সেবার এসব অ্যাপ কৃষকের দক্ষতা যেমন বাড়াচ্ছে, সেই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

কৃষি বাতায়ন 

কৃষি সেবা সহজে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বাতায়ন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন কর্মসূচির আওতায় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চালু করা হয় এটি।

কৃষি বাতায়নে নিবন্ধিত যেকোনো কৃষক ‘৩৩৩১’ নম্বরে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন। প্রথমেই কলটি তার ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তা চলে যাচ্ছে কৃষি কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে। কৃষকের সমস্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমাধান দিচ্ছেন তারা।

ফসলী 

১২টি জেলার প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার কৃষককে কৃষিবিষয়ক পাঁচ ধরনের তথ্য সেবা দিচ্ছে এসিআই লিমিটেডের ‘ফসলী’ অ্যাপস। এ অ্যাপসের মাধ্যমে সম্প্রসারণ কর্মীরা স্যাটেলাইট ডাটা ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষককে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

এ অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষক বালাই ও রোগের ক্ষেত্রে করণীয় এবং শস্য উৎপাদনে আয়-ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণের তথ্য পাচ্ছেন। মাঠে থাকা ফসলের উৎপাদন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় কোন পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে অ্যাপসটি। পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নওগাঁ, রংপুর, দিনাজপুর, কক্সবাজার, খুুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরার কৃষকরা এটির সুবিধা নিতে পারছেন।

ইন্টেলিজেন্ট ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (আইডিএসএস) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষককে কার্যকর তথ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। অ্যাপসটি ডিএই, এসিআই লিমিটেড, নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসএনভি) ও নেদারল্যান্ডস স্পেস অফিস যৌথভাবে পরিচালনা করছে।

এ অ্যাপটি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষির বৈচিত্র্যায়নকে বেগবান করছে বলে জানান এসিআই এগ্রিবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ফা হ আনসারী।

তিনি বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে কৃষককে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হচ্ছেন সম্প্রসারণ কর্মীরা। এতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ছে। পাশাপাশি কৃষিতে যে বৈচিত্র্যায়ন সেটিও গতি পাচ্ছে। আমরা শস্য খাতের পাশাপাশি মাছের জন্য রুপালি, পোলট্রি খাতের জন্য সোনালি ও গবাদি পশুর জন্য খামারী অ্যাপস চালু করেছি।

কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার 

প্রান্তিক কৃষকদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার’ ২০১৫ সালে চালু করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি)। অ্যাপটির মাধ্যমে উদ্ভাবিত ফসলের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি, বিশেষ করে রোগবালাই, পোকামাকড় ও সার ব্যবস্থাপনাসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়।

অধিকতর তথ্য জানার জন্য প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন করার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্বল্পমূল্যে কল সেন্টারের (১৬১২৩) মাধ্যমে সেলফোনেই পরামর্শও নেয়া যায়।

বারির মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি কৃষককে অ্যাপটির মাধ্যমে তার চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের এ প্রযুক্তির ব্যবহার আয়ত্তে সহায়তা করছেন। কৃষিকাজে প্রযুক্তির এ ব্যবহার দেশের প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে।

রাইস নলেজ ব্যাংক 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ব্রি) চালু করেছে রাইস নলেজ ব্যাংক অ্যাপসটি। এটি মূলত ধান উৎপাদন প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্যভাণ্ডার। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ধানের বিষয়ে সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায় অ্যাপসটিতে। বিশেষ করে ধানের উৎপাদন পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা, বালাই ব্যবস্থাপনা, বীজ উৎপাদন ও বিপণন বিষয়ে সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এ অ্যাপসটিতে।

কৃষকের জানালা 

কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা ও সমাধানের উপায় বিশেষ করে রোগ-পোকামাকড়ের ছবিসহ চিকিৎসাপত্র, সার, বীজ ও বালাইনাশকের তথ্যাবলি, উপজেলার শস্যবিন্যাস, ভেজাল সার শনাক্তকরণের ভিডিওচিত্র রয়েছে অ্যাপটিতে। এখানে ছবি দেখে কৃষক নিজেই তার সমস্যাটি চিহ্নিত করতে পারেন এবং চিহ্নিত ছবিতে ক্লিক করলেই সমস্যার সমাধানের ছবি ভেসে উঠবে। প্রতিটি সমস্যার একাধিক ছবি এবং কমপক্ষে একটি প্রতিনিধিত্বপূর্ণ ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষক সহজেই তার সমস্যাটি চিহ্নিত করতে পারেন। এখানে ১২০টি ফসলের এক হাজারের বেশি সমস্যার সমাধান রয়েছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা