বিশেষ প্রতিবেদক
Published:2023-11-08 16:46:23 BdST
রাজধানীতে ভূয়া "ডাক্তার" পদবী ব্যবহার করে রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য করছেন মোঃ ইফতেখার আহমেদ সুমন
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় বসে খোদ রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার মোঃ ইফতেখার আহমেদ সুমন অদৃশ্য শক্তির প্রভাব খাটিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের নামের আগে অবৈধভাবে নিয়ম বহির্ভূত 'ডাঃ' শব্দ ব্যবহার করে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধ সহ সকল বয়সের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসাপত্র দিয়ে প্রতারণা করে অপচিকিৎসা বাণিজ্য করে আসছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ঢাকা সহ রাজধানীর আশেপাশের জেলাগুলোতে ব্যবস্থাপত্রে বড় বড় ডিগ্রি, এমবিবিএস পাস না করেও তারা সকল রোগের চিকিৎসক। এমনকি করছেন অস্ত্রোপচারও। অথচ তারা পল্লী চিকিৎসক।
আরএমপি (রুরাল মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার) কোর্স করেই এমবিবিএস চিকিৎসকের মতই করছেন জটিল সব রোগের চিকিৎসা। ডিজিটাল ব্যানার ও চটকতার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের নামে ভিজিটিং কার্ড ও প্যাড ছাপিয়ে আইন অমান্য করছেন অহরহ। নামের আগে পদবী লিখছেন "ডাক্তার"।
তাদের ভুল চিকিৎসায় মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রিপশনের কারণে হরহামেশাই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। ডাক্তার রূপধারী এই পল্লী চিকিৎসকদের উপর প্রশাসনের নজর বা নিয়ন্ত্রণ কোনটাই নেই বললেই চলে। এই কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সেবা নিতে আসা শহর ও গ্রামের অসংখ্য মানুষ এবং অসহায় রোগীরা।
জানা যায়, আরএমপি, ডিএমএফ ও এলএমএএফ কোর্স করে নামের আগে 'ডাক্তার' লিখে রোগী দেখলেও এই পল্লী চিকিৎসকদের রোগী দেখার আইনগত অনুমোদন বা যোগ্যতা কোনটাই নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানা গেছে এই সমস্ত চিকিৎসকদের অনেকেই ন্যূনতম এসএসসিও পাস করেননি।
সাধারণত রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান এবং জটিল-স্পর্শকাতর রোগীদের বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে প্রেরণের নিয়ম। অথচ তারা করছেন ঠিক এর উল্টো। চিকিৎসার নামে সাধারণ-জটিল সকল রোগের অপচিকিৎসা দিয়ে চলছেন। তারা অসহায় রোগীদের ব্যবহার করছেন গিনিপিগের মতো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাক্তার রূপধারী এই সমস্ত পল্লী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিনকে দিন বেড়েই চলছে। মহানগরের তুলনায় গ্রাম-গঞ্জে ও উপজেলা শহর এলাকায় এদের দৌরাত্ম্য তুলনামূলকভাবে বেশি। চটকদার সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে নিজেদের নামের আগে 'ডাক্তার' উপাধি আর ডিপ্লোমা, প্যারামেডিক, এলএমএএফ, ডিএইসএস, শিশু বিশেষজ্ঞ , কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার' এর মতো নামে ভারী শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপচিকিৎসা-বাণিজ্য চালাচ্ছেন এরা। চেম্বার খুলে সাইনবোর্ডে নামের সঙ্গে 'ডাক্তার' উপাধি ও ডিগ্রির বহর যোগ করে এভাবেই প্রতারণা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, পল্লী চিকিৎসকদের কাছে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন ।রোগের প্রাথমিক অবস্থায় তারা উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছেন। সামান্য অসুখেও তারা উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে রোগীরা আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল রোগে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকাসহ আশেপাশের জেলা শহর ও গ্রাম-গঞ্জে শত শত লাইসেন্সবিহীন ডাক্তার নামধারীরা চেম্বার খুলে জাঁকিয়ে বসেছেন।
মাঝেমধ্যে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় অভিযানে গ্রেফতার ও জরিমানার শাস্তির কয়েক মাস পর আবার পুনরায় অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনের এই অবৈধ পন্থায় ফিরে আসে।
গত ২০২১ সনের ১৯শে নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে এমবিবিএস এবং বিডিএস পাশ ছাড়া "ডাক্তার" পদবী অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না।
কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায় ঢাকা শহরের গেন্ডারিয়া এলাকার ইফতেখার আহমেদ সুমন "ইনসাফ ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী" এলএমএফ, ডিএমপি, আরএমপি, এমসিএইচ কোর্স করে সম্পূর্ণরূপে অবৈধভাবে নিয়ম বহির্ভূত নিজের নামের আগে "ডাঃ" লিখে রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য করে আসছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ অনেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবী তুলেছেন অনতিবিলম্বে এই সকল ভন্ড প্রতারক ভূয়া ডাক্তারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.