টাঙ্গাইলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঘোষণা
টাঙ্গাইল সদরের মানুষ আমার বড় শক্তি ও সাহসঃ প্রতিমন্ত্রী টুকু
আজ শুক্রবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই কথাগুলো বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইল সদরের মানুষই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে বড় সাহস। আপনাদের হাত ধরে, আপনাদের ভালোবাসা বুকে নিয়েই এগিয়ে যাবে আমাদের এই প্রিয় জনপদ। তরুণের স্বপ্ন, যুবকের শক্তি আর মুরব্বিদের দোয়া; সবকিছুকে সঙ্গে নিয়েই আমরা গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল সদর, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনের আগে আপনাদের কাছে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে করা অঙ্গীকার হলো আমানত। সেই আমানতের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।
আজ শুক্রবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই কথাগুলো বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এসময় আবেগঘন কন্ঠে টুকু বলেন, যমুনার ভাঙন রোধে টাঙ্গাইলে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধের যে ঘোষণা আমি নির্বাচনের আগে দিয়েছিলাম, সেটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে আজ আপনাদের কাছে এসেছেন আমার প্রিয় নেতা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এ্যানি ভাই টাঙ্গাইলে উৎসবের একটা আবহ তৈরী করে দিলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত টাঙ্গাইল সদরবাসীর প্রাণের দাবী পূরণে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি ভাইয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
মন্ত্রীদ্বয়কে এলাকাবাসীর ফুলেল সংবর্ধনা
এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এসময় স্থানীয় জনগন বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভার তারুন্যের প্রতীক দুই মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সুলতা সালাউদ্দিন টুকু
এদিকে, নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে মন্ত্রীদ্বয় বাধ নির্মাণের খুটিনাটি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে, যমুনা নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
এ্যানির বাধ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে টুকুর আত্মতৃপ্ত হাসি
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা তীরবর্তী নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই আমি নিজেই সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এই অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমি এই এলাকার মানুষের প্রতিটি মুহুর্ত পাশে থাকবো এবং আছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এছাড়াও জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী টুকু। যা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুকু।
তিনি বলেন, পশ্চিম টাঙ্গাইলের যমুনা নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলিত। তাদের জন্যই একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছি সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টাঙ্গাইলকে সর্বোচ্চ উন্নয়নের পর্যায়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি যেভাবে এগোচ্ছেন তাতে আগামী পাঁচ বছর পর উন্নয়নের তালিকা হলে টাঙ্গাইল সদর এক নম্বরে থাকবে।
অন্যদিকে, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে যুব সমাজকে সচেতন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
Shamiur Rahman
